মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান

প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আলোকিত ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত শুরুর পর এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। দীর্ঘায়িত এই সংঘাতে কৌশলগতভাবে বেকায়দায় পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েল। সংঘাত কমাতে যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি দেশের মাধ্যমে ইরানের কাছে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠিলয়েছে, তবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। তারা নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসবে না। ফলে যুদ্ধ বন্ধে যে আলোচনা চলছিল, তা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান : ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ গত শুক্রবার এক নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। নাম প্রকাশ না করা সূত্রটি জানায়, গত বুধবার একটি বন্ধু দেশের মাধ্যমে এ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। দেশটির নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে সেই প্রস্তাব বা এর সত্যতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য বা নিশ্চিত করার তথ্য পাওয়া যায়নি। ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী যখন ক্রমাগত উত্তেজনা ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে, তখনই এ প্রস্তাব সামনে আসে। বিশেষ করে কুয়েতের বুবিয়ান দ্বীপে একটি মার্কিন সামরিক গুদামে হামলার পর যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরালো হয়েছে। ইরান এই প্রস্তাবের কোনো লিখিত জবাব দেয়নি, বরং হামলার তীব্রতা বাড়িয়ে মাঠেই এর পাল্টা জবাব দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা শুরু করে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩৪০ জন নিহত হয়েছেন। জবাবে ইরানও ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এমন উপসাগরীয় দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।

মার্কিন-ইসরায়েলি আরেকটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে ইরান : ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজের একজন প্রতিনিধি যুদ্ধবিমানের বিধ্বস্ত কিছু অংশের ছবি পেয়েছেন। এ ছবিগুলো প্রমাণ করছে যে আরও একটি মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। তাসনিম নিউজের সেনাবিষয়ক প্রতিবেদক মনে করছেন, ওই যুদ্ধবিমানের বিধ্বস্ত অংশের ছবিতে মাত্র একটি ইঞ্জিনের ধোঁয়া নির্গমন পথ (এক্সজস্ট) দেখা গেছে। এর ওপর ভিত্তি করে ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধবিমানটি একটি ‘এফ-১৬’ অথবা ‘এফ-৩৫’ হতে পারে। তবে এটি ‘এফ-১৬’ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে তেহরানসহ ইরানের বেশ কিছু শহরের ওপর দিয়ে কয়েকটি যুদ্ধবিমান উড়ে যাচ্ছিল। সে সময় দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটের ব্যাপক গোলাবর্ষণের মুখে পড়ে বিমানগুলো। এসময় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আক্রমণ থেকে বাঁচতে কিছু যুদ্ধবিমান থেকে ‘ফ্লেয়ার’ (এক ধরনের অগ্নিপি-) ছোড়া হয়। তবে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এ যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে একটি সম্ভবত ভূপাতিত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিকতম এ ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো দেশ বা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ক্রু উদ্ধারের অভিযানে গিয়ে হামলার মুখে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার : ইরানে ভূপাতিত করা ‘এফ-১৫ই’ যুদ্ধবিমানের দুই পাইলটের একজনকে গত শুক্রবার উদ্ধার করতে গিয়ে আরেকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ও একটি হেলিকপ্টার হামলার মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দুজন কর্মকর্তার বরাতে সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, উদ্ধার অভিযানকালে একটি ‘এ-১০ ওয়ারথগ’ যুদ্ধবিমান আক্রান্ত হলে পাইলট সাগরে ঝাঁপ দেন। পরে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া অভিযানে থাকা দুটি হেলিকপ্টারের একটিতে ছোট অস্ত্র থেকে গুলি চালানো হয়েছে। এতে হেলিকপ্টারটিতে থাকা কয়েকজন ক্রু আহত হন। তবে সেটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে। এরইমধ্যে, যুক্তরাষ্ট্রের এ-১০ মডেলের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ইরানি সেনাবাহিনীর বরাতে এ খবর জানিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ওই যুদ্ধবিমানটিতে আঘাত হানা হয়েছে। পরে সেটি হরমুজ প্রণালির কাছে বিধ্বস্ত হয়। গতকাল এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার আগে গতকালই ইরানের আকাশে ‘এফ-১৫ই’ মডেলের একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। সেটির একজন পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যজন নিখোঁজ। তার সন্ধানেই ওই বিপজ্জনক উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের ভূপাতিত করার দাবি করা দ্বিতীয় বিমান এবং সিবিএসের উল্লিখিত বিমান (হামলার মুখে পড়া যুদ্ধবিমান) একই কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে, যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা ইরানের সঙ্গে প্রস্তাবিত আলোচনায় কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘না, মোটেও না। এটা তো যুদ্ধ।’

