হাম ৬১ জেলায়, মৃত্যু বাড়ছে

* আরও ৫ শিশুর মৃত্যু * রাজশাহী মেডিকেলে বোর্ড গঠন

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) বলছে, দেশের ৬১টি জেলায় হাম ছড়িয়ে পড়েছে। হামে আক্রান্ত শিশুদের ৮৩ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের নিচে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ধারণা, হামের প্রাদুর্ভাব আরও এক থেকে দেড় মাস স্থায়ী হতে পারে। তারা বলেছে, ইতিমধ্যে বেশি সংক্রমণ এমন এলাকাগুলোয় (হটস্পট) টিকাদান চলছে। দেশব্যাপী টিকাদান শুরু হবে তিন দিন পর, ২০ এপ্রিল। এর পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের বিচ্ছিন্ন রেখে (আইসোলেশন) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্যবিদেরা মনে করছেন, টিকাদান, আইসোলেশন ও মানুষের সতর্কতার কারণে হামের সংক্রমণ কমে আসতে পারে। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘দেশব্যাপী হামণ্ডরুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬: গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) পক্ষ থেকে হামের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের শিশুদের বর্তমানে হামে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। ২০২৩ সালে ৮৬ শতাংশ শিশু টিকার প্রথম ডোজ ও ৮১ শতাংশ শিশু দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে। চার-পাঁচ বছরে টিকা না পাওয়া বা অরক্ষিত শিশুর সংখ্যা হয়েছে এক বছরে জন্ম নেওয়া শিশুর সমান বা তার বেশি। এমন পরিস্থিতিতে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।

নবজাতকের স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেন এমন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দেশে বছরে প্রায় ৩৪ লাখ শিশু জন্মগ্রহণ করে। ইপিআইয়ের হিসাবে হাম­-রুবেলার টিকা না পাওয়া শিশুর সংখ্যা ৩৪ লাখ বা তার বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. জাহিদ রায়হান বলেন, ‘আমরা হটস্পটগুলোতে টিকাদান শুরু করেছি। আমরা হামে আক্রান্ত শিশুদের আইসোলেশনে রাখার ব্যবস্থা করেছি। হাম এখন আর ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে না। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আমাদের জানিয়েছেন, এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব নিম্নগামী হবে।’

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হাম প্রতিরোধে টিকার ভূমি অনেক বেশি। বিশিষ্ট রোগতত্ত্ববিদ এবং সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, টিকার দেশব্যাপী ক্যাম্পেইন শুরু হবে ২০ এপ্রিল। সাধারণত ক্যাম্পেইন শুরুর দু–তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রাদুর্ভাব কমতে দেখা যায়। ঠিকমতো টিকা কার্যক্রম পরিচালিত হলে আশা করা যায়, প্রাদুর্ভাব থাকবে না।

ইপিআই বলছে, হাম যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে। তবে শিশুদের মধ্যেই এর প্রকোপ, জটিলতা ও মৃত্যু বেশি দেখা যায়। হামের জটিলতার মধ্যে আছে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি, এনকেফালাইটিস, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা, শ্রবণপ্রতিবন্ধিতা।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (গত বুধবার সকাল আটটা থেকে গতকাল সকাল আটটা পর্যন্ত) সারা দেশে ৯২ জন হামের নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হামে মারা গেছে ২ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ বছরের জানুয়ারিতে প্রথম হাম শনাক্ত হয় কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে। সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের হিসাবে এ পর্যন্ত সারা দেশে ৩ হাজার ৬৫ জন হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। অন্যদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে ১৭২ জনের ও হামে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে বেশি।

হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর ৫ এপ্রিল ১৮ জেলার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলা ও ১৩টি পৌরসভায় হাম–রুবেলার টিকাদান শুরু হয়েছে। ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকাদান শুরু হয়, চলবে চার সপ্তাহ ধরে। আর ২০ এপ্রিল থেকে দেশের সব উপজেলা, জেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে টিকাদান শুরু হবে, চলবে চার সপ্তাহ ধরে।

