সংসদে দাঁড়িয়ে অসত্য তথ্য দেওয়া জাতির জন্য লজ্জার

বললেন জামায়াত আমির

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি তেল নিয়ে সরকারকে সঠিক তথ্য প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে অসত্য তথ্য দেওয়া জাতির জন্য দুর্ভাগ্যের ও লজ্জার। গতকাল শনিবার দুপুরে আসাদগেটে পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলোর চালক-মালিকদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। কথা বলে বুঝতে পারলাম যে, একটি গাড়িকে একবারে ২ হাজার টাকার বেশি তেল দেওয়া হয় না। আর একটি মোটরসাইকেলকে সর্বোচ্চ ৫০০ ও সর্বনিম্ন ১৫০ টাকার তেল দেওয়া হয়। পাম্প ভেদে এটা কম-বেশি হয়।’ পাম্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি, মালিকদের কেউ এখানে ছিলেন না, ব্যবস্থাপনায় যারা আছেন, তারা জানিয়েছেন, আগে প্রতিদিন তারা তিন গাড়ি তেল পেতেন। এই সংকট সৃষ্টি হওয়ার পরে দেওয়া হয় এক গাড়ি। এটা দিয়ে তারা ২৪ ঘণ্টা কাভার করতে পারেন না। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এখন তেল অনেক বেশি বিক্রি হয়।’

‘তাদের আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, পান যখন তিন ভাগের এক ভাগ, আপনারা বেশি বিক্রি করেন কোত্থেকে? তারা বললেন যে, এই কথাটা সত্য নয়। আমরা যেহেতু তিন ভাগের এক ভাগ পাই, ওই আগের তিন ভাগের এক ভাগই আমরা বিক্রি করি। সমানও পারি না, বেশি তো প্রশ্নই আসে না,’ জানান জামায়াত আমির।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘জাতীয় সংসদকে বলা হচ্ছে মহান জাতীয় সংসদ, পবিত্র জাতীয় সংসদ, সার্বভৌম জাতীয় সংসদ—অনেক কিছু বলা হচ্ছে। কিন্তু সেই জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে যদি জাতিকে অন্ধকারে রাখা হয় এবং সত্য কথা বলা না হয়, যদি অসত্য তথ্য দেওয়া হয়, তাহলে এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যের এবং লজ্জার।’

সাধারণ মানুষদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে তেলের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। বলেন, ‘তাদের দুঃখ দূর করার মতো কিছু যদি আমাদের হাতে থাকতো, আমরা সেটা করতাম।’ এই পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তিনি সংসদে তুলে ধরবেন বলে জানান।‘বলবো, হাওয়ায় বসে কথা বলছি না। এসিতে বসে কথা বলছি না। আমরা ওখানে গিয়েছি গরমের মধ্যে, অল্প সময় হলেও আমরা তাদের সঙ্গে থেকেছি। কথা বলেছি, বুঝেছি।’ জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা এটাও বিশ্বাস করি এবং স্বীকার করি, এই সংকটটা এই সরকারের তৈরি না। এই সংকট তৈরি হয়েছে বিশ্বের যুদ্ধে লাগার কারণে। তাহলে এখানে লুকোচুরির কী আছে! আমরা খোলামেলা সত্য কথাটা বলি। সবাই মিলে তার সমাধানের পথ খুঁজে বের করব।’ ‘ধামাচাপা দিলে কি সেচের পাওয়ার টিলার চালানোর জন্য আমার কৃষক ভাইটা তেল পাবে’ প্রশ্ন রাখেন তিনি। জামায়াত আমির আরও বলেন, মোটরসাইকেল চালিয়ে যারা সংসার চালাতো তাদের আয় দেড় হাজার থেকে কমে ৫০০-৬০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ‘অথচ দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেছে। দুটি কারণে তেলের বাজারে অস্থিরতা সংকট, এ জন্য পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। আরেকটা হলো চাঁদাবাজের রেটও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই দুইটার ভার এসে সাধারণ জনগণের ঘাড়ে পড়েছে,’ যোগ করেন তিনি।