প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন
বললেন মির্জা ফখরুল
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে নির্বাচনি প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার আরেকটি প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রী আরও জানান, এতে ১০ মাস থেকে ১ বছর সময় লাগে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুত, নির্বাচনিসামগ্রী সংগ্রহ, ধর্মীয় উৎসব, পাবলিক পরীক্ষা, আবহাওয়া, ভোটকেন্দ্র চূড়ান্তকরণ ও মেরামত, নির্বাচনি কর্মকর্তাদের নির্বাচন ও প্রশিক্ষণ ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়। তফসিল-পূর্ব প্রস্তুতির জন্য অন্তত ৪৫ দিন সময় প্রয়োজন।
নতুন দুই বিভাগ সম্পর্কে তিনি জানান, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফরিদপুর ও কুমিল্লা নামে দুটি নতুন বিভাগ গঠনের সুপারিশ করে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমান ঢাকা বিভাগের পাঁচটি জেলা- ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ ও শরীয়তপুর নিয়ে ফরিদপুর বিভাগ গঠনের কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় নেওয়া হবে।
ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে মির্জা ফখরুল বলেন, ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ৩ হাজার ৮২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ইভিএম কেনার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।
ইভিএম প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে দুদক : বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একইসঙ্গে অডিট অধিদপ্তর প্রকল্পটিতে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের আপত্তি তুলেছে, যা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। গতকাল সংসদে পাবনা-৫ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব তথ্য জানান।
মন্ত্রী জানান, জুলাই ২০১৮ থেকে জুন ২০২৪ মেয়াদে ১ লাখ ৫০ হাজার ইভিএম ক্রয়ের জন্য ৩ হাজার ৮২৫.৩৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। এই ইভিএমগুলো অর্পিত ক্রয় পদ্ধতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ক্রয় করা হয়েছিল। প্রকল্পটি গত বছরের জুন মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়। তিনি জানান, প্রকল্পের সমাপ্তি প্রতিবেদন (পিসিআর) গত ১৩ মে ২০২৫ তারিখে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগে (আইএমইডি) প্রেরণ করা হলেও এখন পর্যন্ত তার মূল্যায়ন প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। তবে, অডিট অধিদপ্তর এই প্রকল্পে বড় ধরনের বেশ কিছু অডিট আপত্তি উত্থাপন করেছে। এই আপত্তিগুলো বর্তমানে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
