যে বাহিনীর পোশাকেই হোক অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে হামলাকারীরা অপরাধী

প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থাকারীদের বিরুদ্ধে যারা সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে, তারা যে বাহিনীর পোশাকেই হোক, অপরাধী। তাদের বিরুদ্ধে সব মামলার সুষ্ঠু তদন্ত হবে। এ ছাড়া জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে আলাদা দুটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে, জুলাই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে, সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে যারা সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে, সেটা যে বাহিনীর ড্রেসেই (পোশাক) হোক এবং আওয়ামী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, যুবলীগ, ছাত্রলীগ যারা যে বাহিনীর ড্রেসই পরুক, তারা সবাই অপরাধী। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। না হলে আপনারা দায়ের করবেন এবং সকল মামলার সুষ্ঠু তদন্ত হবে। বিচার করার দায়িত্ব বিচার বিভাগের।’

সম্পূরক প্রশ্নে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, ১৬ বছর ধরে পুলিশ বাহিনীর ভেতর থেকে, অর্থাৎ আইন অমান্য করে পুলিশ যা কিছু করেছে, বিশেষত জুলাইয়ে পুলিশ বাহিনীর অনেকেই আছেন, যাঁরা খুবই স্বপ্রণোদিত হয়ে নানা ধরনের হত্যাযজ্ঞে অংশগ্রহণ করেছেন, মানুষের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন করেছেন। সেই বিষয়গুলোতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত বা কার্যক্রমের বাইরে এসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার বিভাগীয় কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কি না? তিনি আরও বলেন, এ মুহূর্তে আওয়ামী লীগের তরফ থেকে ‘পুলিশ হত্যা’ নামের একটা ফ্রেম ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হচ্ছে, সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ আছে কি না?

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের আইনি এবং সাংবিধানিক সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে তাঁরা ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষায় অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, যা সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই অধ্যাদেশ বিল আকারে পাস করার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী সোশ্যাল মিডিয়ায় যে সমস্ত হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি করছে, সেই বিষয়ে আমি আগেও বলেছি—তাহলে তো মুক্তিযোদ্ধাদেরও বিচার করা হবে রাজাকার হত্যার কারণে, যদি এখন কেউ মামলা নিয়ে আসে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় যারা হানাদার বাহিনীর মতো আন্দোলনকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে গণহত্যা চালিয়েছে, তারা জনতার প্রতিরোধের মুখে কেউ কেউ হয়তো প্রাণ হারিয়েছে, কেউ আহত হয়েছে, কিন্তু সেটা যুদ্ধের ময়দানে ফয়সালা হয়ে গেছে। সেখানে জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, পুলিশের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট মামলা করা হয়েছে। কিছু মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এবং কিছু সাধারণ পেনাল কোডের অধীন আদালতে আছে। সেগুলোর তদন্ত হচ্ছে, কিছু চার্জশিটও (অভিযোগপত্র) হয়েছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এবং তাঁর সহযোগী সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দু-একটা মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে। সেগুলো সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে। আদালত স্বাধীনভাবে তার বিচার পরিচালনা করবে, সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। দেশের সব গুম, খুন, হত্যাকাণ্ড ও গণহত্যার বিচার হবেই।

মামলা প্রত্যাহার

বিএনপির সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কিছু রাজনৈতিক ও গায়েবি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। বিএনপি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কাজ হিসেবে কিছু মামলা প্রত্যাহার করে। সরকারি দল, বিরোধী দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা কিছু মামলা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যাচাই-বাছাই করে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি দায়িত্ব নেওয়ার পর জেলা পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যেসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল, সেই মামলাগুলো প্রত্যাহারের জন্য ওই কমিটির কাছে আবেদন করা যাবে। কমিটি বাছাই করে সেটি মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। এরপর আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত কমিটি যে পরামর্শ দেবে, সেই মতে সিআরপিসি ৪৯৪ অনুসারে মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা এক সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, হেফাজতে নির্যাতনের কালচার (সংস্কৃতি) ছিল। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেখা গেল ‘মব কালচার’। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ২৫০-৩০০–এর ওপর মানুষ এই মবের খপ্পরে পড়ে নিহত হয়েছেন। তিনি নিজেও গত ফেব্রুয়ারিতে মবের শিকার হন। তিনি জানতে চান, এই খারাপ সংস্কৃতি বন্ধ করতে সরকার কী ব্যবস্থা নেবে?

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পরিসংখ্যান তাঁর কাছে নেই। তবে তাঁরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মবের মতো ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও বলেন, সবকিছুকে ‘মব’ বলা ঠিক হবে না। এখানে সংজ্ঞায়ন আলাদা করতে হবে। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় হামলা, ২১ ফেব্রুয়ারিতে সংসদ সদস্যের (রুমিন ফারহানা) ওপর হামলা কিংবা উত্তরায় দোকানপাট বন্ধ করা—সেগুলো কি মব হবে? সবকিছুকে এক বলা যাবে না। কিছু আছে সংগঠিত পরিকল্পিত অপরাধ, যার বিরুদ্ধে মামলা ও তদন্ত হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তবে স্পষ্ট কথা—বাংলাদেশে কোনো রকম মব কালচার আর থাকবে না। রাস্তায় কোনো দাবি নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে দাবি আদায়ের যে প্রবণতা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেখা গেছে, সেটাকে আমরা আর কখনো অ্যালাউ (অনুমোদন) করব না। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দাবি থাকবে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো যাবে, সেমিনার বা জনসমাবেশ করা যাবে; কিন্তু সড়ক অবরোধ করে দাবি আদায়ের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ) সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, পুলিশের তৃণমূলের সদস্যদের যখন তদন্ত করতে পাঠানো হয়, কোনো খরচ থানা থেকে দেওয়া হয় না। যেটা দেওয়া হয়, সেটা খুবই অপ্রতুল। এ জন্য পুলিশের একটা সংস্কৃতি প্রচলিত রয়েছে, ‘ম্যানেজ করে নাও।’ এই ম্যানেজ করতে গিয়ে পুলিশ দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে যে বাজেট দেওয়া হয়, তা খরচের চেয়ে কম হওয়ার কারণে ব্যবসায়ী বা এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত মানুষের কাছ থেকে অর্থ ওঠাতে হয়। হাসনাত তাঁর প্রশ্নে জানতে চান, পুলিশকে তাদের রুটিন দায়িত্বগুলো পালনে যথাযথ বরাদ্দ দেওয়া হবে কি না?

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীকে আরও বেশি কর্মক্ষম ও দুর্নীতিমুক্ত রাখার জন্য যথাযথ বাজেট দেওয়ার বিষয়ে তিনি আগামী অধিবেশনে প্রস্তাব রাখবেন। এটা সত্য যে পুলিশের যে পরিমাণ রিসোর্স বা বাজেট দরকার, দেশের অর্থনীতি হয়তো তা দিতে পুরোপুরি সক্ষম নয়। তবে সরকার একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পুলিশের ব্যবস্থা কায়েম করতে চায়, যাতে পুলিশ ‘ম্যানেজ করার কালচার’ থেকে বেরিয়ে আসে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

পুলিশকে ‘ম্যানেজ করে নাও’ সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে - সংসদে হাসনাত আব্দুল্লাহ : পুলিশকে দায়িত্ব দিয়ে যথাযথ বাজেট না দেওয়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রে ‘ম্যানেজ করে নাও’ সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে মন্তব্য করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, পুলিশের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত বাজেট নিশ্চিত করা না হলে দুর্নীতির ঝুঁকি থেকে যায়।

গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে পুলিশের অনেক বাস্তব সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে কোনো তদন্তে পুলিশকে পাঠানো হলে অনেক সময় সেই তদন্তের খরচ থানার পক্ষ থেকে দেওয়া হয় না কিংবা যা দেওয়া হয় তা খুবই অপ্রতুল।

তিনি বলেন, আমরা যখন পুলিশকে একটি কাজ করতে দিচ্ছি কিন্তু সেই কাজের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট দিচ্ছি না, তখন পুলিশের মধ্যে একটি সংস্কৃতি তৈরি হয় ‘ম্যানেজ করে নাও’। আর এই ম্যানেজ করতে গিয়ে অনেক সময় তারা অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ উদাহরণ দিয়ে বলেন, সম্প্রতি ২৬ মার্চের কর্মসূচি আয়োজনের সময় প্রশাসনকে যে বাজেট দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে ব্যয় তার চেয়ে বেশি হয়েছে। এতে অনেক সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী বা এলাকার প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে হয়।

তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, পুলিশের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যথাযথ বাজেট দেওয়া হবে কি না, যেন তারা কোনো ধরনের ‘ম্যানেজ কালচার’ এ যেতে বাধ্য না হন।

এ সময় সংসদে সম্বোধনের ক্ষেত্রে কোনো ভুল হয়ে থাকলে তা স্বীকার করে তরুণ এই সংসদ সদস্য বলেন, এই সংসদে আমি এসেছি ২৭ বছর বয়সে। আর মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে এসেছেন ১৯৯১ সালে। আমি জন্ম নিয়েছি ১৯৯৮ সালে। তাই কনভেনশনাল কোনো ভুল হয়ে থাকলে আমরা তা সংশোধন করতে প্রস্তুত।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদে সবাইকে সংসদীয় নিয়ম মেনে একে অপরকে সম্বোধন করতে হবে। তিনি বলেন, ‘বয়স যাই হোক, সংসদ সদস্য হিসেবে যথাযথভাবে সম্বোধন করতে হবে।’ তিনি বলেন, সংসদে আসাটা একটি গৌরবের বিষয় এবং তরুণ সংসদ সদস্যদের জন্য তিনি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

