ইরান সভ্যতা সম্পূর্ণ ধ্বংসের হুঁশিয়ারি, ব্যাপক হামলা

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর হুমকির পরপরই গতকাল মঙ্গলবার ইরানজুড়ে একাধিক রেলপথ ও যোগাযোগ অবকাঠামোতে হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েল আগে থেকেই ইরানের নাগরিকদের ১২ ঘণ্টা ট্রেন ব্যবহার না করতে এবং রেলপথ থেকে দূরে থাকার হুমকি দিয়েছিল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে গতকাল বলা হয়েছে, দেশজুড়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানের আধাসরকারি মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দেশটির কাশান শহরে একটি রেল সেতুতে হামলায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, কারাজ শহরে একটি রেললাইনে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে আহত একজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ভিডিও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরআইবি জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলীয় কোম প্রদেশে সড়কপথের বেশ কিছু সেতু লক্ষ্য করে প্রজেক্টাইল নিক্ষেপ করা হয়।

আইআরআইবি আরও জানায়, পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী তাবরিজ-তেহরান মহাসড়কের একটি অংশ হামলার শিকার হয়েছে। এ ছাড়া খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তা উপপ্রধানের বরাতে তারা জানায়, আহওয়াজ শহরের একটি সড়কেও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনও জানিয়েছে, চলমান হামলার কারণে তাবরিজ ও জানজান শহরের মধ্যকার মহাসড়কটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্যারেহ চামান-মিয়ানেহ সড়কটিও উভয় দিক থেকে বন্ধ রয়েছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, বরং আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা সহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনাও হামলা হচ্ছে।

আবার ট্রাম্পের হুমকি, ইরান সভ্যতা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি খোলার জন্য তাঁর দেওয়া আলটিমেটামের চূড়ান্ত সময় ঘনিয়ে ঘনিয়ে আসছে। মঙ্গলবার রাতে একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনো পুনরুদ্ধার করা যাবে না। কিছুক্ষণ আগে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই হুমকি দেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চাই না এটি ঘটুক, কিন্তু এটি সম্ভবত ঘটবে। তবে, এখন যেহেতু আমরা সম্পূর্ণ ও সামগ্রিক শাসনের পরিবর্তন করেছি, যেখানে ভিন্ন, অধিকতর বুদ্ধিমান এবং কম কট্টরপন্থীরা আছে, হয়তো কিছু বিপ্লবী চমৎকার কিছু ঘটতে পারে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘কে জানে? রাতেই আমরা জানতে পারব বিশ্বের দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক মুহূর্ত আসছে। ৪৭ বছরের শোষণ, দুর্নীতি, এবং মৃত্যুর, অবশেষে অবসান হবে। ইরানের জনগণকে ঈশ্বর আশীর্বাদ করুন!”

মার্কিন উড়োজাহাজ ‘ধ্বংসের’ নতুন ভিডিও প্রকাশ করল ইরান পুলিশ : ইরানের দক্ষিণ ইসফাহানে যুক্তরাষ্ট্রের সি-১৩০ সহায়তা উড়োজাহাজ ‘ভূপাতিত, ধ্বংসের’ অভিযানের নতুন ভিডিওচিত্র প্রকাশ করেছে ইরানি পুলিশ। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

ইরানের পুলিশের দাবি, আগ্রাসনকারী মার্কিন বাহিনীর একটি সহায়তা উড়োজাহাজ ৫ এপ্রিল ভূপাতিত, ধ্বংস করা হয়েছে। ইরানি পুলিশের বিশেষ বাহিনীর গুলিতে উড়োজাহাজটি ভূপাতিত, ধ্বংস হয়। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ইসফাহান প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলে উড়োজাহাজটি ভূপাতিত করা হয়। ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে উড়োজাহাজটির পাইলটের ফেলে যাওয়া নথিপত্রসহ অন্যান্য সরঞ্জামের ছবি দেখা যায়। বলা হচ্ছে, উড়োজাহাজটির পাইলট ছিলেন একজন নারী।

তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়, ভিডিওটি প্রকাশের মাধ্যমে এই অভিযানের নতুন তথ্য সামনে এল। আবার প্রমাণিত হলো, শত্রুর হুমকি মোকাবিলায় ইরানের পুলিশের বিশেষ বাহিনী সক্ষম ও প্রস্তুত।

