‘ভেঙে পড়ছে’ ইসরায়েলি বাহিনী হামলার তীব্রতা বাড়াচ্ছে ইরান

* ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা আরও ১০ দিন স্থগিত রাখার ঘোষণা ট্রাম্পের * মার্কিন ও ইসরায়েলি ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে হামলা অব্যাহত * সৌদি আরবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ * ‘মার্কিন সেনাদের আশ্রয়স্থল হোটেল টার্গেট হতে পারে’ * লোকজনকে দ্রুত মার্কিন ঘাঁটি সংলগ্ন এলাকা ছাড়তে বলল ইরান * যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মিত্রদের জাহাজও হরমুজ দিয়ে পার হতে দেবে না তেহরান

প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আলোকিত ডেস্ক

ইরান যুদ্ধকে ঘিরে বেশ বেকায়দায় পড়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। যৌথ হামলার প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এরপরই প্রণালি খোলা রাখার জন্য মিত্রদের সাহায্য চায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মিত্ররা ট্রাম্পের মুখে ওপর না করে দিয়ে বলেছে, তারা যুদ্ধে জড়াবে না। এতে ভেঙে পড়ে ইসরায়েলি

বাহিনী, হামলার তীব্রতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ইরান। ইতোমধ্যে ইসরায়েলি বেশ কয়েকটি হামলা করেছে দেশটি। হরমুজের নিরাপত্তা প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র একাই নিশ্চিত করতে চেয়েছিল। তবে এই অবস্থান থেকে সরে মিত্রদের কাছে সহায়তা চেয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে মিত্ররা তার আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা আরও ১০ দিন স্থগিত রাখার ঘোষণা ট্রাম্পের: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মধ্যে ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা আরও ১০ দিন স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন তিনি।

পোস্টে তিনি লেখেন, ইরান সরকারের অনুরোধে দেশটির জ্বালানি স্থাপনায় হামলা আরও ১০ দিন পিছিয়ে ৬ এপ্রিল (সোমবার) রাত ৮টা পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প বলেছেন, ইরান তার কাছে জ্বালানি স্থাপনায় ৭ দিন হামলা বন্ধের জন্য বললেও তিনি তাদের ১০ দিন দিয়েছেন এবং এজন্য ইরান তার প্রতি ‘অনেক কৃতজ্ঞ’।

বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, ফক্স নিউজের সঙ্গে ফোনে আলাপকালে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার আলোচনা ভালোই চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তারা আমার লোকের মাধ্যমে আমাকে বলেছে, আমরা কি আরও সময় পেতে পারি? তারা সাত দিন সময় চেয়েছে। আমি বলেছি, আমি তোমাদের ১০ দিন দিচ্ছি। কারণ তারা আমাকে জাহাজ পারাপারের সুযোগ দিয়েছে। আমরা ৮টি জাহাজের ব্যাপারে কথা বলেছি, এটাই সেই উপহার যার কথা আমি আগের দিন বলেছিলাম। ইরানের কাছ থেকে উপহার পাওয়া প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপহার হিসেবে ১০টি জাহাজ পারাপারের অনুমতি দিয়েছে ইরান। তিনি এ সময় জানান, ইরান দেখাতে চাইছিল যে তারা স্পষ্ট এবং নীতিবান। বর্তমানে ৮টি জাহাজ যাচ্ছে এবং পরবর্তীতে আরও দুটি জাহাজ যোগ হবে।

সোমবার ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় ৫ দিন হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেও পরে তিনি তা ১০ দিন করেন। ক্যাবিনেট মিটিংয়ে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানান, আমেরকিা ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি শান্তি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গিয়েছিল। ট্রাম্পের এমন ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই তা আবার কমে গেছে। এর আগে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব, এ বিষয়ে ‘সিরিয়াস’ হওয়া ভালো। কারণ সময় শেষ হয়ে গেলে সেখান থেকে আর ফিরে আসার সুযোগ থাকবে না এবং তার পরিণতিও ভালো হবে না। এর আগে গত সোমবার ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন যে শুক্রবার পর্যন্ত ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ রাখবে মার্কিন বাহিনী। সে হিসাবে আগামীকাল পর্যন্ত স্থাপনাগুলোয় হামলা বন্ধ থাকার কথা ছিল।

