তেল সংকটের প্রভাব নিত্যপণ্যে, দুর্ভোগ

* পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি কাঁচাবাজারে বাড়তি দাম * জটলা, ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত চালকরা * দেশে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি পরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুত আছে : প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকটে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক তেল পাচ্ছেন না। আবার যেসব গাড়ি জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছে, সেগুলোর ভাড়া বেড়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ। জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব রাজধানীর কাঁচাবাজারে পড়েছে। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও সরবরাহ চেইনের ঘাটতিতে সবজি, মাছসহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এতে চাপে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ।

গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, হাতে গোনা কয়েকটি পণ্য ছাড়া অধিকাংশ সবজির দামই কেজিতে ৮০ টাকার ওপরে। পটল, করলা, কাকরোল, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা, টমেটো, শিম ও বেগুনসহ নানা সবজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। তবে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে কাঁচামরিচের দাম, যা বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৬০ টাকায়। এই বাড়তি দামের চাপ সরাসরি পড়ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর। বাজার তদারকির দুর্বলতাকেই এর জন্য দায়ী করছেন ক্রেতারা।

নদীতে মাছ ধরতে জেলেদের যেতে না পারায় তৈরি হয়েছে মাছের সংকট। জ্বালানি ঘাটতি ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় নদীর মাছের দাম কেজিতে বেড়েছে প্রায় ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে ভোজ্য তেলের বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। ক্রেতাদের গুনতে বাড়তি টাকা। তবে এর সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে ১ লিটার সরিষার তেল কিনতে হচ্ছে, যা বড় কোম্পানিগুলোর প্রতারণা বলে মনে করছেন বিক্রেতারাই। সব মিলিয়ে জ্বালানি সংকটের প্রভাব এখন সরাসরি পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে, আর এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছেন সাধারণ ভোক্তারা।

সরবরাহ ভালো হলেও পরিবহন খরচে বাড়ছে সবজির দাম। শুক্রবার বেশকয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, স্বাভাবিক হয়নি ভোজ্যতেলের সরবরাহও। বিক্রেতাদের দাবি, পণ্য পরিবহনের অতিরিক্ত ভাড়ার জন্য দাম বেশি। খরচ স্বাভাবিক হলে দাম হয়তো স্বাভাবিক হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন বাস্তবতাই তুলে ধরছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেল সংগ্রহে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন চালকরা। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় মিলছে না প্রয়োজনীয় তেল। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চালকরা। রাজধানীর পরীবাগের একটি ফিলিং স্টেশনে গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার সময় ৫১৮টি মোটরসাইকেল ও ৪৯৩টি প্রাইভেটকার তেলের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। এই স্টেশনে মোট ১ হাজার ১১টি যান লাইনে দাঁড়ানো। মৎস্য ভবনের আরেকটি ফিলিং স্টেশনেও অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের সংখ্যা কাছাকাছি। সেখানে সকাল ১০টার সময় তেল নিতে লাইনে আছে ৪২২টি মোটরসাইকেল ও ৩৫৮টি প্রাইভেটকার।