হামলায় আহত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় ১৩৩ ইসরায়েলি হাসপাতালে : ইরান ও হিজবুল্লাহর হামলায় আহত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩৩ জন ইসরায়েলিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় বলেছে, স্থানীয় সময় গত সোমবার সকাল ৭টা থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টা পর্যন্ত ১৩৩ জনকে হাসপাতলে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, পাঁচজন মাঝারি মাত্রায় আহত হয়েছেন আর ১২৭ জন হালকা আঘাত পেয়েছেন। ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

আবুধাবির মার্কিন এআই কেন্দ্র ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানায় : সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কেন্দ্র নিশানা করে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান। ইরানের আধা সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবরে এই তথ্য জানানো হয়।

খবরে বলা হয়, ওপেনএআই, ওরাকল ও এনভিডিয়ার সহযোগিতায় আবুধাবিতে নির্মাণাধীন যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্টারগেট’ এআই কেন্দ্রটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানার আওতায় রয়েছে।

তাসনিম নিউজ এজেন্সি বলেছে, ইরান এই কেন্দ্রটিকে একটি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার ইরান রাখে।

সৌদি আরবে সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত : সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে তাদের সামরিক বাহিনী। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর ধ্বংসাবশেষ বেশ কিছু জ্বালানি স্থাপনার কাছাকাছি এলাকায় গিয়ে পড়েছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ধ্বংসাবশেষের আঘাতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিরূপণের কাজ চলছে।

ইরাকে ইরানি ড্রোন হামলায় দম্পতি নিহত : ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় ইরবিল প্রদেশে ইরানের ড্রোন হামলায় এক দম্পতি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

ইরবিলের গভর্নর উমিদ খোশনব এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার মধ্যরাতের পর ইরবিল প্রদেশের দারাশাকরান জেলার জারকা জোয়ি গ্রামে একটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন আঘাত হানে। ইরান থেকে পাঠানো ড্রোনটি সরাসরি একটি বেসামরিক বাড়িতে গিয়ে আছড়ে পড়ে। এতে ঘরে থাকা ওই দম্পতি প্রাণ হারান।

কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা, ১৫ মার্কিন নাগরিক আহত : কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটিতে রাতভর ইরানের ড্রোন হামলায় অন্তত ১৫ মার্কিন নাগরিক আহত হয়েছেন। দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশেরই আঘাত গুরুতর নয়। তাঁরা ইতিমধ্যে নিজেদের কাজে ফিরেছেন।

দেশের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত : ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, এ পর্যন্ত ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি সাহসী ইরানি দেশরক্ষায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, তিনিও ইরানের জন্য তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছেন, ভবিষ্যতেও করে যাবেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। এ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির বেশ কয়েকজন উচ্চপর্যায়ের বেসামরিক-সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

ট্রাম্প যুদ্ধ ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন : ইরানের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা সূত্র বলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কৌশলগতভাবে পরাজিত করেছে তেহরান। ট্রাম্পের ইরানবিরোধী ক্রমবর্ধমান কঠোর বক্তব্য তাঁর যুদ্ধ ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ হারানোর ইঙ্গিত দেয়।

গত সোমবার ইরান নিয়ে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন ট্রাম্প। তাঁর এই বক্তব্যের জবাবে ইরানি জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা সূত্রটি এসব কথা বলে। সূত্রটি বলে, ইরানের দক্ষিণ ইসফাহানে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সমন্বয় করে ট্রাম্পের নেওয়া সামরিক পদক্ষেপ কৌশলগতভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

সূত্রটির ভাষ্য, ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ‘অপমানজনক ও উসকানিমূলক ভাষার’ ব্যবহার বাড়ছে, যা প্রমাণ করে তিনি যুদ্ধ ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। ইরানের এই জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা সূত্রটি আরও বলে, ইরান যুদ্ধের অবসান চায়, তবে ট্রাম্প যে সময়সীমা বা শর্ত দিয়েছেন, সে অনুযায়ী নয়।

