মার্কিন অবরোধ উপেক্ষা করে হরমুজ পাড়ি দিল ২৫ জাহাজ

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আলোকিত ডেস্ক

মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। সোমবার থেকে অবরোধ শুরুর পর গত মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত মোট ২৫টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করেছে। আরও ১৩টি জাহাজ অপেক্ষাধীন। বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, অবরোধ উপেক্ষা করে পার হওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে চারটি ট্যাঙ্কার ছিল। এগুলোর মধ্যে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘ক্রিশ্চিয়ানা’, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত ‘রিচ স্টারি’ ও ‘মুরলীকিষাণ’ এবং পানামার পতাকাবাহী ‘পিস গালফ’ উল্লেখযোগ্য। তবে এসব ট্যাঙ্কার গোয়াদর উপসাগর ও রাস আল হাদ্দের কাছাকাছি মার্কিন অবরোধ রেখার সামনে এসে থেমে থাকতে দেখা গেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে, মার্কিন নৌবাহিনী গোয়াদর উপসাগর থেকে ওমানের রাস আল হাদ্দ পর্যন্ত এলাকাজুড়ে বিস্তৃত রেখা বরাবর এই অবরোধ কার্যকর করছে। অবরোধের ফলে প্রায় দুই হাজার জাহাজ পারস্য উপসাগসের ভেতরে আটকে আছে এবং প্রায় ৪০০ জাহাজ প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।এদিকে শিপিং পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম ট্যাঙ্কার ট্রাফিক জানিয়েছে, অনেক জাহাজ নিজেদের প্রকৃত পরিচয় গোপন রাখতে ভুয়া অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) সিগন্যাল ব্যবহার করছে। ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর গত সোমবার থেকে এই অবরোধ কার্যকর করার নির্দেশ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালী পার হল চীনা জাহাজ : মার্কিন বাহিনীর অবরোধের মধ্যেই মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা একটি চীনা ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য প্রদানকারী সংস্থা এলএসইজি, মেরিনট্র্যাফিক ও কেপলারের তথ্যের বরাত দিয়ে রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ শুরু হওয়ার থেকে চীনা ট্যাংকার রিচ স্টারি প্রথম জাহাজ যেটি পারস্য উপসাগর থেকে বের হয়ে হরমুজ প্রণালি পার হল। ইরানের সঙ্গে লেনদেনে করায় ট্যাংকারটি ও এর মালিক কোম্পানি সাংহাই শুনরুন শিপিং কোম্পানি লিমিটেড এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এবার সেই কোম্পানির ওই ট্যাংকারটি মার্কিন নৌ-অবরোধ উপেক্ষা করল। তথ্য অনুযায়ী, রিচ স্টারি মাঝারি ধারণক্ষমতার একটি ট্যাংকার। হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় এটি প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল মিথানল বহন করছিল। জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়া বন্দর থেকে এ পণ্য লোড করেছিল। চীনের মালিকানাধীন এই ট্যাংকারটিতে চীনা ক্রু আছে বলে পাওয়া

তথ্যে দেখা গেছে।

এলএসইজির তথ্যে দেখা গেছে, মুরলিকৃষাণ নামের আরেকটি ট্যাঙ্কার মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ছোট এই ট্যাংকারটি ১৬ এপ্রিল ইরাক থেকে জ্বালানি তেল লোড করবে বলে কেপলারের তথ্যে দেখা গেছে। আগে এমকেএ নামে পরিচিত এই ট্যাংকারটি রুশ ও ইরানি তেল সরবরাহ করে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ শুরু করেছে। রোববার সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, ইরানি বন্দরগুলো ও উপকূলীয় এলাকাগুলোতে প্রবেশ করতে থাকা ও সেখান থেকে বের হতে থাকা সব সব দেশের সব ধরনের সামুদ্রিক জলযানের ক্ষেত্রে এ অবরোধ কার্যকর হবে। আর এর প্রতিক্রিয়ায় পারস্য উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশের বন্দরগুলোতে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে তেহরান।

মার্কিন নৌ-অবরোধ না তুললে লোহিত সাগর বন্ধের হুমকি ইরানের : যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের পাশাপাশি লোহিত সাগরেও বাণিজ্যপথ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী সোমবার এক বিবৃতিতে এই কঠোর হুমকি দেয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে দেশটির সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারের প্রধান আলী আবদুল্লাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের অবরোধ অব্যাহত রাখে এবং ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাঙ্কারের জন্য নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে, তবে তা হবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের মতোই। আলী আবদুল্লাহি আরও বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগরে কোনও ধরনের আমদানি বা রফতানি কার্যক্রম চলতে দেবে না। ইরান যদি লোহিত সাগর অবরুদ্ধ করার পদক্ষেপ নেয়, তবে তারা ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুথি বিদ্রোহীদের সক্রিয় করার মাধ্যমে তা কার্যকর করতে পারে।

ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে- মাসুদ পেজেশকিয়ান : ইরানকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যেকোনো প্রচেষ্টা ‘ব্যর্থ হবে’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ইরানের জনগণ এ ধরনের পদক্ষেপ কখনো মেনে নেবে না। বুধবার তেহরানে জরুরি পরিষেবা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেছেন, তেহরান ‘যুদ্ধ বা অস্থিতিশীলতা নয়’, বরং সব সময়ই ‘গঠনমূলক আলোচনা’র পক্ষে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এমন এক সময় এসব কথা বলেছেন যার কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, চলতি সপ্তাহেই পুনরায় শান্তি আলোচনা শুরু হতে পারে। তবে তেহরান এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। হরমুজ প্রণালি ঘিরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। অবরোধ অব্যাহত রেখেই আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফের ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। এদিকে ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধের প্রথম দিন পাল্টাপাল্টি দাবি ও সন্দেহের মধ্য দিয়ে পেরিয়েছে। মার্কিন বাহিনী দাবি করেছে, তাদের কড়াকড়ির কারণে ওই পথ দিয়ে কোনো জাহাজ বের হতে পারেনি। যদিও বিবিসির অনুসন্ধানী তথ্যে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। স্যাটেলাইটের ডাটা অনুযায়ী, অবরোধের মধ্যেই অন্তত চারটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।

যুদ্ধের ক্ষতিপূরণে ‘ন্যূনতম ২৭ হাজার কোটি ডলার’ চায় ইরান : ওয়াশিংটন-তেহরান সংঘাত অবসানে বিভিন্ন দেশ যখন মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তখন দৃঢ়চেতা ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। জাতিসংঘে তেহরানের দূত মঙ্গলবার বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ৫টি দেশ, যারা ইরানে হামলায় ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে তাদেরকে এ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। হরমুজ প্রণালিতে শুল্ক বসানোর মাধ্যমেও এ ক্ষতিপূরণ আদায় করা যেতে পারে, ইরান এ বিষয়টিও সামনে এনেছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। যুদ্ধের আগে বিশ্বের তেল-গ্যাসের ২০ শতাংশই ইরানলাগোয়া এ প্রণালি দিয়ে গন্তব্যে যেত। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর ইরানের প্রত্যক্ষ-অপ্রত্যক্ষ প্রায় ২৭ হাজার কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক এক মূল্যায়নে ইঙ্গিত মিলেছে, রুশ বার্তা সংস্থা রিয়া নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলেছেন ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমা মোহাজেরানি। সাক্ষাৎকারটি মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়।

কোন খাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কেমন, তার বিস্তারিত জানাননি ফাতেমা। তবে বলেছেন, পাকিস্তানে চলতি সপ্তাহে হওয়া তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনায় ক্ষতিপূরণের প্রসঙ্গটি উত্থাপিত হয়েছিল এবং সামনে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যে কোনো সম্ভাব্য বৈঠকেও প্রসঙ্গটি থাকবে। পাঁচ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম কারখানা, পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনা, তেল ও গ্যাস ক্ষেত্র এবং নানান সংবেদনশীল স্থাপনা নিয়মিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার শিকার হয়েছে। এগুলো মেরামতে কয়েক বছর পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। দেশটির অসংখ্য সেতু, বন্দর, রেললাইন, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা কেন্দ্র, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে; ধ্বংস হয়েছে বিপুল সংখ্যক হাসপতাল, স্কুল, বেসামরিক বাড়িঘরও। ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণের কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি বলে জানিয়েছে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির সরকার।

অর্থনৈতিক বাস্তবতা : দিনকয়েক আগে ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে মুখপাত্র ফাতেমা বলেন, ‘বিদ্যমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার’ কারণে সরকারের কাছে এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িঘরের মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সম্পদ নেই। এদিকে ইরানি এয়ারলাইনস অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক মাকসুদ আসাদি সামানি ইরানি গণমাধ্যমকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামরায় তাদের ২০টি বেসামরিক উড়োজাহাজ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে ৬০টি উড়োজাহাজ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়েছে। এখন ১৬০টির মতো যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ আছে, যেগুলোর বেশিরভাগই কয়েক দশকের পুরনো এবং সেগুলো আকাশে ওড়াতে ব্যাপক রক্ষণাবেক্ষণ কাজের দরকার হয়। কিন্তু মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম না মেলায় ওই রক্ষণাবেক্ষণও কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে, বলেছেন এ কর্মকর্তা।

সামানি জানান, ইরানি এয়ারলাইনগুলো মার্চের শেষ দিকে হওয়া নওরোজ বা পারসি নববর্ষের দিকে তাকিয়ে ছিল। সাধারণত এই সময়েই তাদের ব্যাপক আয় হয়। কিন্তু ৪০ দিনের যুদ্ধ সে সম্ভাবনাও নিঃশেষ করে দিয়েছে। এ যুদ্ধে তাদের মোট ক্ষতির পরিমাণ ৩০০ ট্রিলিয়ান রিয়াল (প্রায় ১৯ কোটি ডলার) বলে তিনি জানান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একের পর এক হামলায় তেহরান, তাবরিজ, উরমিয়া ও খুররামাবাদসহ ইরানের একাধিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে, কন্ট্রোল টাওয়ার ও হ্যাঙ্গারেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতসব ক্ষয়ক্ষতি, সঙ্গে সোমবার থেকে ইরানি বন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে শুরু হওয়া মার্কিন নৌ অবরোধের পরও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সামনে সম্ভাব্য যে কোনো আলোচনায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েই বড় ছাড় দেওয়া হবে না বলে ইরানি শাসকরা আভাস দিয়েছেন।

