রাজশাহীতে ৩৩ শিশুর মৃত্যুতে ‘সীমাবদ্ধতার’ কথা বললেন সচিব

* কুমিল্লায় হামের ভয়াবহতা বাড়ছে, চিকিৎসাধীন ৩ শিশুর মৃত্যু * চাঁদপুরে হামে আক্রান্ত ২৮ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি, মৃত্যু ৩ * গাজীপুরে তিনদিনে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ২৭ শিশু * নাটোরে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত অধিকাংশের টিকার বয়স হয়নি * দ্রুত দেশে পৌঁছাবে হামসহ ১০ ধরনের টিকা : স্বাস্থ্য সচিব

প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভেন্টিলেশনের অভাবে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, এখানে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। সেগুলোর ভিত্তিতে আমরা কাজ করছি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, হামের যে প্রাদুর্ভাবের কথা বলা হচ্ছে, তা নিয়ে পত্রিকায় ৩৩ শিশুর মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি প্রতিবেদনও পাওয়া গেছে। তারা বলেছেন- ওই ৩৩ জনের সবাই হামে মারা যায়নি। অনেকেই অন্য জটিলতায় ভুগছিল। তবে প্রতিটি মৃত্যুকেই চিকিৎসার আওতায় আনা দরকার।

কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এটাকে সীমিত প্রাদুর্ভাব বলব। এটা মোকাবিলায় ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ‘আমরা বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে মোকাবিলা করতে এরমধ্যে একটি বিশেষজ্ঞ দল গতকাল সেখানে পাঠিয়েছি। তারা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে।’ তিনি আরও বলেন, জাতীয় পর্যায়ে আমাদের টিকাদান কর্মসূচি প্রণয়নের জন্য একটি টেকনিক্যাল কমিটি রয়েছে। ওই কমিটিকে সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাবের এলাকাগুলো চিহ্নিত করে একটি কারিগরি পরিকল্পনা তৈরি করতে বলা হয়েছে। তারা এরইমধ্যে সেই পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। শিগগির আমরা সচিবালয়ে বসে বিষয়গুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব।

সচিব বলেন, আইডিসিআরকেও গবেষণা করে ব্যর্থতার কারণগুলো বের করতে বলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জেনেছি-করোনাকালে ও পরবর্তী সময়ে কিছু এলাকায় টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। একদিকে স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মবিরতি, অন্যদিকে টিকার সাময়িক সংকট- এসব কারণে অনেক ক্ষেত্রে টিকা নেওয়ার ধারাবাহিকতা ভেঙে যায়। অনেক মা একদিন এসে সেবা না পেয়ে পরে আর ফিরে আসেননি। ফলে কিছু এলাকায় টিকাদানে গ্যাপ তৈরি হয়। এ কারণেই সংক্রমণ ছড়িয়েছে।

‘এখন আমরা একটি কৌশল নিয়েছি- ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হবে, যাতে সেখানে হার্ড ইমিউনিটি গড়ে তোলা যায়’, যোগ করেন তিনি।

কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ঢাকা থেকে বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় সাতটি ভেন্টিলেটর আনা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এগুলো কিছুটা হলেও সহায়ক হবে। পাশাপাশি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত নয়, এমন শিশুদের আইসিইউ প্রয়োজন হলে রাজশাহী হার্ট ফাউন্ডেশনে পাঠানোরও পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানেও আইসিইউ সাপোর্ট পাওয়া যাবে।

‘এছাড়া রাজশাহী শিশু হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল ও বক্ষব্যাধি হাসপাতালসহ যেসব হাসপাতালে অবকাঠামো আছে, সেগুলো সচল করার উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা চলছে।’

কুমিল্লায় হামের ভয়াবহতা বাড়ছে, চিকিৎসাধীন ৩ শিশুর মৃত্যু : কুমিল্লায় হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এরইমধ্যে হাম আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। জেলা সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ জানিয়েছেন, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল মিলিয়ে অন্তত ২১ জন শিশু হাম আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগ ঘুরে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আক্রান্ত শিশুদের সেখানে ভর্তি করা হচ্ছে। তাদের অভিভাবকদের চোখেমুখে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা লক্ষ্য করা গেছে।

হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মিয়া মনজুর আহমেদ জানান, হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য বিশেষায়িত সেবা নিশ্চিত করতে আলাদা একটি ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। গত ১৮ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ২৫ জন শিশু এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে, ২ জনকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে এবং বর্তমানে ১৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।

চাঁদপুরে হামে আক্রান্ত ২৮ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি, মৃত্যু ৩ : চাঁদপুরে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। জেলায় এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ২৮ শিশুকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়।

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে চাঁদপুর সদর জেনারেল হাসপাতালে সর্বাধিক ২২ জন চিকিৎসাধীন। এছাড়া হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন এবং মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও ৩ জন শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই নতুন করে জ্বর, সর্দি ও কাশিসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে শিশু রোগীদের আগমন বাড়ছে।

চাঁদপুর সদর জেনারেল হাসপাতালে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সেখানে বেড সংকট দেখা দিয়েছে। হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য হাসপাতালটিতে একটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের ফ্লোরে রেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে, যা চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপের ইঙ্গিত দেয়।

এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিশুদের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী যথাযথ যত্ন নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানিয়েছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

চাঁদপুর সদরের লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন থেকে আসা লাকি বলেন, আমার বাচ্চার দুইদিন ধরে পুরো শরীরে হাম উঠে। পাশাপাশি গায়ে জ্বর, কাশ, চোখ দিয়ে পানি পড়ে। ডাক্তাররা বলেছে, এখানে চিকিৎসা নিলে বাচ্চা সুস্থ হয়ে যাবে।

