অবশেষে স্বস্তির যুদ্ধবিরতি

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আলোকিত ডেস্ক

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে অবশেষে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর এই সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে স্বস্তির সঞ্চার হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরপরই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে- এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী হয়েছে, যা আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য স্বস্তির বার্তা দিয়েছে। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান এই নৌপথে স্বাভাবিকতা ফিরে আসায় বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ট্রাম্প, ২ সপ্তাহ হামলা বন্ধের ঘোষণা : ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে ভয়াবহ হামলার যে হুমকি দিয়ে রেখেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই নাটকীয় মোড় নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, দাবি না মানলে ‘পুরো একটি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’। তবে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টা আগে নাটকীয়ভাবে তেহরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।

যে শর্তে যুদ্ধবিরতি : ট্রাম্প জানিয়েছেন, শেষ মুহূর্তের এই সমঝোতার প্রধান শর্ত হলো—হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহে ইরানের দেওয়া অবরোধ স্থগিত করা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তেহরান পাল্টা আক্রমণ বন্ধ রাখবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ দেবে। ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, ইরান আলোচনার জন্য ১০ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যাকে তিনি একটি ‘উপযুক্ত ভিত্তি’ বলে মনে করছেন। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই একটি চুক্তিতে পৌছানোর ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে ইরানের ওপর ইতোমধ্যেই হামলা বন্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মধ্যস্থতায় পাকিস্তান : এই যুদ্ধবিরতির পেছনে বড় ভূমিকা পালন করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তার মধ্যস্থতায় এই সমঝোতা সম্ভব হয়েছে বলে খবরে জানিয়েছে রয়টার্স। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সরাসরি আলোচনার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিত জানিয়েছেন, ‘সরাসরি আলোচনার বিষয়ে কথাবার্তা চলছে, তবে প্রেসিডেন্ট বা হোয়াইট হাউস থেকে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোনো কিছুই চূড়ান্ত নয়।’

তেলের বাজারে প্রভাব : যুদ্ধবিরতির খবর আসার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম ১৭ শতাংশেরও বেশি কমে ব্যারেল প্রতি ৯২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে সূচকের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পর তেহরানের রাস্তায় সাধারণ মানুষকে উদযাপন করতে দেখা গেছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এই যুদ্ধবিরতিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ‘লজ্জাজনক পিছু হটা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রকে ১০ দফা প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য করা হয়েছে : ৪০ দিনের যুদ্ধ শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঐতিহাসিক পরাজয় হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য করা হয়েছে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানায়, শত্রুপক্ষ স্পষ্টভাবে পরাজিত হয়েছে এবং এখন তাদের সামনে ইরানের ইচ্ছা মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো পথ নেই। বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের যে ১০ দফা প্রস্তাব মেনে নিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে- ইরানের বিরুদ্ধে আর কোনো আগ্রাসন না চালানো, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি মেনে নেওয়া, সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সব প্রস্তাব বাতিল, ইরানকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত ৪০ দিন ছিল ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সম্মিলিত যুদ্ধ, যেখানে ইরান ও তার মিত্ররা শত্রুপক্ষের ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। তারা দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই বুঝতে পারে যে তারা জয়ী হতে পারবে না এবং এরপর বিভিন্ন মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুদ্ধবিরতির চেষ্টা শুরু করে।

গুলি বন্ধের নির্দেশ দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দেশটির সামরিক বাহিনীকে গুলি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তেহরান স্পষ্ট বলেছে, এই যুদ্ধবিরতি যুদ্ধের সমাপ্তি নয়; শত্রুপক্ষ একটু ভুল করলেই জোরালো জবাব দেওয়া হবে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিংয়ে (আইআরআইবি) প্রচারিত এক বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, এটি যুদ্ধের শেষ নয়, তবে সব সামরিক শাখাকে সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশ মেনে গুলি বন্ধ করতে হবে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল আলাদা বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুদ্ধ থেমে গেলেও ইরানের অবস্থান বদলায়নি। তাদের ভাষায়, ‘আমাদের হাত এখনো ট্রিগারের ওপর আছে। শত্রুপক্ষের সামান্যতম ভুলও পূর্ণ শক্তিতে মোকাবিলা করা হবে।’ জনগণের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল বলেছে, ‘এখন আমরা মহান ইরানি জাতিকে এই সুসংবাদ দিচ্ছি, যুদ্ধের প্রায় সব লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। তোমাদের সাহসী সন্তানেরা শত্রুকে ঐতিহাসিক অসহায়ত্ব ও স্থায়ী পরাজয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে।’

দুই পক্ষই নিজেদের ‘বিজয়’ দাবি করছে : ইরানের ওপর ‘দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিতের’ ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরান—উভয় পক্ষই সাময়িক এই যুদ্ধবিরতিকে নিজেদের বিজয় বলে দাবি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে তাদের ‘পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত বিজয়’ অর্জিত হয়েছে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর গত মঙ্গলবার সংবাদ সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘এটা পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত বিজয়। শতভাগ। এ নিয়ে প্রশ্নের কোনো অবকাশ নেই।’ হোয়াইট হাউস থেকেও দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক বিজয়’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বিজয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং আমাদের অসাধারণ সামরিক বাহিনী এটা সম্ভব করেছে। তিনি (ট্রাম্প) হরমুজ প্রণালি আবারও খুলে দিয়েছেন।’

