জ্বলছে ইসরায়েলের রাসায়নিক কারখানা ও তেল শোধনাগার
* রাডার বিমান ধ্বংস, মধ্যপ্রাচ্যে নজরদারি সংকটে যুক্তরাষ্ট্র * ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভিক্টরি বেস’ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা * ইরানের হামলায় কুয়েতের ১০ সেনা আহত * নিজের ঘরের বিক্ষোভে নজর দিন, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের প্রেসিডেন্ট * ইরানের তেল চান ট্রাম্প * তেলের ঘাটতির ঝুঁকিতে ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্রও * যুদ্ধ থামাতে ইসলামাবাদে বৈঠক
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আলোকিত ডেস্ক

ইসরায়েলের বিরশেবায় নিওত হোভাব শিল্পাঞ্চলে ইরানের হামলায় বিপজ্জনক রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। তাই এর কাছাকাছি বসবাসকারী বাসিন্দাদের বাড়ির ভেতরে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। নিওত হোভাব শিল্পাঞ্চল এলাকাটি ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বিরশেবা থেকে মাত্র ৪ মাইল দূরে অবস্থিত। ইসরায়েলি সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নিওত হোভাব এলাকার বাসিন্দাদের ঘরে থাকতে এবং তাদের জানালা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। কারণ কারখানায় বিপজ্জনক উপকরণ রয়েছে, সেটা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরানের হামলায় ইসরায়েলের তেল শোধনাগারে আগুন : ইরানের হামলায় ইসরায়েলের হাইফায় একটি তেল শোধনাগারে আগুন লেগেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো এ কথা জানিয়েছে। খবরে বলা হয়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফায় বাজান তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায়। এর আগে ১৯ মার্চ ইরান ওই স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল।
মার্কিন রাডার বিমান ধ্বংস, মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের নজরদারি সংকটে যুক্তরাষ্ট্র : সৌদি আরবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ রাডার বিমান ধ্বংস হওয়ার ফলে দূর থেকে ইরানের হুমকি শনাক্ত করার মার্কিন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকেরা। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএনের বিশ্লেষণ করা ছবিতে দেখা গেছে, ধ্বংস হওয়া বিমানটির লেজ ভেঙে গেছে এবং এর ওপর থাকা বিশেষ গোলাকার রাডারটি মাটিতে পড়ে আছে। আকাশপথের আগাম সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এডব্লিউএসিএস)–এর এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ এ রাডার। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। সিএনএনের সামরিক বিশ্লেষক ও সাবেক মার্কিন কর্নেল সেড্রিক লেইটন বলেন, এ বিশেষ রাডার বিমান ধ্বংস হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি সক্ষমতার জন্য একটি বড় আঘাত। এর ফলে মার্কিন যুদ্ধবিমান নিয়ন্ত্রণ করা এবং শত্রুবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রের হাত থেকে সেগুলো রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
এ রাডার বিমানগুলো দশকের পর দশক ধরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করছে। এটি আকাশ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার বর্গমাইল এলাকাজুড়ে নজরদারি চালাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন ১৭টি বিমান রয়েছে, যা তাদের জন্য এক বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। সপ্তাহান্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধ্বংস হওয়া বিমানটির ছবি ছড়িয়ে পড়ে। স্যাটেলাইট ছবির সঙ্গে মিলিয়ে সিএনএন নিশ্চিত করেছে যে হামলাটি সৌদি আরবের ওই বিমানঘাঁটিতেই হয়েছে। সিএনএনের আগের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, এ হামলায় অন্তত ১০ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। তবে কেউ মারা যাননি। সূত্র: সিএনএন
ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভিক্টরি বেস’ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা, উড়োজাহাজে আগুন : ইরাকের রাজধানী বাগদাদে আজ সোমবার ভোরের দিকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এগুলো ড্রোন নয়, বরং বাগদাদ থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত মার্কিন ‘ভিক্টরি বেস’ ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোড়া রকেটের শব্দ। জানা গেছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এ রকেটগুলো ঠেকাতে পারেনি। রকেটগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ইরাকি স্পেশাল ফোর্সের একটি ‘এ৩২০বি’ পরিবহন উড়োজাহাজে আঘাত করলে সেটিতে আগুন ধরে যায়। এই প্রথমবারের মতো মার্কিন ভিক্টরি ঘাঁটি সরাসরি হামলার শিকার হলো। তবে বর্তমানে সেখানে কোনো মার্কিন সেনা নেই। তাঁরা আগেই এ সামরিক ঘাঁটি খালি করে চলে গেছেন। এ হামলা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রতীকী। কারণ, ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের চূড়ান্ত সময়ে এ এলাকাটিকে দেশটির সবচেয়ে নিরাপদ ও সুরক্ষিত স্থান মনে করা হতো। সেই সংরক্ষিত এলাকাটিই এখন হামলার মুখে পড়েছে। এছাড়া রাতভর বাগদাদের আকাশে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোকে চক্কর দিতে দেখা গেছে। তুরস্কের গণমাধ্যম তুর্কি টুডের খবরে বলা হয়, ‘ভিক্টরি বেস’-এ একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে ইরাকের নিরাপত্তা সূত্রগুলো। তবে এই হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।
