মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ
লেবাননে ১৫ ইসরায়েলি সেনা নিহত, আহত ৬৫০
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

লেবাননে আগ্রাসন চালাতে গিয়ে দখলদার ইসরায়েলের সশস্ত্র বাহিনীর ১৫ সদস্য নিহত ও ৬৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। সেখানে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে স্বীকার করেছে তেলআবিব। ইসরায়েল এমন সময় এই ঘোষণা দিল যখন লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ’র সঙ্গে যুদ্ধ-বিরতি সত্ত্বেও সেখানে ইসরায়েল মাঝে মধ্যেই আবাসিক এলাকায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং উত্তেজনা এখনও অব্যাহত রয়েছে। খবর প্রেসটিভির।
ইহুদিবাদী ইসরায়েল লেবাননের আবাসিক এলাকাগুলোতে হামলা চালিয়ে শত শত বেসামরিক লেবাননি নারী, পুরুষ ও শিশুকে হত্যা করেছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের নানা শহরে এক হাজারেরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ইসরায়েলের ভেতরে বহু ইসরায়েলি সেনা হতাহত হয়েছে এবং তাদের অনেক ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ‘পৃথিবীর নিকৃষ্টতম’: ইসরায়েলের সেনাবাহিনীকে পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট সেনাবাহিনী বলে বর্ণনা করেছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রানচেসকা আলবানিজ। তিনি বলেছেন, তাদের কর্মকাণ্ড সব সীমারেখা অতিক্রম ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। ইসরায়েলি সৈন্যরা এক ফিলিস্তিনি শিশুর ওপর নির্মম নির্যাতন চালাচ্ছে, এমন একটি ভিডিও দেখার পর আলবানিজ এ প্রতিক্রিয়া জানান।
আলবানিজ তার অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘আমি যথেষ্ট দেখেছি, তাই সম্পূর্ণ নিশ্চিতভাবে বলছি, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট সেনাবাহিনী।’ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত নিধন’ চালানোর আভিযোগ এনে এক আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর থেকে আলবানিজের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে উসকানিমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তিনি এমনকি সরাসরি প্রাণনাশের হুমকিও পেয়েছেন। দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের এ বিশেষ দূত বলেন, তার জীবন হুমকির মুখে রয়েছে এবং তিনি সবসময়ই বিপদের মধ্যে বাস করছেন। আলবানিজ আরও বলেন, প্রতিবেদনটি প্রকাশ করার পর থেকে তিনি যে চাপ ও হুমকির মুখোমুখি হচ্ছেন, তাতে তার পরিস্থিতি এখন ‘রোলার কোস্টার রাইডের’ মতো হয়ে উঠেছে।
জব্দ করা জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে ফেরত দিতে বলল ইরান, নইলে পাল্টা ব্যবস্থা : ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর হাতে জব্দ হওয়া পণ্যবাহী জাহাজ ‘তুসকা’ এবং এর আরোহীদের দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইরান। এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং ‘ক্রিমিনাল’ বা অপরাধমূলক কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছে দেশটি। মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জাহাজটিসহ এর নাবিক, ক্রু ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দ্রুত ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক পদক্ষেপ। ইরান তার জাতীয় স্বার্থ ও নাগরিকদের রক্ষায় প্রয়োজনে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।
যুদ্ধে নতুন ‘কার্ড’ দেখাতে প্রস্তুত ইরান : হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় যেতে রাজি নয় ইরান; বরং যদি আবার যুদ্ধ শুরু হয়, তবে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ইরান নতুন নতুন কৌশল দেখাতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ। মঙ্গলবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে গালিবাফ লেখেন, ‘আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন নতুন কার্ড দেখাতে প্রস্তুত।’ ট্রাম্প নিজের কল্পনায় আলোচনার টেবিলকে আত্মসমর্পণের টেবিল বানাতে চাইছেন বলে অভিযোগ করেন গালিবাফ। তিনি লেখেন, ‘তিনি নতুন করে যুদ্ধ উসকে দেওয়ার যৌক্তিকতা তৈরি করতে চাইছেন।’ পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে গত ১১ এপ্রিল প্রথম দফা শান্তি আলোচনায় গালিবাফ ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। আগামীকাল সেখানে দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠেয় সম্ভাব্য আলোচনাতেও নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
ট্রাম্প- পুতিন- নেতানিয়াহু ‘আগ্রাসী’, বাকি দেশের আচরণ ‘কাপুরুষোচিত’ : যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও রাশিয়ার নেতারা নতুন একটি ‘আগ্রাসী’ বিশ্বব্যবস্থা চাপিয়ে দিতে চাইছেন। বাকি দেশগুলো তাদের থামাতে খুবই ‘কাপুরুষোচিত’ আচরণ করছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মঙ্গলবার এ কথা বলেছে। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে সংগঠনের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড এমন মন্তব্য করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কড়া সমালোচনা করেন।
এ সময় যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইসরায়েলের নেতাদের ‘আগ্রাসী’ বলেও মন্তব্য করেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব। অ্যামনেস্টির বৈশ্বিক মানবাধিকার সুরক্ষাবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব নেতা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা বহুপক্ষীয় বিশ্বব্যবস্থাকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন। এর বিপরীতে ‘নৈতিক দিকনির্দেশনাহীন’ এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি বেছে নিয়েছেন, যার মূলকথা হলো ‘যুদ্ধই শাসন করবে, কূটনীতি নয়’। অ্যাগনেস ক্যালামার্ড সতর্ক করে দিয়ে বলেন, প্রতিবেদনটি এমন এক ‘চ্যালেঞ্জিং মুহূর্তে’ এসেছে, যা ৮০ বছর ধরে গড়ে ওঠা সবকিছু ‘ধ্বংস করে দিতে পারে’।
মার্কিন অবরোধ উপেক্ষা করেই হরমুজ প্রণালি পার হচ্ছে ইরানের পতাকাবাহী জাহাজ : যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত অবরোধ উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে ইরানের পতাকাবাহী একটি মালবাহী জাহাজ। ‘শুজা ২’ নামের এই জাহাজটির হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার খবর দিয়েছে ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজটি ইরানের বন্দর আব্বাসের কাছে শহীদ রাজায়ী বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছে। বর্তমানে এটি ভারতের কান্ডলা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, তারা তাসনিম নিউজের এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে সমুদ্রযান চলাচল পর্যালোচনাকারী সংস্থা ‘মেরিন ট্রাফিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতেই অবস্থান করছে। মেরিন ট্রাফিকের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, শুজা ২-এর গন্তব্য ভারত।