ট্রাম্প যুদ্ধ ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন : ইরানের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা সূত্র বলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কৌশলগতভাবে পরাজিত করেছে তেহরান। ট্রাম্পের ইরানবিরোধী ক্রমবর্ধমান কঠোর বক্তব্য তাঁর যুদ্ধ ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ হারানোর ইঙ্গিত দেয়। গত সোমবার ইরান নিয়ে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন ট্রাম্প। তাঁর এই বক্তব্যের জবাবে ইরানি জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা সূত্রটি এসব কথা বলে।

সূত্রটি বলে, ইরানের দক্ষিণ ইসফাহানে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সমন্বয় করে ট্রাম্পের নেওয়া সামরিক পদক্ষেপ কৌশলগতভাবে ব্যর্থ হয়েছে। সূত্রটির ভাষ্য, ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ‘অপমানজনক ও উসকানিমূলক ভাষার’ ব্যবহার বাড়ছে, যা প্রমাণ করে তিনি যুদ্ধ ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন।

ইরানের এই জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা সূত্রটি আরও বলে, ইরান যুদ্ধের অবসান চায়, তবে ট্রাম্প যে সময়সীমা বা শর্ত দিয়েছেন, সে অনুযায়ী নয়।

হিজবুল্লাহর ড্রোন-রকেট হামলা : লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা লেবাননের অভ্যন্তরে ও ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহরগুলোতে ইসরায়েলি সেনা ও ট্যাংক লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানায়, লেবাননের আইনাতা ও মারকাবাহ শহরে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের ওপর রকেট ও ‘ডাইভণ্ডবম্বিং’ ড্রোন (আত্মঘাতী ড্রোন) দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। লেবাননের সীমান্ত ছাড়িয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও হিজবুল্লাহর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, ইসরায়েলের কিরিয়াত শমোনাং ও সাসা শহরের ভেতরে ও আশপাশে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের ওপরও তারা সফলভাবে লক্ষ্য ভেদ করেছে।

শীর্ষ কমান্ডারদের হত্যা ইরানি বাহিনীকে দমাতে পারবে না : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, তাঁর দেশের শীর্ষ কমান্ডারদের হত্যাকাণ্ড ইরানি বাহিনীকে দমাতে পারবে না।

গত সোমবার ভোরে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দাপ্রধান মাজিদ খাদেমি নিহত হওয়ার পর এ মন্তব্য করলেন মোজতবা খামেনি। তিনি আরও বলেন, ইরান সত্যের পথে থাকা যোদ্ধা ও আত্মত্যাগী সশস্ত্র বাহিনী মিলে এমন এক শক্তিশালী, গভীরভাবে প্রোথিত ফ্রন্ট গঠন করেছে, যাদের সংকল্প সন্ত্রাস ও অপরাধ ভাঙতে পারে না।

মোজতবা খামেনির এ বক্তব্য লিখিত বিবৃতি আকারে এসেছে। ইরান যুদ্ধের শুরুতেই তাঁর বাবা দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তিনি নিহত হওয়ার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হন তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি জনসমক্ষে আসেননি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তখন থেকে ইরানের বহু জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাকে নিশানা করে হামলা চালানো হচ্ছে। এতে ইরানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। আইআরজিসির গোয়েন্দাপ্রধান সম্পর্কে মোজতবা খামেনি বলেন, মাজিদ খাদেমি ইরানের নিরাপত্তা, গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নীরবে, নিষ্ঠার সঙ্গে কয়েক দশক কাজ করেছেন।

ট্রাম্পের এক রাতে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি অযৌক্তিক বলল ইরানের সেনাবাহিনী : এক রাতেই ইরানকে গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন হুমকির কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। ইরানের সেনাবাহিনী বলেছে, ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক ভাষা ও অযৌক্তিক হুমকিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান ব্যাহত হবে না। ট্রাম্পের আলটিমেটাম অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবারই (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল) সেই রাত হতে পারে।

ইরানের বিষয়ে জানাতে গত হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করেন ট্রাম্প। সেখানেই তিনি এমন হুমকি দেন।