ইসরায়েলি বাহিনী ‘ভেঙে পড়া’ নিয়ে সতর্কবার্তা সেনাপ্রধানের : ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মধ্যেই নিজেদের বাহিনী ‘ভেঙে পড়া’ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইসরায়েলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামির। ইরানের পাশাপাশি লেবাননের সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করছে দখলদার দেশটির বাহিনী। আর তাতেই দেখা দিয়েছে সেনাসংকট। ইসরায়েলের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত বুধবার ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইয়াল জামির। সেখানে তিনি বলেন, আমি আপনাদের সামনে ১০টি বিপদের কথা তুলে ধরছি। তার মধ্যে একটি হলো- সেনা সংকটের কারণে খুব শিগগিরই সেনাবাহিনী সাধারণ অভিযান চালাতেও অক্ষম হয়ে পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে কিছু সুপারিশও তুলে ধরেন ইসরায়েলি সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর জন্য সেনা নিয়োগ আইন, সাবেক সেনাদের দায়িত্বে ফেরানো-সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন ও সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলকভাবে দায়িত্বের সময়সীমা বাড়ানো-সংক্রান্ত আইন প্রণয়ণ করতে হবে।

মার্কিন ও ইসরায়েলি ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে ইরানের বিধ্বংসী হামলা অব্যাহত: ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থানগুলোতে ‘সত্য-প্রতিশ্রুতি-৪’ শীর্ষক প্রতিশোধমূলক অভিযানের ৮৩ তম পর্বের হামলাগুলো চালিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পরিচালিত এই অভিযানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বেশ কিছু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে ইরানের এক ঝাঁক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন।

এইসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে এশদুদ অঞ্চলে ইসরায়েলি জ্বালানী ট্যাংকার ও ডিপো, মুদয়িন নামের অবৈধ ইহুদিবাদী বসতি এলাকায় শিশু-ঘাতক সন্ত্রাসী ইসরায়েলি সেনাদের সমাবেশ-স্থল, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক তথ্য আদান-প্রদান কেন্দ্র, আয্?যাফরা ও মার্কিন সন্ত্রাসী সেনাদের আলআদিরি নামক সামরিক ঘাঁটি, সামরিক পরিবহন বিমানের হ্যাঙ্গার ও মেরামত-কেন্দ্র, আলী আসসালেম ঘাঁটিতে থাকা ড্রোন-স্কোয়াড, শেখ ঈসা ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সামরিক ও জঙ্গিবিমানগুলোর তেল-ডিপো, প্যাট্রিওট সিস্টেমের হ্যাঙ্গার, সংরক্ষণ ও মেরামত-কেন্দ্র ইত্যাদি। এইসব ঘাঁটি ও স্থাপনায় সফলভাবে ধ্বংসাত্মক আঘাত হানে ইরানের হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো।

পারস্য-উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘থাড’ (ঞঐঅঅউ) নামক ৫টি বিমান-প্রতিরক্ষা ও রাডার-ব্যবস্থার সবগুলোই ইরানি হামলায় হয় ধ্বংস হয়ে গেছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে ইহুদিবাদী ইসরায়েলেরও বিমান-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা এসবের বেশিরভাগই ধ্বংস হয়ে গেছে ইরানি হামলায় এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বাধা দেয়ার কাজে ব্যবহারযোগ্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যাও খুব কমে যাওয়ায় ইসরায়েলি আকাশ এখন প্রায় পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। ফলে প্রতি দশটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এখন অন্তত ৮টিই লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হানছে বলে ইসরায়েলি কোনো কোনো সূত্র খবর দিয়েছে।

চব্বিশ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হাসপাতালগুলোতে অন্তত ১৯৪ আহতকে ভর্তি : ইহুদিবাদী ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হাসপাতালগুলোতে নতুন করে ১৯৪ জনেরও বেশি আহত ব্যক্তিদের ভর্তি করা হয়েছে। ইসরায়েলি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিহতদের সংখ্যা সম্পর্কে কোনো কিছু উল্লেখ করেনি। প্রতিশোধমূলক ইরানি হামলাগুলো ছাড়াও লেবাননের হিজবুল্লাহ’র হামলাগুলোতেও হতাহত হচ্ছে অনেক ইসরায়েলি।

রনাঙ্গন থেকে নানা সূত্র জানিয়েছে ইসরায়েলি হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশিত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের প্রতিশোধমূলক পাল্টা হামলায় ৫ হাজার ২২৯ জন ইহুদিবাদী আহত হয়েছে। যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ সম্পর্কে ইসরায়েলের কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইসরায়েলি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আহতদের সংখ্যা সম্পর্কে এই নতুন তথ্য দিল। সম্প্রতি ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি বলেছে, ইসরায়েলের স্মরণে রাখা উচিত আমাদের শহীদ সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী-র. বলেছিলেন, ‘তেলআবিব ও হাইফাকে আমরা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেব’।