নিখোঁজ মার্কিন ক্রুকে ‘জীবিত’ ধরিয়ে দিলে ৬৬,১০০ ডলার পুরস্কার ঘোষণা : ইরানে গত শুক্রবার ভূপাতিত করা মার্কিন যুদ্ধবিমানের এক নিখোঁজ ক্রুকে খুঁজে বের করতে সাধারণ নাগরিকদের পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে একটি ইরানি টেলিভিশন চ্যানেল। চ্যানেলের সংবাদ উপস্থাপক এক ঘোষণায় বলেন, ‘সামরিক বাহিনী নিখোঁজ মার্কিন ক্রুকে খুঁজে বের করতে অভিযান শুরু করেছে। কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমদ প্রদেশের নাগরিকেরা, আপনারা যদি শত্রুপক্ষের পাইলট বা ক্রুদের জীবিত ধরে পুলিশ বা সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেন, আপনাদের মূল্যবান পুরস্কার দেওয়া হবে।’ কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমদ প্রদেশটি মূলত একটি দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, যা প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত। ইরানি কর্তৃপক্ষ পার্শ্ববর্তী চাহারমহল ও বখতিয়ারি প্রদেশেও সাধারণ মানুষকে তল্লাশি চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে। এছাড়া টেলিভিশনের স্ক্রিনে এক বার্তায় সন্দেহভাজন কাউকে দেখামাত্র ‘গুলি করার’ আহ্বান জানানো হয়।

পুরস্কার ঘোষণার পর স্থানীয় অনেক নাগরিক নিজেদের ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে দুর্ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছেন। তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছে, কেউ যেন ওই পাইলটের সঙ্গে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার না করেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এক বার্তায় জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের অনেক মানুষ পাইলটকে ধরার জন্য দুর্ঘটনাস্থলের দিকে গেছেন। তবে তাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন ওই পাইলট কোনোভাবেই লাঞ্ছিত না হন।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমদ প্রদেশের গভর্নর ওই ‘অপরাধী মার্কিন পাইলটকে’ ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ১০ বিলিয়ন তুমান বা প্রায় ৫০ হাজার পাউন্ড (৬৬ হাজার ১০০ ডলার বা প্রায় ৮১ লাখ টাকা) পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এমন এক সময়ে এ ঘটনা ঘটল যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও ইরান আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল ‘এফ-১৫ই’ মডেলের। এ ধরনের যুদ্ধবিমানে সাধারণত একজন পাইলট এবং পেছনে একজন ‘ওয়েপন-সিস্টেম অফিসার’ থাকেন।

সংবাদমাধ্যম এক্সিওস ও সিবিএস নিউজ জানায়, বিমানের দুই পাইলটের একজনকে মার্কিন বিশেষ বাহিনী উদ্ধার করেছে। তবে দ্বিতীয়জনের খোঁজে তল্লাশি চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, মার্কিন হেলিকপ্টার ও অন্যান্য বিমান নিখোঁজ সেনার খোঁজে ইরানের ওই পাহাড়ি এলাকার অনেক উঁচু দিয়ে চক্কর দিচ্ছে।

ইরান যুদ্ধে ১৩ মার্কিন সেনা নিহত, আহত ৩৬৫ : ইরানে চলমান যুদ্ধে গত শুক্রবার পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে আরও অন্তত ৩৬৫ জন। হতাহতের এ হিসাব পেন্টাগনের। ইরানে গত শুক্রবার দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের ঘটনা ঘটেছে। এতে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন কিনা বা হতাহতের তালিকায় এ ঘটনায় সম্পৃক্ত কেউ আছেন কিনা- সেটা স্পষ্ট নয়। পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, আহত ৩৬৫ জনের মধ্যে ২৪৭ জন মার্কিন সেনাবাহিনীর সদস্য। এ ছাড়া ইরান যুদ্ধে মার্কিন নৌবাহিনীর ৬৩ জন ও বিমান বাহিনীর ৩৬ জন আহত হয়েছেন। বাকি ১৯ জন মেরিন সেনা।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের বিভিন্ন ভবনে ক্ষয়ক্ষতি ও আগুন : ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের পর এবার দেশটির মধ্যাঞ্চলেও বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রোশ হাইয়িন এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে আগুন ধরে গেছে। এ ছাড়া পেতাহ তিকভা শহরের একটি ভবন এবং তেল আবিবের বেশ কিছু রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বানি ব্রাক এলাকায় জরুরি উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। অন্যদিকে, চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে গিভাতায়িম এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার কথা জানানো হয়েছে।

