মজুত পর্যাপ্ত, তেলের দাম বাড়বে কি না সিদ্ধান্ত মে মাসে

জানালেন জ্বালানিমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যে অস্বাভাবিক অস্থিরতা থাকলেও দেশে বর্তমানে তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি জানান, আগামী মাসে তেলের দাম বাড়ানো হবে কিনা, সে বিষয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গতকাল মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দশম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এই তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশনটি পরিচালিত হয়।

জ্বালানিমন্ত্রী জানান, তেলের দাম সমন্বয়ের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে, যা প্রতি মাসেই পর্যালোচনা করা হয়। আগামী মাসে দাম বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ইরান কর্তৃক স্ট্রেইট অব হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিধি-নিষেধের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এই কঠিন পরিস্থিতিতেও সরকার সম্ভাব্য সব উৎস থেকে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রেখেছে।’

দেশে জ্বালানির বর্তমান মজুত তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন ডিজেল মজুত আছে এবং ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আরও ১ লাখ ৩৮ হাজার টন দেশে পৌঁছাবে। এছাড়া ১০ হাজার ৫০০ টন অকটেন ও ১৬ হাজার টন পেট্রোল মজুত রয়েছে, যার বিপরীতে চলতি মাসেই আরও বড় চালান আসার অপেক্ষায় আছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর চিত্র তুলে ধরে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘পাকিস্তান তেলের দাম ৫০ শতাংশ বাড়িয়েছে এবং শ্রীলঙ্কা রেশনিং পদ্ধতি চালু করেছে। ভারত, আফগানিস্তান ও নেপালও তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। সে তুলনায় একমাত্র বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত দাম স্বাভাবিক রেখে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কম রাখার চেষ্টা করছে।’

তিনি আরও জানান, সেচ মৌসুমে কৃষকদের ডিজেল প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ‘কৃষি কার্ড’ প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচার রোধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘গত ৩ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে ৩৪২টি অভিযানে ২ হাজার ৪৫৬টি মামলা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৩১ জনকে কারাদণ্ড এবং ১ কোটি ২৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায়ের পাশাপাশি প্রায় ৪০ লাখ ৪৮ হাজার লিটার তেল উদ্ধার করা হয়েছে।’ প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে তদারকির জন্য ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ এবং জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে নিয়মিত ভার্চুয়াল মিটিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে বলেও তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।