সৌদি আরবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ : সৌদি আরবে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলার পর ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এই তথ্য জানিয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর বা আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এ সংবাদ সংস্থা বলেছে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজ্যের পূর্বাঞ্চলে ড্রোন দুটি শনাক্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে। এই অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা রয়েছে ও যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ক্রমাগত এই অঞ্চলটিকে লক্ষ্যবস্তু করে আসছে।

মার্কিন সেনাদের আশ্রয়স্থল হোটেল টার্গেট হতে পারে- আইআরজিসির সতর্কবার্তা : ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জনগণের প্রতি জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, মার্কিন সেনাদের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হোটেলগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হবে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর আশপাশে বসবাসরত মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয় : কাপুরুষ মার্কিন-ইসরাইলি বাহিনী, যাদের নিজেদের সামরিক ঘাঁটি রক্ষার সাহস ও সামর্থ্য নেই, তারা ইসলামের যোদ্ধাদের ভয়ে নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিকদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। যেহেতু ইরানি বেসামরিক নাগরিকদের নির্দ্বিধায় হত্যাকারী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তুকারী মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীকে আমরা যেখানেই পাই সেখানেই ধ্বংস করা আমাদের কর্তব্য। আমরা আপনাদের পরামর্শ দিচ্ছি যে, ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে যেখানে মার্কিন বাহিনী অবস্থান করছে, সেই এলাকা অবিলম্বে ত্যাগ করুন। এদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আবুল ফজল শেকারচি বলেছেন, যখন মার্কিন সেনা কোনো হোটেলে প্রবেশ করে, তখন আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে সেই হোটেলটি আমেরিকার হয়ে যায়। আমরা শুধু দাঁড়িয়ে থেকে আমেরিকাকে আমাদের উপর আঘাত হানতে দেব না। তারা যেখানেই থাকুক না কেন, আমাদেরও আঘাত হানতে হবে।

এর আগে, এর আগে, বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি মার্কিন সৈন্যদের বিরুদ্ধে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) দেশগুলোর জনগণকে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ করেছেন। এক্স পোস্টে তিনি লিখেছেন, এই যুদ্ধের শুরু থেকেই, মার্কিন সেনারা জিসিসি-ভিত্তিক সামরিক ঘাঁটি ছেড়ে হোটেল ও অফিসে আশ্রয় নিয়েছে। তারা জিসিসির নাগরিকদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হোটেলগুলো এমন কর্মকর্তাদের বুকিং বাতিল করে যারা অতিথিদের বিপদে ফেলতে পারে। জিসিসির হোটেলগুলোরও একই কাজ করা উচিত।

লোকজনকে দ্রুত মার্কিন ঘাঁটি সংলগ্ন এলাকাগুলো ছাড়তে বলল ইরানের বিপ্লবী গার্ড : মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাধারণ জনগণকে দ্রুত মার্কিন ঘাঁটি সংলগ্ন এলাকা থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে- মার্কিন সেনাদের ‘যেখানেই পাওয়া যাবে’, সেখানেই তাদের ওপর হামলা চালানো আইআরজিসির ‘পবিত্র দায়িত্ব’। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জনগণকে আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আমরা আপনাদের জোরালো পরামর্শ দিচ্ছি যে, যেখানে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন রয়েছে, সেসব এলাকা আপনারা দ্রুত ত্যাগ করুন, যাতে আপনাদের কোনো ক্ষতি না হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মিত্রদের জাহাজও হরমুজ দিয়ে পার হতে দেবে না ইরান : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজ ছাড়াও তাদের মিত্রদের জাহাজও হরমুজ প্রণালী দিয়ে পার হতে পারবে না বলে জানিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড। গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে বাহিনীটি বলেছে, শুক্রবার তিনটি ভিন্ন দেশের জাহাজ হরমুজ পার হতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের সতর্কতার পর এসব জাহাজ আবার ফিরে গেছে। বিপ্লবী গার্ড বলেছে, শত্রু ও তাদের মিত্রদের কোনো জাহাজ যদি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার চেষ্টা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিবৃতিতে বিপ্লবী গার্ড বলেছে, ভিন্ন দেশের তিনটি মালবাহী জাহাজ নির্দিষ্ট পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ সেনাদের কড়া বাধার মুখে তারা ফিরে যেতে বাধ্য হয়। হরমুজ প্রণালী এখন পুরোপুরি বন্ধ। এর ভেতর দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বন্ধু রাষ্ট্র বা যারা তাদের সমর্থন দেয়, তাদের কোনো বন্দরেই কোনো জাহাজ আসা-যাওয়া করতে পারবে না। তাদের জাহাজের যে কোনো গন্তব্য বা যেকোনো পথ ব্যবহার করাই এখন নিষিদ্ধ।

নিজেদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টিতে শত্রুদের যেন মুসলিম দেশগুলো আশকারা না দেয়- পেজেশকিয়ান : ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তার দেশের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের আগ্রাসনের সময় মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভক্তি এবং যুদ্ধের আগুন জ্বালাতে শত্রুদের আশকারা দেওয়া উচিত নয়।

পার্সটুডের মতে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে টেলিফোনালাপে তার দেশের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইহুদিবাদী ইসরায়েলের হামলার পরে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সম্পর্কে মতামত বিনিময় করেছেন। এই টেলিফোনালাপে পেজেশকিয়ান এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য ইরানের পদক্ষেপকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার উৎসের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া বলে অভিহিত করে বলেছেন, মুসলিম দেশগুলো শত্রুদের এই বিষয়টিকে অপব্যবহার করতে দেওয়া উচিত নয় এবং এই অঞ্চলে যুদ্ধের আগুন জ্বালাতে দেয়া উচিত নয়।

ইরান কখনই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করেনি এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার অসংখ্য প্রতিবেদন এই সত্যকে নিশ্চিত করেছে বলে জোর দিয়ে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান এবং এর আঞ্চলিক অখণ্ডতার উপর হামলার ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের দাবিকে শত্রুরা অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে।

প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ও শান্তি তৈরি করছি এবং আমরা আশা করি যে ভ্রাতৃ ও মুসলিম দেশগুলোর সহায়তায় আমরা এই অঞ্চলটিকে শত্রুরা যে বিপর্যয় চাইছে তা থেকে বাঁচাতে সক্ষম হব। টেলিফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ইরানি জাতির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন বিশেষ করে আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের আগ্রাসনে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীসহ দেশের উচ্চ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তা, বেসামরিক নাগরিক এবং মেয়ে শিক্ষার্থী শহীদ হওয়ায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ইরানের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং এর আঞ্চলিক অখন্ডতার প্রতি মালয়েশিয়ার দৃঢ় সমর্থনের কথা পুর্নব্যক্ত করে এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজার স্থলসেনা পাঠানোর কথা ভাবছেন ট্রাম্প : মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অপরদিকে যুদ্ধে তাকে আরও সামরিক বিকল্প দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। এর অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ১০ হাজার পর্যন্ত স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে। এতে পেন্টাগনের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত আছেন—এমন কর্মকর্তাদের বরাতে উল্লেখ করা হয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো সম্ভাব্য এই বাহিনীতে পদাতিক সেনা ও সাঁজোয়া যান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা। ওয়াশিংটন এরই মধ্যে মার্কিন বাহিনীর ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ৫ হাজার মেরিন সেনা ও প্রায় ২ হাজার প্যারাট্রুপারকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। এখন ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবর অনুযায়ী আরও প্রায় ১০ হাজার সেনা তাদের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

চুক্তির জন্য মরিয়া ইরান, আমি নই- ট্রাম্প : যুদ্ধ থামাতে চুক্তির জন্য ইরান মরিয়া হয়ে আছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়া প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, আমরা সেটা করতে পারব কি না, আমি জানি না। আমরা সেটা করতে ইচ্ছুক কি না, তাও জানি না। তিনি বলেন, চুক্তি করতে তারাই (ইরান) মরিয়া, আমি নই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনায় ইরান যে আন্তরিক—তা দেখাতে দেশটি কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১০টি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। এগুলো তারা দিয়েছে উপহার হিসেবে। তিনি আরও বলেন, ইরান প্রথমে এই সপ্তাহে আটটি বড় তেলবাহী জাহাজকে প্রণালি দিয়ে যেতে দেয়। পরে আরও দুটি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। এসব ট্যাংকারের মধ্যে কিছু পাকিস্তানের পতাকাবাহী জাহাজও ছিল।