কট্টরপন্থি অধ্যুষিত দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়ানো উচিত হবে না। কেননা তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে তাদের অস্ত্রভাণ্ডার পূরণ ও নতুন হামলার সুযোগ করে দেবে। তাদের হয় হরমুজের ওপর নিয়ন্ত্রণসহ ইরানের সব অধিকারের স্বীকৃতি দিতে হবে, নাহলে যুদ্ধে ফিরতে হবে, লিখেছেন তিনি। ইরান ২০২৪ সালে তাদের সামরিক খাতে প্রায় ৮০০ কোটি ডলার খরচ করে বলে জানিয়েছে থিঙ্কট্যাংক স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআর)। ওই বছরের অক্টোবরে ইসরায়েলের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির কর্মকর্তা এই ব্যয় তিনগুণ বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছিলেন। তবে স্থানীয় পর্যায়ে ‘অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি’ এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার করণে দেশটির সরকার বছরের পর বছর ধরে বাজেট সঙ্কটে ভুগছে, বলছে আল জাজিরা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আবার আলোচনায় বসানোর চেষ্টায় সৌদি, কাতার ও তুরস্ক সফরে শাহবাজ : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় বসানোর চেষ্টায় সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কে চার দিনের সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এমনটা জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, গতকাল বুধবার থেকে আগামী শনিবার পর্যন্ত শাহবাজের এ সরকারি সফর চলবে। সৌদি আরব ও কাতারে দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ে আলোচনা হবে। আর তুরস্কে আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের ফাঁকে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানসহ অন্যান্য নেতার সঙ্গে আলোচনা করবেন শাহবাজ। গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি একটি বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, শাহবাজ শরিফ আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা জোরদার করে শান্তিপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চান বলে প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছেন। এ উদ্যোগ এমন সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে। ২২ এপ্রিল পর্যন্ত এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও অন্যান্য শক্তিধর পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে শান্তি প্রক্রিয়া টিকিয়ে রাখার জন্য শাহবাজ শরিফের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জারদারি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের মধ্যে ২১ ঘণ্টার সরাসরি আলোচনা কোনো ফল ছাড়াই শেষ হওয়া সত্ত্বেও নতুন দফার শান্তি আলোচনা নিয়ে আশাবাদ থাকছে। ট্রাম্প নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে আবারও আলোচনা শুরু হতে পারে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথমে আলোচনা ইউরোপে হওয়ার কথা থাকলেও পরে সেটি ইসলামাবাদে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ‘চমৎকার কাজ করছেন’ বলেও উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প।

ইরানকে অস্ত্র না দিতে শি জিনপিংকে ট্রাম্পের চিঠি : ইরানকে কোনো ধরনের অস্ত্র সরবরাহ না করতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে একটি চিঠি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর জবাবে চীন তেহরানকে কোনো অস্ত্র দিচ্ছে না বলে ট্রাম্পকে নিশ্চিত করেছেন শি জিনপিং। বুধবার ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্কে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজেই এ তথ্য জানান। মঙ্গলবার রেকর্ড করা ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অবশ্য নির্দিষ্ট করে জানাননি, ঠিক কবে এই চিঠিগুলো বিনিময় হয়েছে। তবে গত সপ্তাহেই তিনি একটি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, কোনো দেশ যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে সেই দেশের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ শতাংশ ট্যারিফ বা শুল্ক আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাকে (শি জিনপিং) একটি চিঠি লিখে অনুরোধ করেছি যেন তারা এটা (অস্ত্র সরবরাহ) না করে। জবাবে তিনিও আমাকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন যে, মূলত তারা তা করছেন না।’ মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ এবং ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি বিশ্ব তেলের বাজারে প্রভাব ফেললেও, আগামী মাসে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের নির্ধারিত বৈঠকে এর কোনো প্রভাব পড়বে না বলে তিনি মনে করেন। এ প্রসঙ্গে চীনের তেলের চাহিদার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘তার (শি জিনপিং) তেলের প্রয়োজন আছে, কিন্তু আমাদের নেই।

ইরান যুদ্ধ ‘শেষের পথে’- ট্রাম্প : মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। তিনি বলেন, আমার মনে হয়, এটি শেষ হওয়ার একদম দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। যুদ্ধের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে ইরান এতদিনে পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হয়ে যেত। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের হাতে এমন অস্ত্র থাকলে বৈশ্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নিত। ট্রাম্প জানান, পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে ইরান একটি সমঝোতায় যেতে আগ্রহী হতে পারে।