ইপিআই থেকে জানানো হয়েছে, দেশের ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী (পাঁচ বছর) সব শিশুকে এক ডোজ হাম–রুবেলার টিকা দেওয়া হচ্ছে বা হবে। আগে হাম–রুবেলার টিকা পেয়ে থাকলেও অথবা শিশু হাম বা রুবেলায় আক্রান্ত হয়ে থাকলেও ওই বয়সের সব শিশুকে এক ডোজ টিকা দেওয়া হবে।

টিকা দেওয়া হবে নার্সারি, কিন্ডারগার্টেন, ইবতেদায়ি, মক্তব, এতিমখানা ও শিশু আশ্রমে। এসব প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত পাঁচ বছরের কম বয়সী ছাত্র–ছাত্রীকে টিকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া যেসব শিশু স্কুলে যায় না কিংবা স্কুলে টিকা নেয়নি, তারা যে এলাকায় থাকে, সেখানকার নিয়মিত টিকাদান কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হবে।

ক্যাম্পেইন চলাকালে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতাল, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের হাসপাতাল এবং সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র পরিচালিত হবে। শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন এসব কেন্দ্র চালু থাকবে। ক্যাম্পেইন চলার সময় এসব কেন্দ্র থেকে রুটিন টিকাও দেওয়া যাবে।

ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও দুর্গম এলাকার জন্য অতিরিক্ত কেন্দ্র করবে বলে জানিয়েছে ইপিআই। এর মধ্যে আছে দোকান বা বাজার, কারখানা, চালকলের মতো স্থানে মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশু, বেদে বহরের শিশু, পথশিশু, হাসপাতালে মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশু, জেলখানায় মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশু, যৌনপল্লির শিশু, বস্তির শিশু। এ অতিরিক্ত কেন্দ্রগুলোয় টিকাগ্রহীতার সুবিধামতো সময়ে (বিকেলে বা রাতে) টিকা দেওয়া হবে। বাকি সব কেন্দ্রে ক্যাম্পেইনের টিকা দেওয়া হবে সকাল আটটা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত।

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বলা হয়, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ থেকে হাম নির্মূলের (এলিমিনেশন) লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা ছিল। নির্মূলের অর্থ হচ্ছে, দেশে এক বছরের মধ্যে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে হামের কোনো সংক্রমণ থাকবে না। এ রকম পরিস্থিতি টানা দুই বছর অব্যাহত থাকলে হাস নির্মূলের স্বীকৃতি পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছ থেকে, কিন্তু চলমান প্রাদুর্ভাবের কারণে বিষয়টি আর হলো না।

কর্মশালায় একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, আবার হাম নির্মূলের পর্যায়ে আসতে বাংলাদেশের কত বছর সময় লাগবে। এর কোনো উত্তর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ইউনিসেফের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। অনুষ্ঠানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক আইভিডি (ইমিউনাইজেশন অ্যান্ড ভ্যাকসিন ডেভেলপমেন্ট) সমন্বয়কারী ড. বিনোদ কুমার বলেন, হামণ্ডরুবেলার টিকার ক্যাম্পেইনের পাশাপাশি বাংলাদেশকে নিয়মিত টিকা কার্যক্রম সঠিকভাবে চালিয়ে যেতে হবে। টিকা কার্যক্রম সঠিক হলে শিশুরা সুরক্ষিত থাকবে।

ওই অনুষ্ঠানে ইপিআই জানিয়েছে, বাংলাদেশ ঘনবসতি পূর্ণ দেশ হওয়ায় হামের জীবাণু দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ দেশে শিশু জন্মহার বেশি এবং টিকা গ্রহণের হার কম হওয়ায় হামণ্ডরুবেলার বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়নি। ২০২০ সালে হামণ্ডরুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন করার ফলে হামের প্রাদুর্ভাব বহুলাংশে কমে যায়। রোগ নিরীক্ষণ তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের পর থেকে হাম রোগে আক্রান্তের হার বাড়তে থাকে এবং ২০২৬ সালে হামের প্রকোপ অনেক গুণ বৃদ্ধি পায়। বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ৮০ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের নিচে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ফোয়ারা তাসমীন বলেন, ‘হামে শিশুমৃত্যু কাম্য ছিল না। আমরা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য যা যা করা দরকার, আমরা সেভাবে পদক্ষেপ নিয়েছি।’

দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু: দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তিন শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাকি দুই শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এই হিসাব ১৬ এপ্রিল সকাল আটটা থেকে আজ ১৭ এপ্রিল সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১১৫ শিশু। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ১২৭ শিশুর।

গত ২৪ ঘণ্টায় হামে যে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে দুই শিশু বরিশাল বিভাগের বরগুনা জেলার। আর একটি ঢাকা বিভাগের। হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া দুই শিশুই ঢাকা বিভাগের। এই সময়ে সর্বোচ্চ ১২০ শিশুর হাম শনাক্ত হয় ঢাকা বিভাগে। ৫ শিশুর হাম শনাক্ত হয় রাজশাহী বিভাগে। বরিশাল ও খুলনায় একটি করে শিশুর হাম শনাক্ত হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ১১৫ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা যায়। এর মধ্যে ৫১৫ জনই ঢাকা বিভাগের। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৬৯ শিশু। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৫৭ শিশু ভর্তি হয়। সবচেয়ে কম ৪ শিশু ভর্তি হয় রংপুর বিভাগে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ৭৪৭ শিশু গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩১৩ শিশু, খুলনা বিভাগে ১১৮ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে মোট ৩৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৭৪ শিশুর। একই সময়ে হামের উপসর্গ থাকা রোগীর মোট সংখ্যা ২১ হাজার ৪৬৭। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৮৯৮। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ১৯২ জনের হাম শনাক্ত হয়। আর হাসপাতাল থেকে ছাড় পাওয়া রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ২৪৩।

রাজশাহী মেডিকেলে হামের চিকিৎসায় ৮ সদস্যের বোর্ড গঠন: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গের রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। অবশেষে এই সংক্রামক রোগের চিকিৎসায় একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার আট সদস্যের এই বোর্ড গঠন করা হয়।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলামের এক আদেশে বলা হয়েছে, হাসপাতালে হাম রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাম–পরবর্তী জটিলতায় সংকটাপন্ন রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে এই মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হলো। বোর্ডের সদস্যরা প্রয়োজন অনুযায়ী সরেজমিনে কার্য সম্পাদন করবেন।

হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক শাহিদা ইয়াসমিনকে এই মেডিকেল বোর্ডের সভাপতি করা হয়েছে। অন্য সাত সদস্য হলেন মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক অধ্যাপক আজিজুল হক, নিউরো মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মনজুর এলাহী, রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আহমদ যায়নুদ্দীন সানী, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শারমিনা আফতাব, হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) ইউনিট প্রধান আবু হেনা মোস্তফা কামাল, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান মিজানুর রহমান ও কার্ডিওলজি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট রকিবুল হাসান রাসেদ। হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘এটি হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম। রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সব বিভাগের প্রধান কিংবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে এ ধরনের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়ে থাকে। এটিও সে রকম বোর্ড।’

রাজশাহী অঞ্চলে গত মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে হাম রোগের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। এর পর থেকেই হাসপাতালে রোগীরা আসতে থাকেন। রোগটি ছোঁয়াচে হলেও শুরুর দিকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডেই অন্য সব শিশুর সঙ্গে গাদাগাদি করে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদেরও চিকিৎসা চলছিল। অবশেষে মার্চের শেষের দিকে এসে আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হয়।

হাসপাতালে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এই সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন ১১ শিশু ভর্তি হয়েছে। আর সুস্থ হওয়ায় ছাড়পত্র পেয়েছে ২৯টি শিশু। সংক্রমণ শুরুর পর এ পর্যন্ত ৬১৩ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১৪৫টি শিশু।