আরেক শিশু প্রত্যয় ঘোষ নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিল। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেই আবারো হামে আক্রান্ত হয়। শিশুটির মা জানায়, আমার সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে ৭দিন থেকে সুস্থ হওয়ার পর বাড়ি ফিরে হাম উঠে। এরপর আবার হাসপাতালে ভর্তি করাই। এখন জ্বর, শ্বাসকষ্ট রয়েছে। ডাক্তার বলেছে- জ্বর শ্বাসকষ্ট কমে গেলেই বাড়ি নিয়ে যাওয়া যাবে।

শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আজিজুর রহমান জানান, গত ১ সপ্তাহে ৫০ শিশুকে নিয়ে কাজ করেছি। সাধারণত ওইসব রোগী হাসপাতালে ভর্তি রাখি, যাদের খেতে না পারা, নেতিয়ে পড়া, দ্রুত শ্বাস। এসব রোগীর জন্য আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। আপাতত এখন ১০ বেড সম্পন্ন আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, অভিভাবকরা প্রথমে খেয়াল রাখবেন সাধারণ বিপদজনক চিহ্নগুলা আছে কি না। হামের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চমাত্রার জ্বর, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, কাশি এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

গাজীপুরে তিনদিনে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ২৭ শিশু : হামে আক্রান্ত হয়ে ২৭ জন শিশু গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। গত তিনদিনে এসব শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের ১০ তলায় শিশু ওয়ার্ডে গত তিনদিনে ২৭ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হামে আক্রান্ত শিশুরা গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকা হতে এসে ভর্তি রয়েছে। গত শনিবার ৬ জন, রোববার ৭ জন, সোমবার ৯ জন ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে গাজীপুর সদর উপজেলা থেকে ৭ জন, সিটি কর্পোরেশন থেকে ৬ জন, কালীগঞ্জ, শ্রীপুর ও কালিয়াকৈর থেকে ৩ জন করে রোগী ভর্তি রয়েছে। এছাড়া গতকাল সকালে আরও ৫ জন শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের স্বজনরা জানান, কয়েক দিন ধরে জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ও দুর্বলতা দেখা দেওয়ার পর তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর থেকে আসা এক শিশুর মা সালেহা বেগম বলেন, প্রথমে জ্বর ছিল, পরে সারা শরীরে দানা বের হয়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করিয়েও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করেছি। এখন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আছে, একটু ভালো আছে। অপর এক শিশুর বাবা আব্দুল মালেক বলেন, দুই-তিন দিন ধরে জ্বর কমছিল না। পরে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখানে ভর্তি করার পর ডাক্তাররা নিয়মিত দেখছেন।

হাসপাতালের পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, গত তিনদিনে হামে আক্রান্ত ২৭ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। তাদের হাসপাতালে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শিশুদের অপুষ্টি থেকে দূরে রাখা ও হামে আক্রান্তদের অন্যদের থেকে আলাদা রাখার বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে।

নাটোরে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত অধিকাংশের টিকার বয়স হয়নি : দেশের বিভিন্ন জেলার মতো নাটোরেও হঠাৎ করেই শিশুদের মাঝে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাইফাতুল কাশফি নামের সাড়ে তিন মাস বয়সী নাটোরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া জেলায় আক্রান্ত অধিকাংশ শিশুর বয়সই ৯ মাসের কম, যাদের এখনও হামের টিকা দেওয়ার বয়স হয়নি। নিহত শিশু কাশফি নাটোর সদর উপজেলার বড় হরিশপুর ইউনিয়নের ঋষি নওগাঁ এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে।

নিহত শিশুর বাবা সাইফুল ইসলাম জানান, গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে ঠান্ডা ও জ্বর নিয়ে নাটোর সদর হাসপাতালে কাশফিকে ভর্তি করা হয়। শুরুতে সে কান্নাকাটি করলেও বিকেল থেকে সারা শব্দ বন্ধ করে দেয়। পরদিন শনিবার স্বজনরা খেয়াল করেন, তার গলার ভেতর হামের মতো গুটি বেরিয়েছে, যা রোববার পুরো শরীরে ফুটে ওঠে। অবস্থার অবনতি হলে সোমবার রাতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে তার মৃত্যু হয়।

নাটোর সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের নমুনা পরীক্ষার পর ১৩ জন শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়। ইতোমধ্যে ৯ জন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। একজনকে রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছিল (যার মৃত্যু হয়েছে) এবং বর্তমানে সদর হাসপাতালে ৩ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নাটোর সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, ৪১৫ নম্বর কক্ষে হামে আক্রান্ত শিশুদের আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সেখানে চিকিৎসাধীন সব শিশুর বয়সই ৯ মাসের কম।

এসব বিষয়ে নাটোরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, জেলায় ৩৮ জন শিশুর হামের প্রাথমিক উপসর্গ ছিল, যার মধ্যে ১৩ জনের হাম পজিটিভ আসে। মৃত শিশুটির হাম ছিল কিনা, তা এখনও নিশ্চিত নয়। পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছে, রিপোর্ট হাতে পেলে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।

দ্রুত দেশে পৌঁছাবে হামসহ ১০ ধরনের টিকা : দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর হার নিয়ন্ত্রণে হামসহ ১০ ধরনের টিকার টাকা পরিষোধ করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে টিকা পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী। গতকাল মঙ্গলবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, হামসহ ১০ ধরনের টিকা সংগ্রহে সরকার এরই মধ্যে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং এ অর্থ ইউনিসেফকে পরিশোধ করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে টিকা দেশে পৌঁছাবে এবং ডোজ হাতে পেলেই সারাদেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হবে।

সচিব বলেন, করোনা মহামারি চলাকালীন টিকাদান কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। সেই ঘাটতি পূরণে এবার বৃহৎ পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। যার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।