বগুড়ায় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী
জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি আমরা বাস্তবায়ন করব
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, মানুষ ম্যান্ডেট দিয়েছে বিএনপিকে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য। মানুষ ম্যান্ডেট দিয়েছে বিএনপিকে যেই জুলাই সনদে বিএনপি স্বাক্ষর করেছে, সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার জন্য। কাজেই যার ম্যান্ডেট বাংলাদেশের জনগণ আমাদের দিয়েছে, যেই প্রতিশ্রুতি আমরা জনগণকে দিয়েছি, আসুন আমরা শপথ করি- সেই শপথ হবে প্রত্যেকটি প্রতিশ্রুতি আমরা বাস্তবায়ন করবো। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই দেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল। সকল প্রকার রাজনৈতিক স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল। হরণ করা হয়েছিল তাদের ভোটের অধিকার। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিএনপিসহ বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দল, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকারে বিশ্বাস করে, সেই দলগুলো ধীরে ধীরে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সমগ্র দেশে ছাত্র-জনতাসহ সকল নারী-পুরুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল। সেই দিন স্বৈরাচার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল এই বাংলাদেশ থেকে। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ তাদের হারিয়ে যাওয়া ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছে। বাংলাদেশের মানুষ তাদের তাদের কথা বলার অধিকার- যা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এক যুগেরও বেশি সময় ধরে, সেই অধিকারকে আবার প্রতিষ্ঠিত করেছে। বাংলাদেশের মানুষ দেখেছিল সেই এক যুগ সময় ধরে, যখন মানুষের ভোটের অধিকার ছিল না, কথা বলার অধিকার ছিল না। আমরা দেখেছিলাম কীভাবে দেশের উন্নয়নের নাম করে, মেগা প্রজেক্টের নাম করে মেগা দুর্নীতি করা হয়েছিল। দেশের মানুষের লক্ষ্য লক্ষ্য কোটি কোটি টাকা কীভাবে বিদেশে পাচার করেছে, দেশের মানুষ দেখেছে সেটি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি এই দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে- যে অধিকার একসময় কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এই ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ স্পষ্ট রায় দিয়েছে, আগামী পাঁচ বছর দেশের দায়িত্ব কাদের হাতে তুলে দিতে চায়। ১২ তারিখের নির্বাচনে জনগণ পরিষ্কারভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচনের আগে আমরা দেশের মানুষকে বলেছিলাম- দায়িত্ব পেলে কীভাবে দেশ পরিচালনা করব।
তিনি বলেন, আজ বগুড়ার গাবতলীতে আমরা ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেছি। আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম- বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশের মায়েদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। আল্লাহর রহমতে সরকার গঠনের পরপরই আমরা সেই কাজ শুরু করেছি। শুধু তাই নয়, আমরা বলেছিলাম কৃষকদের পাশেও দাঁড়াব। যেমন মা-বোনদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, তেমনি কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করা হবে। সেই কাজও আমরা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন শুরু করেছি। আমরা আরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম- যেসব কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ আছে, সেই ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। আল্লাহর রহমতে সরকার গঠনের প্রথম ১০ দিনের মধ্যেই আমরা সেই কাজ সম্পন্ন করেছি। এর ফলে সারা দেশে প্রায় ১২ লাখ কৃষকের ঋণ মওকুফ হয়েছে। আমরা আরও বলেছিলাম- মসজিদ, এতিমখানা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিবসহ অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানজনক ভাতা নিশ্চিত করা হবে। আপনাদের দোয়ায় আমরা সেই কাজও বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু করব। কারণ, খাল ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার ফলে বর্ষায় বন্যা হয়, মানুষ কষ্ট পায়, সম্পদ, গবাদিপশু ও ফসল নষ্ট হয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাব দেখা দেয়। এই সমস্যা সমাধানে আমরা আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছি এবং সেই কাজ শুরু করেছি। বিএনপি আপনাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আমরা পর্যায়ক্রমে প্রতিটি কাজ বাস্তবায়ন করছি। এই কাজগুলো দেশের খেটে খাওয়া মানুষের কল্যাণের সঙ্গে জড়িত। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমামণ্ডমুয়াজ্জিনদের ভাতা, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ- এসব বাস্তবায়ন হলে দেশের সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর আমরা বিদেশে কর্মসংস্থানের বিষয়েও কাজ শুরু করেছি, যাতে কম খরচে দেশের তরুণরা বিদেশে চাকরি পেতে পারে। ইনশাআল্লাহ, শিগগিরই এ বিষয়ে সুখবর দেওয়া হবে।
পাচারের টাকা ফিরিয়ে ফ্যামিলি-কৃষক কার্ডের মাধ্যমে মানুষকে দেব : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া টাকা দেশে ফিরিয়ে এনে ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময় যে দুর্নীতি হয়েছে, তার মাধ্যমে দেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। আমরা এ দুর্নীতিকে রোধ করতে চাই। এটা জনগণের টাকা, তাদের টাকা পাচার হয়েছে। সেই টাকা দিয়ে আমরা ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড করব ইনশাআল্লাহ।’ গতকাল সোমবার দুপুরে বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়ীর শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজে ৯১১ জন সুবিধাভোগীর মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনার মধ্যে অধিকাংশই গ্রামের মানুষকে ঘিরে। দেশের ৭০ ভাগ মানুষ গ্রামে বাস করেন; তাদের ঘিরে আমরা বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।’
বিএনপি চেয়ারম্যান নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমরা দেশের মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের কথা, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফের কথা। এরইমধ্যে কৃষকদের সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। সারা দেশের ১২ লাখ কৃষক এতে সুবিধা পেয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা হলো ধীরে ধীরে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা।’ পরে তিনি বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভা, বগুড়া প্রেস ক্লাবের নবনির্মিত ভবন ও বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন।
