সংসদে শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ করলেন অর্থমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবম দিনে শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এসব কোম্পানির কাছে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। গতকাল সোমবার কুমিল্লা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের (হাসনাত আব্দুল্লাহ) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। এদিন সংসদে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। অর্থমন্ত্রী শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ করেন।

তারা হলেন- ১. এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড, ২. এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড, ৩. সালাম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ৪. এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড, ৫. সোনালী ট্রেডার্স, ৬. বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড, ৭. গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেড, ৮. চেমন ইস্পাত লিমিটেড, ৯. এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, ১০. ইনফিনিট সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ১১. কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড, ১২. দেশবন্ধু সুগার মিলস লিমিটেড, ১৩. পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা কেরানীগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড, ১৪. পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড, ১৫. প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড, ১৬. কর্ণফুলী ফুডস (প্রা.) লিমিটেড, ১৭. মুরাদ এন্টারপ্রাইজ, ১৮. সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড, ১৯. বেক্সিমকো কমিউনিকেশন্স লিমিটেড, ২০. রংধনু বিল্ডার্স (প্রা.) লিমিটেড।

খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে- ১. ১০ শতাংশের বেশি শ্রেণিকৃত ঋণ রয়েছে এমন ব্যাংকগুলোর ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা দলের সঙ্গে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে আলোচনা এবং শ্রেণিকৃত ঋণ আদায়ে প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে তা সমাধানে ব্যাংক থেকে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ। ২. বাংলাদেশ ব্যাংক আয়োজিত প্রতিটি ব্যাংকার সভায় ব্যাংকভিত্তিক শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি ও শ্রেণিকৃত ঋণ আদায়ের অগ্রগতি যাচাই। ৩. শ্রেণিকৃত ঋণের হার বেশি এমন ব্যাংকগুলোর জন্য ঋণ নিষ্পত্তি কৌশলসংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রণয়ন। ৪. ব্যাংক-কোম্পানি (সংশোধিত) আইনে সংজ্ঞায়িত ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৬ (তারিখ: ১২ মার্চ ২০২৪) এর মাধ্যমে শনাক্তকরণ ও করণীয় নির্ধারণ। ৫. বিআরপিডি সার্কুলার নং-১৪/২০২৪ এর মাধ্যমে ব্যাংকের বিদ্যমান আইন বিভাগ শক্তিশালী করতে নির্দেশনা প্রদান। ৬. বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে আগামী ৩০ জুন ২০২৬-এর মধ্যে প্রত্যেক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের ন্যূনতম ১ শতাংশ নগদ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ (বিআরপিডি সার্কুলার নং-১১/২০২৪)। ৭. ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা হালনাগাদ করা। ৮. আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান অনুযায়ী প্রত্যাশিত ঋণক্ষতিভিত্তিক ঋণ শ্রেণিকরণ ও প্রভিশনিং নীতিমালা বাস্তবায়ন; পাশাপাশি তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জামানতের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা। অর্থমন্ত্রী জানান, এসব ছাড়াও খেলাপি ঋণ সমস্যা সমাধানে আরও কিছু কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

১. বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট আইনসমূহ—ব্যাংক কোম্পানি আইন, নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট আইন, অর্থ ঋণ আদালত আইন, দেউলিয়া আইন—সংশোধনের কার্যক্রম চলমান। ২. স্বল্পমেয়াদি কৃষি ঋণের পুনঃতফসিল নীতিমালা পর্যালোচনা ও হালনাগাদ। ৩. খেলাপি ও ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ। ৪. নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী ভালো গ্রাহকদের চিহ্নিত করে প্রণোদনা দেওয়ার নীতিমালা হালনাগাদ। ৫. একজন ঋণগ্রহীতার জন্য সমগ্র ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ গ্রহণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ। ৬. ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের জন্য প্রযোজ্য কিছু ব্যবস্থা অন্য খেলাপিদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগে আইনি সংস্কারের উদ্যোগ। ৭. অর্থ ঋণ আদালতের বিচারক প্যানেলে অভিজ্ঞ ব্যাংকার অন্তর্ভুক্তকরণ। ৮. ঋণখেলাপিরা যাতে রিট করে ঋণ আদায় কার্যক্রম স্থগিত করতে না পারে, সে লক্ষ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ। ৯. বেসরকারি খাতে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি গঠনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন। তালিকাটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, শীর্ষ ঋণখেলাপিদের মধ্যে কোনো কোনো গ্রুপের একাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে এস আলম গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান- এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড, এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড ও চেমন ইস্পাত লিমিটেড তালিকায় রয়েছে। এছাড়া পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারার দুটি প্রতিষ্ঠান- কেরানীগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড ও জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড এবং বেক্সিমকো নামসংবলিত দুটি প্রতিষ্ঠান- বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড ও বেক্সিমকো কমিউনিকেশন্স লিমিটেড তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা- অর্থমন্ত্রী : অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা। এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন, ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি ও স্পোর্টস অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আজ সংসদে সরকারি দলের সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন (ঢাকা-১৮)-এর লিখিত প্রশ্নের জবাবে- এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির জন্য সরকার একটি নির্দিষ্ট খাত নয়, বরং বহুমাত্রিক কৌশল গ্রহণ করেছে। কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, উৎপাদন, রপ্তানি, প্রবাস আয়, দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা- সবগুলো ক্ষেত্রকে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারত্ব কমাতে উৎপাদন, নির্মাণ, সেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতে কাজের সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে। এতে পারিবারিক আয় বৃদ্ধি পাবে এবং ধীরে ধীরে মাথাপিছু আয়ও বাড়বে। বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণ সহজ করা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং উৎপাদনমুখী খাতে অর্থপ্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে নতুন কারখানা, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তায় সহজ অর্থায়ন, নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের উৎসাহ প্রদান এবং বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং নতুন আয়ের পথ তৈরি হবে। তিনি জানান, রপ্তানি বৃদ্ধি ও বাজার সম্প্রসারণের জন্য রপ্তানিমুখী শিল্পে প্রণোদনা, বহুমুখীকরণ এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানের কাজ চলছে। একইসঙ্গে প্রবাস আয় বাড়াতে বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে উৎপাদন বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র ব্যবসা সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে গ্রামীণ আয় বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনীতি চাঙা হবে। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের একটি অংশ ২০২৫-২৬ অর্থবছরেই বাস্তবায়নাধীন রয়েছে, আর বাকি পদক্ষেপগুলো স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এসব সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের আয় বৃদ্ধি, বেকারত্ব হ্রাস, বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