যানবাহনের সংখ্যা গুনেই বোঝা যায় তেলের জন্য অপেক্ষমাণ লাইন কতটা লম্বা। আর একেকজনকে কত ঘণ্টা ধরে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। পরীবাগের মেঘনা মডেল ফিলিং স্টেশনে প্রাইভেট কারের চালক আখতার হোসেন বলেন, ‘তেল না নিলে তো আমাদের চাকরি থাকবে না, সে জন্য যত কষ্টই হোক, আমাদের তেল নিতে হবে। এরপর আবার ডিউটি করতে হবে।’ গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন বলে জানান আখতার। শুক্রবার বেলা ১১টায়ও তিনি তেল পাননি। যখন কথা হয়, তখন তার সামনে আরও তিনটি গাড়ি তেলের জন্য লাইনে দাঁড়ানো ছিল। আখতার হোসেনের অপেক্ষার সমান অপেক্ষায় আছেন মোটরসাইকেলের চালক সাইফুল ইসলাম। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মৎস্য ভবনে রমনা ফিলিং স্টেশনে কথা হয় এই চালকের সঙ্গে। তিনি জানান, গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত সাড়ে ৯টার সময় লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা পার হয়েছে। তবু তেল পাননি। এই মোটরসাইকেলের চালক বলেন, ‘চাকরি করি। শুক্রবার ছুটির দিন হিসেবে একটু বিশ্রাম নেব, পরিবারকে সময় দেব, কিন্তু এই তেলসংকট শুরু হওয়ার পর থেকে আর কোনো কিছু করতে পারছি না। বৃহস্পতিবার পুরো রাত, শুক্রবার পুরো দিন কেটে যায় তেল নিতে নিতে। এই ভোগান্তি থেকে কবে মুক্তি পাব, জানি না।’ এই ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছেন না আরেক চালক আবদুর রহিম। তিনি জানান, গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত ৯টার সময় লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। আজ (শুক্রবার) বেলা ১১টা পেরিয়ে গেলেও তিনি তেল পাননি। কখন পাবেন, সেটিও জানেন না। আবদুর রহিম অভিযোগ করে বলেন, সরকার, মন্ত্রীরা সবাই বলে তেলের কোনো সংকট নেই। তেল নাকি আরও আসছে। কিন্তু পাম্পে বাস্তবতা আলাদা। চালকেরা জানান, ফিলিং স্টেশনগুলোয় তেলের জন্য লাইন কমার বদলে উল্টো বাড়ছে। ঢাকার জিয়া উদ্যানের লেকপাড়ের সেতুর সামনে নিজের হিরো হাংক মোটরসাইকেল নিয়ে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে তেলের লাইনে দাঁড়ান মো. ইস্রাফিল। শুক্রবার সকাল ৭টায় তিনি যখন সংসদ ভবনের ফটকে তালুকদার ফিলিং স্টেশনের ভেতরে গেলেন, সামনে আর মাত্র তিনটি বাইক। তখনই জানিয়ে দেওয়া হল, তেল শেষ। সে সময় ফিলিং স্টেশনের ভেতরে ছিল ৩০টির মতো মোটরসাইকেল। তাদেরকে জুম্মার নামাজের পরে আসতে বলে ফটক লাগিয়ে দেন কর্মীরা। দুপুর দেড়টার দিকে সেখানে দেখা যায় অপেক্ষমাণ ওই চালকদের জটলা, তারা সবাই ক্ষুব্ধ-বিরক্ত। তারা বলছেন, সরকারের পক্ষ থেকে একবারও বলা হচ্ছে না তেল অপর্যাপ্ত। তাহলে সংকটটা কোথায়? সেটাই চিহ্নিত করছে না কেউ। একমাসের বেশি সময় ধরে তেলের জন্য এ যে চরম ভোগান্তি সইতে হচ্ছে, সে কথা তুলে ধরে এই চালকরা বলছেন, নিশ্চিতভাবে সরকার সমস্যা ‘লুকাচ্ছে’ অথবা সরকারের লোকেরাই কোনো ‘কারসাজি করে তেল মজুদ করছে’।

তালুকদার ফিলিং স্টেশনের লাইনে গত ১৫-১৬ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে এই মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে বেশ একটা ‘ভাই-বেরাদর’ সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেছে। সেখানেই মোটরসাইকেল রেখেই কেউ বাসায় গেছেন, কেউ কাজ সেরে ফিরেও এসেছেন, আবার কেউ বাসায় গিয়ে বিশ্রাম নিয়ে বাজার করে এসেছেন। তখনো এই ফিলিং স্টেশনে তেলের লরি ঢোকেনি। কিন্তু তেল নিতে আসা গাড়ির সারি জিয়া উদ্যান পার হয়ে খেজুর বাগানের দিকে বাঁক নিয়েছে।

শাহীন সরকার নামে একজন বলছিলেন, ‘আমিও রাত ৮টার কিছু পরে লাইনে দাঁড়ালাম। ভোরের দিকেই পাম্পের লোকজন মাইকিং করা শুরু করছে যে তেল শেষ হয়ে যাবে। তারা সর্বোচ্চ আর দুইশ বাইকে তেল দিতে পারবে। সকাল সাতটায় পাম্পের সীমানার ভেতরে ঢুকলাম। আমার সামনে তখন ২৮টা মোটরসাইকেল। এই সময় তেল দেওয়া বন্ধ হয়ে গেল।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সারা রাত নির্ঘুম থাকার কষ্ট, মশার কামড়, গরম, ধুলাবালি সবকিছু সয়ে যখন এখানে ঢুকলাম, তখন বলল তেল শেষ। কেমনটা লাগে বলেন।’ ভেতরে যে বাইকগুলো ছিল তারা নিজেরাই আলোচনা করে সেগুলো সারিবদ্ধভাবে রাখার কথা তুলে ধরে শাহীন বলছিলেন, ‘এরপর কেউ বাসায় গেছেন, কেউ ডিউটিতে। কয়েকজন ফিরে আসার পর আবার কয়েকজন বাসায় গেছেন। একজন যখন এসেছেন অন্যদের জন্য খাবার ও পানি নিয়ে এসেছেন। এভাবেই সময় পার করছি। একেবারে যুদ্ধ পরিস্থিতি।’