ইরানের হামলায় কুয়েতের ১০ সেনা আহত : ইরানের হামলায় কুয়েতের ১০ সেনা আহত হয়েছেন। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, কুয়েতের একটি সেনা শিবিরে ইরান হামলা চালিয়েছে। এতে দশ জন সামরিক সদস্য আহত হয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আহত ব্যক্তিরা চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। সেনা শিবিরেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইরান গত ২৪ ঘণ্টায় কুয়েত লক্ষ্য করে ১৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২টি ড্রোন ছুঁড়েছে।
নিজের ঘরের বিক্ষোভে নজর দিন, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের প্রেসিডেন্ট : ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে যখন যুদ্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র, তখন দেশটির মধ্যে ব্যাপক বিক্ষোভ হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। সেই দিকটি দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনকে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার দিকে মনোযোগ ঘোরাতে বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তার মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইসরায়েলপন্থী নীতিকে ঘিরে সে দেশের জনমনে বাড়তে থাকা ক্ষোভ সম্পর্কে দেশটির প্রশাসনের আরও সজাগ হওয়া প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে এক মাস ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মধ্যে গত রোববার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দেন পেজেশকিয়ান। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে গত শনিবারের ‘নো কিংস’ বিক্ষোভের কথা তোলেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, মার্কিন সমাজের একটি অংশ এখন দেশের নীতিনির্ধারণে বাইরের প্রভাব নিয়ে ক্রমে হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। পেজেশকিয়ান এ বিক্ষোভকে মার্কিন সমাজের গভীর অসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। এই বাস্তব পরিস্থিতির কথা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক (এআই) বিশেষজ্ঞদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এআই বিশেষজ্ঞদের উচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানানো যে ‘তার দেশের মানুষ ‘নো কিংস’ বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছে। মার্কিন নাগরিকেরা ‘ইসরায়েলকে অগ্রাধিকার’ দেওয়ার নীতির বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ।’ ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘মার্কিন গণতন্ত্রের ওপর রাজত্ব চালানো ‘ইসরায়েলি রাজাদের’ ব্যাপারে তারা (মার্কিন নাগরিকেরা) ক্লান্ত।’
রাখঢাক না রেখেই ট্রাম্প বললেন, ইরানের তেল চান : ইরানের তেলশিল্পের নিয়ন্ত্রণ নিতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ইরানে তাঁর ‘অগ্রাধিকার হবে তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া’। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদারের প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ কথা বলেন। ট্রাম্প গত রোববার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে সাক্ষাৎকারটি দেন। ইরানের তেলশিল্পের নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে সম্ভাব্য এ পদক্ষেপের সঙ্গে তিনি ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতির তুলনা করেন। যুক্তরাষ্ট্র গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রতাপশালী নেতা নিকোলা মাদুরোকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর দেশটির তেলশিল্পকে ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্পের এ মন্তব্য এমন সময়ে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যকে গভীর সংকটে ফেলেছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। মাত্র এক মাসে তেলের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সোমবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা এই সংঘাত শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চের কাছাকাছি।
ট্রাম্প বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমার সবচেয়ে পছন্দের বিষয় হলো, ইরানের তেল দখল করা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে কিছু বোকা লোক বলে, আপনি এটা করছেন কেন? তারা আসলে বোকা মানুষ।’ ট্রাম্প ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, ‘হয়তো আমরা খারগ দ্বীপ দখল করব, হয়তো করব না। আমাদের হাতে অনেক বিকল্প আছে। এমনও হতে পারে যে সেখানে (খারগ দ্বীপে) আমাদের কিছু সময় অবস্থান করতে হবে।’ খারগ দ্বীপে ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় না যে তাদের তেমন কোনো প্রতিরক্ষা আছে। আমরা খুব সহজেই এটি দখল করতে পারব।’ ইরানের তেলশিল্প দখলের হুমকি দিলেও ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তানি ‘প্রতিনিধিদের’ মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে। ট্রাম্প ইরানকে একটি চুক্তি মেনে নেওয়ার জন্য ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন।
হরমুজ সংকটে তেলের ঘাটতি এশিয়ায়, ঝুঁকিতে ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্রও : বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক জেপিমরগ্যান জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ায় তেলের মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে। ব্যাংকটির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সংকট ধাপে ধাপে বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে এবং প্রথম ধাক্কা এরই মধ্যে এশিয়ায় অনুভূত হচ্ছে। সাধারণত পারস্য উপসাগর থেকে তেলের চালান প্রথমে এশিয়ায় পৌঁছায় ১০ থেকে ২০ দিনের মধ্যে। এরপর তা ইউরোপ ও আফ্রিকায় পৌঁছাতে সময় লাগে ২০ থেকে ৩৫ দিন, এবং সর্বশেষে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায় ৩৫ থেকে ৪৫ দিনে।
