‘সম্মানজনক’ প্রস্থানের পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার আগে ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছে ইরান। দেশটির দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে একটি ‘সম্মানজনক’ প্রস্থানের পথ খুঁজছে। গতকাল শনিবার ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এ তথ্য জানায়। মুখপাত্র বলেন, ইরানের সামরিক শক্তি এখন প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছে এবং প্রতিপক্ষ এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছে।
যুদ্ধ থেকে ‘সম্মানজনক’ প্রস্থানের পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র - ইরান : ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন প্রতিনিধিদের পাকিস্তান সফর শুরুর আগে তেহরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন যুদ্ধ থেকে একটি ‘সম্মানজনক’ প্রস্থানের পথ খুঁজছে। গতকাল শনিবার ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই মন্তব্য করে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে ইরানের সংবাদমাধ্যম ইসনা (আইএসএনএ) বলেছে, ‘বর্তমানে আমাদের সামরিক শক্তি একটি প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছে। শত্রু এখন যুদ্ধের এ চোরাবালি থেকে বাঁচতে এক সম্মানজনক প্রস্থানের পথ খুঁজছে, যেখানে তারা আটকা পড়েছে।’ মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনার বর্তমানে ইসলামাবাদের পথে রয়েছেন। এমন এক সময়ে ইরানের পক্ষ থেকে এই কঠোর মন্তব্য এল। যদিও ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনার পরিকল্পনা দেশটির নেই।
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা নেই ইরানের : পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি লেখেন, ইসলামাবাদে ইরানের পর্যবেক্ষণ বা বক্তব্যগুলো পাকিস্তানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এক্সে ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। তিনি পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই বৈঠকটি মূলত ‘যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ বন্ধ এবং এই অঞ্চলে শান্তি পুনরুদ্ধারে’ পাকিস্তানের চলমান মধ্যস্থতা ও প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা নেই তেহরানের - ইরানি সংবাদমাধ্যম : পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি বার্তা আদানপ্রদানের অ্যাপ টেলিগ্রামে এ তথ্য জানিয়েছে। আইআরআইবির তথ্য অনুযায়ী, ইসলামাবাদ শুধু দুই পক্ষের মধ্যে একটি ‘সেতুবন্ধন’ হিসেবে কাজ করতে পারে। তাদের কাজ হতে পারে ‘সংঘাত নিরসনে ইরানের বিবেচনাধীন বিষয়গুলো’ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এর আগে হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছিল যে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ইসলামাবাদে যাবেন। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান সরাসরি কথা বলতে চেয়েছে।
আব্বাস আরাগচি গত শুক্রবার রাতে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানি দূতাবাস জানিয়েছে, ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো’ পর্যালোচনা করার পরিকল্পনা করছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিকে পাকিস্তানের একজন সরকারি কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে বৈঠক করবে। যদি এই বৈঠকগুলো সফল হয়, তবেই মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা আগামী রোববার সরাসরি বৈঠকে বসবেন।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আশা মিসর ও পাকিস্তানের : ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করতে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাতি এবং পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ফেসবুক পেইজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুই মন্ত্রীই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার বিষয়ে আশা ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা আশা করছেন, এ আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে, যা একটি স্থিতিশীল যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করবে, উত্তেজনা কমাবে ও বর্তমান সংঘাত বন্ধের পরিবেশ তৈরি করবে। আলাপে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদেলাতি আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি তিনি আঞ্চলিক দেশগুলোর, বিশেষ করে আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়টি সমাধানের ওপরও জোর দেন।
যুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার ‘সামান্যই ব্যবহার’ করেছে ইরান, নিচ্ছে পাল্টা হামলার প্রস্তুতি : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার একটি বড় অংশ এখনো অব্যবহৃত রয়ে গেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’ এ তথ্য জানিয়েছে। ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালাই-নিক বলেন, ইরান বর্তমানে উচ্চপর্যায়ের রক্ষণাত্মক ও পাল্টা আঘাত হানার প্রস্তুতি বজায় রেখেছে। মুখপাত্র তালাই-নিক বলেন, দেশীয় প্রযুক্তিতে ইরান বর্তমানে ১ হাজারেরও বেশি ধরনের অস্ত্র উৎপাদন করছে। তিনি আরও বলেন, দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার প্রতিষ্ঠান এ অস্ত্র উৎপাদনে সহায়তা করছে। এমনকি কোনো স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও উৎপাদন প্রক্রিয়া থেমে থাকবে না। হরমুজ প্রণালি সম্পর্কে মুখপাত্র বলেন, এটি ইরানের ‘নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার’। এ প্রণালী ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান পার্শ্ববর্তী জলসীমার পরিস্থিতির ওপর প্রভাব বিস্তার করে আসছে।
ইসলামাবাদে আসিম মুনির আরাগচি বৈঠক, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় গুরুত্বারোপ : পাকিস্তানের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (সিডিএফ) ও চিফ অব আর্মি স্টাফ (সিওএএস) ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইসলামাবাদে অবস্থিত ইরান দূতাবাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বৈঠকে উভয় পক্ষ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়েও তারা একমত হয়েছেন। ইরান দূতাবাস জানিয়েছে, ইসলামাবাদ ও তেহরানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মুহাম্মদ আসিম মালিক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি উপস্থিত ছিলেন।
ইরানি প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির সঙ্গে আরও ছিলেন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি, রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোকাদ্দাম ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
মাটির ৪৩ ফুট গভীরে থাকা অবিস্ফোরিত ‘বাংকার বিধ্বংসী’ বোমা নিষ্ক্রিয় করল ইরান : ইরানের ইয়াজদ প্রদেশের একটি আবাসিক এলাকায় মাটির গভীরে পুঁতে থাকা অবিস্ফোরিত ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। দেশটির সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা চলাকালে নিক্ষিপ্ত এ শক্তিশালী বোমাটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানলেও বিস্ফোরিত হয়নি। এটি আবাসিক এলাকার প্রায় ১৩ মিটার (প্রায় ৪৩ ফুট) মাটির নিচে ঢুকে গিয়েছিল। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং স্থানীয় বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্যরা যৌথভাবে এ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করেন। কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই বোমাটি সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