ইস্রাফিল বলছিলেন, ‘আমি মিরপুর, গাবতলীর ওই পাশে অনেকগুলো পাম্প ঘুরে তেল পাইনি। এখানে লাইনে দাঁড়িয়েছি। সরকার দেখি বড় গলায় বলছে, তেল মজুদ আছে, তেলের সরবরাহ ঠিক আছে, পেট্রোল-অক্টেন দেশেই উৎপাদিত হয়। তাহলে আমাদের কেন এই কষ্ট করতে হচ্ছে?’ ইস্রাফিলের সাথে গলা মেলান অন্যরা। তাদের একজন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে ইউরোপসহ নানা দেশে তেলের সংকট দেখা দিচ্ছে। কোনো দেশে দাম বাড়িয়েছে। আমরা তো সেগুলো টিভিতে, পেপারে দেখছি। কিন্তু আমাদের এখানে বলা হচ্ছে তেলের মজুদ আছে, আরও তেল কেনা হচ্ছে, সরবরাহও ঠিক আছে-তাহলে সংকটটা কোথায়।

নিজের নাম বলতে না চাওয়া ওই ব্যক্তি বলেন, সরকার তেলের সরবরাহ ঠিকমতো দিলে সেই তেল কোথায় যায়? যদি ধরা যায়, ১০-২০ বা ৩০ শতাংশ তেল কম সরবরাহ করা হচ্ছে। তবুও তো এমন পরিস্থিতি হওয়ার কথা না। বেশিরভাগ পাম্পে তেল নেই বলা হচ্ছে। যেখানে তেল আছে সেখানে হাজারো মানুষের ভিড়। নিশ্চিত কোথাও একটা বড় ফুটো আছে, যেখানে সব তেল চলে যাচ্ছে। সেই সমস্যাটাই আমাদের কাছ থেকে লুকোচ্ছে সরকার।

মজুদ নিয়ে যা বলেছেন প্রতিমন্ত্রী অমিত : শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিদর্শনে এসে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘আমি অত্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে এবং গর্বের সাথে বলতে পারি— বাংলাদেশের ইতিহাসে যেটি কখনোই হয়নি, বর্তমানে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচাইতে বেশি পরিশোধিত জ্বালানি আমাদের মজুদ আছে। আপনারা গতকাল বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় দেখেছেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন পর্যন্ত আশঙ্কা করছে যে তাদের হাতে মাত্র ছয় সপ্তাহের জেট ফুয়েল রয়েছে। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এই বাংলাদেশেও ছয় সপ্তাহ সমপরিমাণ জেট ফুয়েল রয়েছে।’ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে অপরিশোধ জ্বালানি তেল আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল পরিশোধন কোম্পানি ইস্টান রিফাইনারির উৎপাদন বন্ধের পর্যায়ে রয়েছে বলে খবর এসেছে। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এপ্রিল ও মে মাসের যে জ্বালানি চাহিদা, সেটি আমরা সংগ্রহ করেছি এবং যেটি নিশ্চিত সরবরাহ লাইনে আছে এবং সেটিকে বিবেচনায় নিয়ে বলতে পারি এপ্রিল এবং মে মাসে যে চাহিদা, সেটি পূরণের পূর্ণ সক্ষমতা বাংলাদেশ সরকারের রয়েছে। সেটি আমরা নিশ্চিত করতে সক্ষম হওয়ায় এখন মূলত জুন মাসের প্রয়োজন মেটাবার জন্য আমরা কাজ করছি।’

একসঙ্গে ১২ দিনের ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে চার জাহাজ : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের পর থেকে সবচাইতে বড় ডিজেলের চালান নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে চারটি জাহাজ। চার জাহাজে আসছে এক লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেল। এ পরিমাণ জ্বালানি দিয়ে প্রায় ১২ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে। এর মধ্যে শুক্রবার ডিজেলবাহী তিনটি ট্যাংকার (জাহাজ) চট্টগ্রাম বন্দরের বহিনোর্ঙরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আগামী রবিবার আসবে আরও একটি জাহাজ। চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার এমটি ওকট্রি, এমটি কেপ বনি ও এমটি লিয়ান সং হু- এই তিনটি ট্যাংকার বন্দরে ভিড়বে। আর এমটি গোল্ডেন হরাইজন নামের আরেকটি ট্যাংকার রবিবার পৌঁছানোর কথা রয়েছে। চারটি ট্যাংকারের স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এসব ট্যাংকার জাহাজ বন্দরে পৌঁছাবে এবং নির্দিষ্ট সময়ে খালাস শুরু হবে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, দেশে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা সাড়ে ১২ হাজার টন। সেই হিসাবে, নতুন আসা এই ডিজেল দিয়ে ১২ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে।