ভিড় কমেনি পাম্পে, দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তি

প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ইরানে হামলা পাল্টা হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। ইরান যুদ্ধের পর থেকে ধীরে ধীরে সংকট আরও গভীর হচ্ছে। এমন অবস্থায় দেশের পেট্রল পাম্পগুলোতে তেলের সরবরাহ ঠিক না থাকায় বিভিন্ন পাম্পে বন্ধ রয়েছে যানবাহনে তেল দেওয়া কার্যক্রম। যেসব পাম্পে তেল বিক্রি কার্যক্রম চলমান সেগুলোতেও টানা বেশকিছু দিন ধরে তেল সংগ্রহে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন লেগে থাকছে। কোনোভাবে ভিড় কমছে না পাম্পগুলোতে। গতকাল শনিবার সকাল থেকে রাজধানীর জ্বালানি তেল পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশন, আসাদগেটের তালুকদার ফিলিং স্টেশন ও সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন ঘুরে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, পাম্পটির সামনে থেকে শুরু করে মহাখালীমুখী সড়কে তেল নিতে আসা যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। যানবাহন চালকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এছাড়া তীব্র রোদে মোটরসাইকেল চালকরা লাইনে সারিবদ্ধভাবে গাড়ি রেখে ফুটপাতের ওপর ছায়াযুক্ত স্থানে তেলের অপেক্ষা করেন। আসাদগেটের তালুকদার ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে শুরু হয়ে জিয়া উদ্যান ঘুরে বিজয় সরণির মেট্রোরেল স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছে অপেক্ষারত যানবাহনের লাইন। সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে শুরু হওয়া মোহাম্মদপুর টাউন হলের দিকের সড়কে লম্বা লাইন দেখা যায়। তালুকদার ফিলিং স্টেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোজাম্মেল বলেন, গতকাল শনিবার সকাল ৮টার দিকে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। বিকাল ৪টা বাজে তখনও তেল পাননি। তেল পেতে আর কয় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা লাগবে বা দাঁড়িয়ে থেকে আদৌ তেল পাব কি না সন্দেহ। সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনের সামনে অপেক্ষারত মোটরসাইকেলচালক সাগর বলেন, কি আর বলব ভাই। প্রতিদিন একই পরিস্থিতির মধ্যে পার করতে হচ্ছে। তেল দিচ্ছে অল্প। যে কারণে দুদিন, তিনদিন পরপরই তেল নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় পার করতে হচ্ছে। ট্রাস্ট তেল পাম্পের লাইনে কথা হয় অন্য এক মোটরসাইকেলচালক মিনহাজের সঙ্গে। তিনি বলেন, গতকাল তেল নিতে এসেছিলাম। এসে লাইন দেখে তেল না নিয়ে চলে গেছি। ভাবছিলাম বন্ধের দিন তাই ভিড় বেশি শনিবার এলে অনেকের অফিস খোলা থাকবে। ভিড় কম থাকবে। এজন্য এসেছিলাম। কিন্তু এসে সেই একই অবস্থায়। এ অবস্থার কোনো পরিবর্তন নেই। কষ্ট হলেও লাইনেই দাঁড়িয়ে আছি। তেল না নিয়ে ফিরতে পারছি না।

তেল কালোবাজারি-মজুতদারের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড- আইনমন্ত্রী : আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির জন্য এক শ্রেণির মানুষ চেষ্টা করছে। তারা একই মোটরসাইকেল নিয়ে একই দিন একাধিক জায়গা থেকে জ্বালানি নিচ্ছে। সেই তেল বাসায় নিয়ে বোতলে, ড্রামে ভরে আবার নিতে আসছে। আমরা এতদিন সফট (নমনীয়) ছিলাম। প্রয়োজনবোধে তেলের কালোবাজারি ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে বিশেষ আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রয়োগ করব। এবং তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। শনিবার দুপুরে ঝিনাইদহের শৈলকুপার ধাওড়া গ্রামে খাল খনন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৪ সালের ‘বিশেষ ক্ষমতা আইনে’ কালোবাজারি এবং মজুতদারির বিরুদ্ধে সেকশন ২৫ এর যে শাস্তির বিধান করা হয়েছে, প্রয়োজনবোধে সেই শাস্তি প্রয়োগ করা হবে। তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রশাসনকে বলছি, আপনারা কঠোর হোন। আপনাদের সঙ্গে অতন্দ্র প্রহরীর মতো সংগঠনের নেতাকর্মীরা থাকবে।’

দুই দিনে দুই জাহাজে এল ৬১ হাজার টন ডিজেল : মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ সংকটের মধ্যে একদিনের ব্যবধানে ৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে আরও একটি জাহাজ দেশে এসে পৌঁছেছে। ‘এমটি শান গ্যাং ফা শিয়ান‘ নামের জাহাজটি ৩৪ হাজার টন পরিশোধিত তেল নিয়ে শনিবার ভোর রাতে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে ভিড়েছে বলে বন্দর সচিব সৈয়দ রেফাত হামিম জানিয়েছেন। জাহাজটি মালয়েশিয়া থেকে এসব পরিশোধিত তেল নিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। আর জাহাজেরও তেল সরবরাহ করেছে ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড।

এর আগে শুক্রবার ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে ‘এমটি ইউয়ান জিং হে‘ নামে অন্য একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। সিঙ্গাপুর থেকে আসা জাহাজটি এখন বন্দরের ডলফিন জেটিতে তেল খালাস করছে। এ নিয়ে চলতি মাসে দুইদিনে পৃথক জাহাজ দুটিতে করে মোট ৬১ হাজার টন পরিশোধিত ডিজেল দেশে আসল। তার্গেল মঙ্গলবারে ‘পিভিটি সোলানা’ নামে একটি জাহাজ ৩০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে বন্দরের ডলফিন জেটিতে এসেছিল।