এখন পর্যন্ত ইরানের ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা : যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তারা দেশটির ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানও পাল্টা জবাব দিচ্ছে। পাঁচ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এই যুদ্ধ চলছে। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের সাংকেতিক নাম ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। এই অভিযান সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য দিয়ে সেন্টকম বলে, এখন পর্যন্ত তারা ১৫৫টির বেশি ইরানি নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করেছে।

সেন্টকমের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল ইরানের ইসলামি বিপ্লবী বাহিনীর (আইআরজিসি) সদর দপ্তর, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, নৌবাহিনীর জাহাজ ও সাবমেরিন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে ৩ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ১ হাজার ৬৬৫ জনই বেসামরিক নাগরিক।

ইরানিদের ‘জরুরি সতর্কবার্তা’ দিয়ে ট্রেন থেকে দূরে থাকতে বলল ইসরায়েল : ইরানিদের উদ্দেশে একটি ‘জরুরি সতর্কবার্তা’ জারি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এই সতর্কবার্তায় ইরানিদের আগামী ১২ ঘণ্টা ট্রেন ব্যবহার না করতে, রেললাইন থেকে দূরে থাকতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

আইডিএফের বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানি নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই মুহূর্ত থেকে ইরানের সময় রাত ৯টা পর্যন্ত দেশজুড়ে ট্রেন ব্যবহার ও ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করা হচ্ছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ট্রেনে ও রেললাইনের আশেপাশে আপনার উপস্থিতি আপনার জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।’এই সতর্কবার্তাটি আইডিএফ নিজেদের ফার্সি ভাষার এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেছে। ইসরায়েলের এই সতর্কবার্তাটি এমন সময় এল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সময় দিয়েছেন। ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরান তা না মানলে তিনি দেশটির বেসামরিক অবকাঠামো (যেমন সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র) ধ্বংস করে দেবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

ইরানের বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা ধ্বংসের দাবি নেতানিয়াহুর : ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরানের সবচেয়ে বড় পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা ধ্বংস করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহু বলেন, তাঁরা পরিকল্পিতভাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অর্থের উৎস ভেঙে দিচ্ছেন।

এক পৃথক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, তারা ইরানের দুটি বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়েছে। এর ফলে দেশটির ৮৫ শতাংশের বেশি পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানি অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

আইডিএফের দাবি, ইরানের আসালুয়ের একটি স্থাপনা দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

ইরানের খারগ দ্বীপে বিকট বিস্ফোরণ : ইরানের খারগ দ্বীপে বিকট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইরান এই দ্বীপ থেকে তার রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল বিদেশে পাঠায়। ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর এ তথ্য জানিয়েছে।

মেহর খারগ দ্বীপে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে আর কোনো তথ্য সরবরাহ করেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার দ্বীপটিতে বোমা বর্ষণ বা দখল করার হুমকি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কিছু বলেনি।

ট্রাম্প গত ৩০ মার্চ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তেল কূপ এবং খারগ দ্বীপ ধ্বংস করতে পারে।

ইরানে রেলওয়ে সেতুতে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ২ : ইরানের কাশান শহরের একটি রেলওয়ে সেতুতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে দুজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি জানায়, ইরানের কাশান শহরের ইয়াহিয়া আবাদ রেলওয়ে সেতুতে ইসরায়েলে আঘাত হেনেছে। ইসফাহানের ডেপুটি গভর্নরের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এই হামলায় দুই জন নিহত হয়েছে।

এর আগে ইসরায়েল ট্রেন ব্যবহার না করতে ইরানের জনগণকে হুমকি দেয়। ওই হুমকির পর এ হামলা চালনো হলো।

ইসরায়েলি প্র্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিজেদের ফার্সি ভাষার এক্স অ্যাকাউন্টে ইরানিদের উদ্দেশে ‘জরুরি সতর্কবার্তা’ দিয়ে বলে, ইরানিদের আগামী ১২ ঘণ্টা ট্রেন ব্যবহার না করতে, রেললাইন থেকে দূরে থাকতে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানি নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই মুহূর্ত থেকে ইরানের সময় রাত ৯টা পর্যন্ত দেশজুড়ে ট্রেন ব্যবহার ও ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে বলা হচ্ছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ট্রেনে ও রেললাইনের আশেপাশে আপনার উপস্থিতি আপনার জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।’