পুলিশের বাজেট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের কার্যক্রম আরও দক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে বাজেট বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। তিনি জানান, আগামী বাজেট অধিবেশনে পুলিশের বাজেট বৃদ্ধির জন্য অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব দেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, এটা সত্য যে পুলিশের যে পরিমাণ রিসোর্স ও বাজেট দরকার, আমাদের অর্থনীতি অনেক সময় সেই পরিমাণ দিতে পারে না। তবে আমরা যদি একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, তাহলে তাদের ‘ম্যানেজ করার’ সংস্কৃতি থেকে বের করে আনতে হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে ৫ বাংলাদেশি নিহত, ইরান থেকে নিরাপদে ফিরেছেন ১৮৬ জন : মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত পাঁচজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের মরদেহ দেশে ফেরত আনা হয়েছে? পাশাপাশি যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরান থেকে ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে এনেছে সরকার। গতকাল সোমবার বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রথম থেকে বলে আসছি যখন এই যুদ্ধটা লেগেছে বাংলাদেশ সরকারের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে বাংলাদেশি যারা মধ্যপ্রাচ্যে বসবাস করছে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সে লক্ষ্যে আমাদের মিশনগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। আমরা দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের পাঁচজন বাংলাদেশিকে হারিয়েছি। তাদের মধ্যে দুজনের মরদেহ দেশে ফেরাতে পেরেছি।

তিনি বলেন, এখন সিচুয়েশনটা বুঝতে হবে মধ্যপ্রাচ্যে অনেক কমপ্লিকেটেড সিচুয়েশন বিরাজ করছে। কখন কোথায় যুদ্ধ লাগে, আমাদের বাংলাদেশিরা নিজেরাও বুঝতে পারে না। ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে আমরা নিরাপদে চার্টার্ড বিমান ফ্লাইটের মাধ্যমে তেহরান থেকে দেশে ফেরত এনেছি।

‘বাংলাদেশি নাগরিকরা পৃথিবীর যে যেখানে আছে নিরাপদে আছে কি না সেটা দেখা আমাদের অবশ্যই অন্যতম প্রায়োরিটি।’

দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, জ্বালানির কোনো সংকট বর্তমানে বাংলাদেশে নেই। আমরা যেন মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও অন্য সোর্স থেকে জ্বালানি নিয়ে আসতে পারি সেজন্য এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার আমাদের সঙ্গে বসেছেন। জ্বালানি মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে উনি বসেছেন।

‘মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও যেসব সোর্স থেকে জ্বালানি আনা যেতে পারে সে ব্যাপারে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ্, আমরা সফল হবো’বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

আগের সরকারের ১৩০০ প্রকল্প পর্যালোচনা হচ্ছে : অপচয় ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় আগের সরকারের নেওয়া এক হাজার ৩০০ প্রকল্প রিভিউ (পর্যালোচনা) করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি জানান, এসব প্রকল্পের মধ্যে ৫০০টিরও বেশি এখনো ১০ শতাংশ বাস্তবায়ন পর্যায়ে পৌঁছায়নি। আর নতুন সরকার যে প্রকল্পগুলো নিচ্ছে তার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা এবং গ্রামীণ মানুষের জীবনের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

দিনাজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান মিয়ার তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, এক হাজার ৩০০ প্রকল্প রিভিউ করছি। অনেকগুলো প্রকল্পের মধ্যে এখানে অপচয়, দুর্নীতির ইস্যু রয়েছে। এ জন্য এক হাজার ৩০০ প্রকল্প রিভিউয়ের আওতায় আছে। আমি যেটা বললাম এর মধ্যে পাঁচ শতাধিক প্রকল্প এখনো ১০ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়নি। সুতরাং এটা আমরা যেটা রেকর্ড আমি সেখান থেকে করলাম। আর যেহেতু এটা বিগতদিনের সরকারগুলোর প্রকল্প এগুলো নিয়ে আমার এর বেশি বলার কোনো সুযোগ নাই।

তিনি বলেন, আমরা যে প্রকল্পগুলো এখন গ্রহণ করছি সেগুলোর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা। গ্রামীণ মানুষের জীবনের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা। যদি গ্রামের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে হয় গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রার মান যদি উন্নয়ন করতে হয়, তাহলে আমাদের প্রথম প্রায়োরিটি হবে গ্রামীণ অবকাঠামগুলো উন্নয়ন। এ জন্য আমি আশা করি আগামী দিনে আপনাদেরকে আরো বেশি ভালো খবর, সুখবর এই সরকারের পক্ষ থেকে দিতে পারবো।