সামগ্রিক পরিকল্পনা ছাড়া হকার উচ্ছেদ টেকসই হবে না

বলল আইপিডি

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

হকার উচ্ছেদে সম্প্রতি ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় যে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, তাতে ‘সমন্বিত পরিকল্পনা’র অভাব ছিল বলে সমালোচনা করেছে নগর পরিকল্পনাবিদদের সংগঠন ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, হকার উচ্ছেদে যে অভিযানে সাময়িকভাবে ‘কিছুটা’ সফলতা মিললেও সামগ্রিক পরিকল্পনা ছাড়া এটি টেকসই হবে না। হকারদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য দূরীকরণের সামগ্রিক পরিকল্পনা তৈরি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি রাজধানীর হকারকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি, ‘ফুটপাত বাণিজ্য’ নিয়ন্ত্রণে যে সিন্ডিকেট এবং সেটার যে ‘রাজনৈতিক অর্থনীতি’ আছে, তার পেছনের শক্তিগুলো চিহ্নিত করা দরকার বলে মনে করছে আইপিডি। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের দরিদ্র লোকেরা কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকার রাজপথে হকার বাণিজ্যকে দীর্ঘদিন ধরেই অনানুষ্ঠানিক বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা আসছে। এই ব্যবস্থার এক ধরনের অর্থনৈতিক প্রভাব ও গুরুত্ব আছে। তা সত্ত্বেও দুই কোটির বেশি জনসংখ্যা ধারণ করা ঢাকা শহরের পথচারী ও যানবাহনের চলাচলের জন্য ফুটপাতগুলোকে হকারদের অনুমোদনহীন ব্যবসা থেকে মুক্ত করে পথচারীদের চলাচলের জন্য সুযোগ করে দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। ফলে সামগ্রিকভাবে হকার ও নগর দারিদ্র্য সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই সমাধান খুঁজতে হবে সরকারকে।’

আইপিডির ভাষ্য, কিছু এলাকায় হকার উচ্ছেদে সাময়িক সফলতা এসেছে, ফলে নাগরিকরা স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারছে। কোথাও কোথাও হকাররা পুনরায় ফিরে এসেছেন। কোনো কোনো এলাকার রাস্তায় আবারও অবৈধ গাড়ি পার্কিংসহ অন্যান্য ব্যবহার আরম্ভ হয়ে গিয়েছে। সংগঠনটির অভিযোগ, উচ্ছেদ অভিযানের দোহাই দিয়ে কোথাও ‘আগের চেয়ে বেশি চাঁদা’ চাওয়া হচ্ছে, নতুন ‘রাজনৈতিক দখলদার ও চাঁদাবাজ’ অনেক এলাকায় সক্রিয় হচ্ছে। আইপিডি বলছে, ‘এটা বিস্ময়কর যে, ঢাকায় এখনো কোনো কার্যকর হকার নীতিমালা কিংবা আইন নেই। ফলে উচ্ছেদ অভিযান হয়ে উঠছে সাময়িক ব্যবস্থা, আর আড়ালেই থেকে যাচ্ছে হকার নিয়ন্ত্রণকারী সিন্ডিকেট।’ হকার উচ্ছেদের আগে যারা হকার বসায়, বিশেষ করে লাইনম্যান, রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী চাঁদার ভাগ পায়, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করে আইপিডি।