প্রথমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। জেপি মরগানের তথ্যানুযায়ী, এ অঞ্চলে তেল রপ্তানি মাসিক হিসাবে প্রায় ৪১ শতাংশ কমে গেছে। ফলে মূল্যবৃদ্ধির চেয়েও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সরাসরি জ্বালানির ঘাটতি। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, এই সংকট শিগগিরই অন্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়বে। আফ্রিকায় এপ্রিলের শুরুতেই প্রভাব পড়তে পারে। এরই মধ্যে কেনিয়ায় খুচরা পর্যায়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, যদিও তানজানিয়ায় এখনো পর্যাপ্ত মজুত ধরে রাখতে পেরেছে। অন্যদিকে ইউরোপ এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে চাপে পড়তে পারে। যদিও বিকল্প উৎস ও মজুত থাকায় তারা কিছুটা সময় পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সবশেষে প্রভাব পড়বে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটির নিজস্ব তেল উৎপাদন থাকায় তাৎক্ষণিক ঘাটতির আশঙ্কা কম, তবে উচ্চমূল্যের চাপ অব্যাহত থাকবে, বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে।
ইরানে যুদ্ধ থামাতে ইসলামাবাদে বৈঠক : আলোচনার আওয়াজ উঠলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরালের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ থামেনি, দুই পক্ষের কেউই হামলা বন্ধ করেনি। এক মাস ধরে চলা এ যুদ্ধে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলো যেমন ভুগছে, তার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও। যুদ্ধ থামানোর জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অবশ্য অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে রোববার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। দুই দিনের এ আলোচনায় তুরস্ক, সৌদি আরব, মিসর ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বৈঠকটি হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সরাসরি আলোচনার দিকে নেওয়ার জন্য সবচেয়ে সমন্বিত আঞ্চলিক প্রচেষ্টা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই আলোচনায় হরমুজ প্রণালিকে জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। গত রোববার ইসলামাবাদে প্রথম দিনের আলোচনা শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, আঞ্চলিকভাবে শক্তিধর দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে চলমান যুদ্ধের দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়েও তারা কথা বলেছেন। বৈঠক শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ৯০ মিনিট ফোনে কথা বলেন। এটি ছিল পাঁচ দিনের মধ্যে তাদের দ্বিতীয় ফোনালাপ। কর্মকর্তারা বলছেন, এই দুই নেতার ফোনালাপের মূল বিষয় ছিল উত্তেজনা কমানো।
আমিরাতে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ইরানের হামলা : ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ড্রোন ব্যবহার করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন সেনা অবস্থান ও রাডার স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, সোমবার ভোররাত পর্যন্ত চালানো এই অভিযানে মূলত এমন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করা হয়েছে, যেগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধ ড্রোন শনাক্ত ও ট্র্যাক করার কাজে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি, যেখানে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছে, সেসব জায়গাও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। ইরানি বাহিনী দাবি করেছে, তাদের ধ্বংসাত্মক ড্রোন এই অভিযানে মার্কিন সেনাদের ঘাঁটিতেও আঘাত হেনেছে।
হরমুজের দায়িত্বে থাকা নৌ-কমান্ডার তাঙসিরির নিহত : গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালির দায়িত্তে থাকা নৌ-কমান্ডার আলীরেজা তাঙসিরির নিহতের তথ্য স্বীকার করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সোমবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য স্বীকার করেছে আইআরজিসি। বলা হয়েছে, ‘তাঙসিরি ইরানের নৌবাহিনীকে সংগঠিত করেছিলেন এবং ইরানের উপকূল ও দ্বীপকে রক্ষা করতে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ঢাল গড়ে তুলেছিলেন। সম্প্রতি এক হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন তিনি।’
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরায়েলের ২৬১ সেনা আহত : ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তাদের ২৬১ জন সেনাসদস্য আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তবে এখন পর্যন্ত কতজন সেনা মারা গেছেন, সেই সংখ্যা প্রকাশ করেনি ইসরায়েল। খবর আল-জাজিরার।
ইয়েমেন থেকে ফের ইসরায়েলে হামলা : ইয়েমেন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো ইসরায়েলের ওপর হামলার খবর জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। ইসরায়েলের দাবি, সোমবার ভোরে ইয়েমেন থেকে ছোড়া দুটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। এই হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথি। গত শনিবার প্রথমবারের মতো এই গোষ্ঠী সরাসরি যুদ্ধে যুক্ত হয়ে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল।