এটা ইসরায়েলের জন্য রাজনৈতিক বিপর্যয়, নেতানিয়াহু ব্যর্থ হয়েছেন : ইসরায়েলের বিরোধী দলের নেতা ইয়ার লাপিদ বলেছেন, ইরানে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের জন্য একটি ‘রাজনৈতিক বিপর্যয়’। এক্ষেত্রে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘ব্যর্থ’ হয়েছেন। খবর বিবিসির। ইরানে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতির কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এ সিদ্ধান্তে সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন নেতানিয়াহু। এর প্রতিক্রিয়ায় বুধবার ইয়ার লাপিদ এমন মন্তব্য করেন। ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অন্যতম মূল ইস্যু ইরান। অথচ যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ইসরায়েল আলোচনার টেবিলেই ছিল না।’

যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র- ইসরায়েল ‘শোচনীয় পরাজয়’ বরণ করেছে : রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ‘বিনা উসকানিতে একপাক্ষিক ও আগ্রাসী হামলা’ চালিয়েছে। এ যুদ্ধে দেশ দুটি ‘শোচনীয় পরাজয়’ বরণ করেছে। স্পুতনিক রেডিওকে বুধবার মারিয়া বলেন, ‘আমাদের দেশ একেবারে শুরু থেকে, প্রথম বিবৃতিতেই বলেছিল, এ আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করা দরকার। এ পরিস্থিতির কোনো সামরিক সমাধান নেই।’

ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতি ‘বিপর্যয়কর’, ওবামার সাবেক উপদেষ্টা : বারাক ওবামার সাবেক উপদেষ্টা বেন রোডস বলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতি এবং ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত একটি বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এক্স প্ল্যাটফর্মে পোস্টে রোডস উল্লেখ করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা আমেরিকার ইতিহাসের একটি গভীর লজ্জাজনক অধ্যায়, পরবর্তী ঘটনা যাই হোক না কেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদা বিশ্বব্যাপী নষ্ট হয়েছে। এছাড়াও, রোডস ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে আরও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রভাব আসছে, এবং ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত রাশিয়ার নেতা পুতিনকে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করেছে। এদিকে ৪০ দিনের যুদ্ধ শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঐতিহাসিক পরাজয় হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য করা হয়েছে।

ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব, আলোচনার টেবিলে তেহরানের কঠোর শর্ত : আগামী শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া শান্তি আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ইরান যে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, তার বিস্তারিত সামনে এসেছে। এ প্রস্তাবগুলোতে ইরান কেবল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি সম্পূর্ণ বন্ধের দাবি জানিয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের ১০ দফা পরিকল্পনার প্রধান দিকগুলো হলো- হরমুজ প্রণালিতে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ: ইরান তার সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ‘নিয়ন্ত্রিত যাতায়াতের’ প্রস্তাব দিয়েছে। এটি কার্যকর হলে এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে ইরানের অপ্রতিদ্বন্দ্বী অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অবস্থান তৈরি হবে। এ ছাড়া তারা একটি ‘নিরাপদ ট্রানজিট প্রটোকল’ তৈরির দাবি করেছে, যা এই প্রণালিতে ইরানের আধিপত্য নিশ্চিত করবে। মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার: পুরো মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব যুদ্ধকালীন ঘাঁটি এবং সেনা মোতায়েন কেন্দ্র থেকে মার্কিন সৈন্য সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তেহরান। মিত্রশক্তির নিরাপত্তা: ইরান স্পষ্ট করেছে যে তাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে। এটি মূলত হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুতিদের ওপর হামলা বন্ধের দাবি। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও সম্পদ মুক্তি: ইরানের বিরুদ্ধে থাকা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক সব নিষেধাজ্ঞা বাতিল এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিচালনা পর্ষদের সব নেতিবাচক প্রস্তাব প্রত্যাহারের শর্ত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সব সম্পদ ও সম্পত্তি অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি: বিগত বছরগুলোতে ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বিভিন্ন সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির ‘পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ’ দাবি করা হয়েছে তেহরানের পক্ষ থেকে। আন্তর্জাতিক আইনি নিশ্চয়তা: ইরান দাবি করেছে যে ইসলামাবাদে সমঝোতা হওয়া প্রতিটি বিষয়কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি ‘বাধ্যতামূলক রেজোল্যুশন’ হিসেবে পাস করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ এর থেকে সরে যেতে না পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুক্রবার ইসলামাবাদে আলোচনা শুরু হচ্ছে- ইরান : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান। গতকাল বুধবার দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ বলেছে, তেহরানের ১০ দফা প্রস্তাবকে ভিত্তি করে আগামী শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে। তেহরানের এই ঘোষণার আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানি সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়ার যে হুমকি দিয়েছিলেন, সেটির বাস্তবায়ন আপাতত স্থগিত করছেন। যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহ ইরানের ওপর হামলা বন্ধ রাখবে। ট্রাম্প তখন আরও বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালিকে অবিলম্বে ‘পুরোপুরি ও নিরাপদে’ খুলে দিতে রাজি হয় কি না, তার ওপর এই যুদ্ধবিরতি নির্ভর করছে।

ইরানে হামলা হবে না, লেবাননে চলবে- ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী : দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে ইরানের ভূখণ্ডে হামলা না চালানোর কথা জানিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। তবে বলা হয়েছে, ইরানে বন্ধ করা হলেও লেবাননে হামলা চলবে। বুধবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী এ কথা জানায়। বিবৃতিতে সতর্ক করে দিয়ে এটাও বলা হয়েছে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের (যুদ্ধবিরতি) লঙ্ঘনের ঘটনায় আত্মরক্ষামূলক জবাব দিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’ রয়েছে। খবর বিবিসির।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত- পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গভীর বিনয়ের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র, তাদের মিত্রদেরসহ, অবিলম্বে সর্বত্র যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে—যার মধ্যে লেবাননসহ অন্যান্য অঞ্চলও রয়েছে, এবং এটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর। এই পরিকল্পনাটি তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে উপস্থাপন করেছিলেন বলেও জানান।