
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে অনেকগুলো হুবহু সংসদে পাস হয়েছে। তবে, কয়েকটি অধ্যাদেশ রহিত করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে জারি করা কিছু অধ্যাদেশ নিয়ে বিরোধী দল রাজনৈতিক ইস্যু তৈরির চেষ্টা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। গতকাল রোববার বিকালে সচিবালয়ের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের তড়িঘড়ি করে জারি করা কয়েকটি অধ্যাদেশকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল রাজনৈতিক ইস্যু তৈরির চেষ্টা করছে। গুম, মানবাধিকার ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সংশোধনের মাধ্যমে আরও গ্রহণযোগ্য আইন করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জারি করা অধ্যাদেশগুলোর সবকিছু যে নিখুঁত ছিল, তা নয়। আমি নিজেও গুমের শিকার। তাই গুম নিয়ে একটি শক্ত ও কার্যকর আইন প্রণয়ন করা হবে।’ ওয়াকআউট নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দল সংসদ থেকে কয়েক দফা ওয়াকআউট করেছে, যা সংসদীয় বিধি অনুযায়ী তাদের অধিকার। তবে, যেসব ইস্যুকে কেন্দ্র করে তারা ওয়াকআউট করেছে, সেগুলো বাস্তবসম্মত ছিল না। সংসদের বাইরে বিরোধী দল ভুল তথ্য উপস্থাপন করছে। বিরোধী দল যেসব অধ্যাদেশ নিয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিল, সেগুলোই পরবর্তীতে প্রায় হুবহু আকারে সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।’ জুলাই স্মৃতি জাদুঘর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পূর্ববর্তী খসড়ায় কিউরেটর স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে দীর্ঘসময় দায়িত্বে থাকার বিধান ছিল। সরকার বিষয়টি সংশোধন করেছে এবং ভবিষ্যতে সবার মতামতের ভিত্তিতে নতুন বিল আনা হতে পারে।’ গণভোট অধ্যাদেশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ওই অধ্যাদেশ অনুযায়ী গণভোট আয়োজন করেছে। তবে, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের আলোকে গণভোট হয়নি বলে বিতর্ক রয়েছে। রাষ্ট্রপতির জারি করা কিছু আদেশ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে, এ বিষয়টি নিয়ে আদালতে রিটও হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘গণভোট সম্পন্ন হয়েছে এবং এর বৈধতা রয়েছে। আপাতত নতুন আইনের প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আবার গণভোট আয়োজন করা হবে।’