ক্ষুদ্র কৃষকের ঋণ মওকুফে ১,৫৬৭.৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দ : ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তায় সরকার কৃষিঋণ মওকুফ এবং স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি সোমবার সংসদে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মো. মোশাররফ হোসেন (বগুড়া-৪)-এর তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান। অর্থমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি। তবে সুদসহ সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষুদ্র কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাজেটে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে; যার ফলে সারা দেশের প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ জন কৃষক উপকৃত হবেন বলে তিনি জানান।

অর্থমন্ত্রী কৃষকদের সহায়তায় চলমান বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক-এর বার্ষিক কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতি ও কর্মসূচির আওতায় সহজ শর্তে ও তুলনামূলক কম সুদে কৃষি ও পল্লী ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৩৯ হাজার কোটি টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গম ও ভুট্টা উৎপাদন বাড়াতে ২০২২ সালের ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক ১ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু করেছে। এই স্কিমটি ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং এর আওতায় কৃষকরা ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাচ্ছেন। এছাড়া ডাল, তেলবীজ, ভুট্টা ও মসলা জাতীয় আমদানি বিকল্প ফসল উৎপাদনে উৎসাহ দিতে ৪ শতাংশ হারে স্বল্পসুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সরকার ব্যাংকগুলোকে সুদ ভর্তুকি প্রদান করছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের কৃষি উৎপাদন শক্তিশালী করা এবং কৃষকদের জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

মোবাইল ফাইন্যান্স ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং প্রতারণা রোধে ৭ পদক্ষেপ : মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে হ্যাকার ও প্রতারক চক্রের কারসাজি রোধে সরকার সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি সোমবার সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের (ঢাকা-১৮) প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বাংলাদেশে একটি জনপ্রিয় ও সহজ পরিশোধ ব্যবস্থা হিসেবে দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। এই আধুনিক পদ্ধতি প্রযুক্তিগতভাবে নিরাপদ হলেও ব্যবহারগত কারণে বিভিন্ন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। গ্রাহকদের পাসওয়ার্ড শেয়ার করা, ডিভাইস হ্যাকিং এবং প্রতারকদের নতুন নতুন কৌশলের কারণে মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন এবং বাংলাদেশ ব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেমের নিরাপত্তা জোরদার ও প্রতারণা প্রতিরোধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

প্রতারক চক্র দমনে গৃহীত প্রধান সাতটি ব্যবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথমত, এক এনআইডির বিপরীতে একটি এমএফএস প্রোভাইডারের সঙ্গে একটিমাত্র মোবাইল হিসাব চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের মোবাইল নম্বর তার নিজস্ব এনআইডিতে নিবন্ধিত কিনা তা যাচাই করতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-এর সহায়তায় একটি সমন্বিত ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিটিআরসি’র মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, গ্রাহকদের পিন নম্বর সুরক্ষা ও প্রতারণা সম্পর্কে সচেতন করতে এসএমএস, ভয়েস মেসেজ, ইমেইল এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারণা চালানোর জন্য এমএফএস প্রোভাইডারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, এমএফএস এজেন্টদের কার্যক্রমে কঠোর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যেসব এজেন্টের মাধ্যমে অস্বাভাবিক লেনদেন হয়; তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চতুর্থত, গ্রাহকদের অভিযোগ কেস-টু-কেস ভিত্তিতে এমএফএস প্রোভাইডারদের নিজস্ব অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা হচ্ছে। পঞ্চমত, অভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। ষষ্ঠত, এমএফএস প্রোভাইডারদের ঝুঁকি নিরূপণে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস সুপারভিশন বিভাগ নিয়মিত পরিদর্শন কার্যক্রম চালাচ্ছে।

সপ্তমত, সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-এ রিপোর্ট করা হচ্ছে এবং এর ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া, অনলাইন ব্যাংকিং সেবায় নিরাপত্তা জোরদার করতে সকল ব্যাংকে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (২এফএ) চালু রয়েছে; যা গ্রাহকের লেনদেনকে আরও সুরক্ষিত করছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মোবাইল ফাইন্যান্স ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রতারণা কমিয়ে আনা এবং গ্রাহকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।