ইরানের হামলায় কেঁপে উঠল দুবাইয়ের মেরিনা : সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাইয়ের অভিজাত এলাকা দুবাই মেরিনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন জানিয়েছে, গতকাল শনিবার সকালে তেহরান থেকে এ হামলা চালানো হয়। হামলার পর আমিরাতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা প্রতিহত করার চেষ্টা চালায়। তবে প্রতিহত করা ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ দুবাই মেরিনার একটি ভবনে গিয়ে আঘাত হানে।

দুবাই মিডিয়া অফিস জানায়, ঘটনাস্থলে কোনো অগ্নিকাণ্ড বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এর আগে গত শুক্রবার আবুধাবির হাবসান গ্যাস স্থাপনায় ইরানের হামলায় একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হন বলে জানায় আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। নিহত ব্যক্তি মিসরের নাগরিক। আহতদের মধ্যে দুজন পাকিস্তানি ও দুজন মিসরীয় রয়েছেন। হাবসান গ্যাস স্থাপনাটি আমিরাতের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র। হামলার পর সেখানে আগুন লাগে এবং স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

১৬০টির বেশি ড্রোন ধ্বংসের দাবি ইরানের : যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত শত্রুপক্ষের ১৬০টিরও বেশি ড্রোন এবং বেশ কিছু অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সফলভাবে ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান। ইরানের ন্যাশনাল এয়ার ডিফেন্সের জয়েন্ট হেডকোয়ার্টার্স জানিয়েছে, দেশটির সামরিক বাহিনী এখন যেকোনো উচ্চ প্রযুক্তির ড্রোন এবং পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ ফাইটার জেট মোকাবিলায় সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ। ইরানের এয়ার ডিফেন্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা এলহামি এক বিশেষ বিবৃতিতে জানান, ইরানি সৈন্যরা ‘আধুনিক দেশীয় পদ্ধতি ও সরঞ্জাম’ ব্যবহার করে শত্রু বাহিনীকে আকাশপথে অতর্কিত আক্রমণ বা ‘অ্যাম্বুশ’ করার জন্য প্রস্তুত। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এবং উন্নত আনম্যান্ড এরিয়াল সিস্টেম (ইউএএস) বা ড্রোনকে অনায়াসেই শিকার করতে পারে। ‘

ইরানি সংবাদ সংস্থা ইরনা-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেনারেল এলহামি নিশ্চিত করেছেন, তাদের বাহিনী এরইমধ্যে ‘হার্মিস’ এবং ‘লুকাস’-এর মতো বিশ্বসেরা প্রযুক্তির ড্রোনসহ কয়েক ডজন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। তিনি দাবি করেন, এই সাফল্য মূলত ইরানের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উদ্ভাবন ও নতুন রণকৌশলের ফল, যা বর্তমানে শত্রুপক্ষকে চরম বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলেছে।

ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা : ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর জানিয়েছেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী মাহশাহ’র বিশেষ পেট্রোকেমিক্যাল অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে। ভ্যালিওল্লাহ হায়াতির তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শনিবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে প্রাদেশিক রাজধানী আহভাজের পূর্ব ও পশ্চিমে তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কিছুক্ষণ পর ১০টা ৪৭ মিনিটে মাহশাহ’র পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় আরও তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। যদিও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ফজর ১, ফজর ২, রেজাল ও আমির কবির পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা হামলার শিকার হয়েছে। হতাহতের বেশ আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। এছাড়া বেলা ১১টার দিকে খোররামশাহরের শলামচেহ সীমান্ত বাণিজ্য টার্মিনালে হামলা চালানো হয় এবং এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো এরপর আবু আলী পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে আঘাত হানে। পরে তারা বন্দর-ই ইমাম খোমেনি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আংশিক ক্ষতি করে। এখন পর্যন্ত মাহশাহর ও বন্দর-ই ইমাম খোমেনিতে হামলায় পাঁচজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি কমান্ড কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই এলাকার সব কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, সেখান থেকে নির্গত কোনো ক্ষতিকারক পদার্থ বর্তমানে পার্শ্ববর্তী শহরগুলোর জন্য হুমকি নয়।