জরুরিভাবে দেড় লাখ টন ডিজেল-অকটেন কিনছে সরকার

প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য ১ হাজার ৬৯৮ কোটি ২১ লাখ ৪০ হাজার টাকার জ্বালানি তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরমধ্যে ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এবং ২৫ হাজার মেট্রিক অকটেন রয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই জ্বালানি তেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে এই তেল কেনার প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়।

বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রাণলয় থেকে জানানো হয়েছে, ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য ডিবিএস ট্রেডিং হাউস এফজেডসিও-এর নিকট থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন ইএন৫৯০-১০ পিপিএম ডিজেল এবং ২৫ হাজার মেট্রিক টন গ্যাসোলিন ৯৫ আনলেডেড (অকটেন) আমদানির প্রস্তাব বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এই জ্বালানি তেল কেনা হবে। এতে ব্যয় হবে ১ হাজার ২৩ কোটি ৬১ লাখ ২০ হাজার টাকা। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আর এক প্রস্তাবের প্রেক্ষিত্রে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য আর্চার এনার্জি এলএলসি’র কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১ লাখ মেট্রিক টন ইএন৫৯০-১০ পিপিএম মানমাত্রার সালফারযুক্ত ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৬৭৪ কোটি ৬০ লাখ ২০ হাজার টাকা। এছাড়া বৈঠকে সভায় ঢাকা ওয়াসার ‘ঢাকা এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই (ডিইএসডব্লিউএস)’ প্রকল্পের ম্যানেজমেন্ট, ডিজাইন অ্যান্ড সুপারভিশন কনসালট্যান্ট (এমডিএসসি) প্যাকেজের আওতায় একক উৎসভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প সেবার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে ফিখ্টনার জিএমবিএইচ অ্যান্ড কো. কেজি (জিইআর)।

প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী ২৪ মাস সময়ের জন্য পরামর্শক সেবার নতুন চুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৬ কোটি ৯৫ লাখ ৪০ হাজার ৮৫৫ টাকা। স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রস্তাবটি নিয়ে আসে। বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক উন্মুক্ত দরপত্রে ই-জিপি সিস্টেমে ৭৫টি প্যাকেজের মাধ্যমে ৩০ কেজি ধারণক্ষম নতুন ৩ কোটি পিস হেসিয়ান বস্তা কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২১৫ কোটি ৬৪ লাখ ৮২ হাজার ১৬৪ টাকা। ৭৫টি প্যাকেজে ১৯টি দরদাতা প্রতিষ্ঠান থেকে এই হেসিয়ান বস্তা কেনা হবে।

গাইবান্ধা : গাইবান্ধা জেলার একমাত্র ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান রংপুর চিনিকল। প্রায় ছয় বছর ধরে বন্ধ প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে মিলের কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ। অন্যদিকে চিনিকল চালু না হওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন মিল সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারী। এছাড়া আখচাষ নিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন আখচাষিরা। কর্মহীন হওয়া শ্রমিক-কর্মচারীর স্বার্থে ও আখচাষ টিকিয়ে রাখতে দ্রুত চিনিকলটি চালুর দাবি এলাকাবাসীর।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চিনিকল কারখানা চত্বরের ৩৫ একর জমি জঙ্গলে ভরে গেছে। অযত্ন-অবহেলায় খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় আখ পরিবহনের যানবাহনগুলোও দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে চিনিকলের কারখানার ভেতরে চিনি উৎপাদনের কোটি কোটি টাকা মূল্যের যন্ত্রপাতি মরিচা ধরে বিকল হয়ে যাচ্ছে।

রংপুর চিনিকলের অফিস সূত্রে জানা যায়, কৃষি অঞ্চল হিসেবে এ এলাকায় আখচাষের প্রসার ঘটাতে ১৯৫৪ সালে চিনিকলটি স্থাপিত হয়। কলটির কারখানাসহ প্রায় ১ হাজার ৯৮২ একর জমি। চিনিকল লোকসান কমাতে আধুনিকায়নের মাধ্যমে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করার লক্ষ্যে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে চিনিকলের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত চিনিকলটির ওপর ৫১৪ কোটি ১১ লাখ টাকা লোকসানের দায় চাপিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প কর্পোরেশন (বিএসএফআইসি) চিনিকলটি বন্ধ করে দেয়। এতে এ অঞ্চলের কৃষিতে আখচাষের সম্ভাবনার দুয়ার বন্ধ হয়ে যায়। চিনিকল বন্ধ হওয়ায় সাঁওতালসহ স্থানীয়রা তাদের নিজের বাপ-দাদার সম্পত্তি দাবি করে জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা করছেন। শিল্পপ্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আখচাষি, শ্রমিক-কর্মচারীসহ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রায় ৩০ হাজার মানুষের জীবিকা অচল হয়ে পড়ছে।