মরদেহের অংশ উদ্ধার, বৃষ্টির কি না, পরীক্ষার পর জানা যাবে

প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আলোকিত ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যে জায়গা থেকে বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেখান থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে (২২ মাইল) একটি মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় সময় গত রোববার বিকেলে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের (পুলিশ) কার্যালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পিনেলাস কাউন্টি থেকে মরদেহের খণ্ডাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। হিলসবরো ও পিনেলাস কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় থেকে যৌথ অভিযান চালিয়ে ইন্টারস্টেট ২৭৫ এবং ৪ নম্বর স্ট্রিট নর্থ- সংলগ্ন এলাকার জলাশয় থেকে ওই দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলেছে, মরদেহের খণ্ডিত অংশগুলো বর্তমানে পিনেলাস কাউন্টি মেডিক্যাল এক্সামিনারের দপ্তরে রাখা হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে দেহাবশেষের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। উদ্ধার করা দেহাবশেষ নারীর নাকি পুরুষের, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং মরদেহের খণ্ডিত অংশের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। জনসংযোগ দপ্তর (পাবলিক অ্যাফেয়ার্স অফিস) থেকে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকার সঙ্গে উদ্ধার দেহাবশেষের মিল আছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ১৬ এপ্রিল ফ্লোরিডার টাম্পায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি ‘নিখোঁজ’ হন। দুজনেরই বয়স ২৭ বছর। লিমন ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে এবং নাহিদা কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। লিমন ও বৃষ্টির সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে পরদিন ১৭ এপ্রিল বিকেলে তাঁদের এক পারিবারিক বন্ধু বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন। ২১ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে এই দুই শিক্ষার্থীর নিখোঁজ থাকার তথ্য গণমাধ্যমকে জানায়।

এক সপ্তাহের বেশি সময় নিখোঁজ থাকার পর গত শুক্রবার লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ (২৬) নামের এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি জামিলের সঙ্গে একই কক্ষে থাকতেন। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের (পুলিশ) কার্যালয় থেকে বলা হয়, আবুঘরবেহকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে জামিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন শনিবার বৃষ্টির ভাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে বোনের মৃত্যুর খবর জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাদের বৃষ্টি নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে, তবে মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি। সিএনএনের খবরে বলা হয়, বিচার শুরুর আগে হিশাম সালেহ আবুঘরবেহকে হেফাজতে রাখার জন্য গত রোববার পুলিশ যে আবেদন করছে, সেখানেও বলা হয়েছে, লিমনের মৃতদেহ যেভাবে সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে, বৃষ্টির মৃতদেহও একইভাবে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে তাদের বিশ্বাস। চ্যাটজিপিটির কাছে লাশ গুমের পরামর্শ চেয়েছিল হিশাম : যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত হিশাম আবুঘরবেহ লাশ গুমের উপায় খুঁজতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটজিপিটির সাহায্য চেয়েছিল। আদালতের নথির বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে। ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টিকে হত্যার দায়ে ‘ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডার’-এর অভিযোগ আনা হয়েছে। লিমনের মরদেহ গত শুক্রবার উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্ত হিশাম ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই সাবেক শিক্ষার্থী এবং লিমনের রুমমেট ছিল।

এআই চ্যাটবটে কী খুঁজেছিল হিশাম? প্রসিকিউটরদের দেওয়া তথ্যমতে, ভুক্তভোগীরা নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন আগে ১৩ এপ্রিল চ্যাটজিপিটির কাছে হিশাম জানতে চেয়েছিল, মানুষকে প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দিলে কী হয়? চ্যাটবট বিষয়টি বিপজ্জনক বলে সতর্ক করলে সে পাল্টা প্রশ্ন করে, কর্তৃপক্ষ কীভাবে এটি খুঁজে পাবে? এ বিষয়ে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করেনি।

উদ্ধারকৃত আলামত ও ডিএনএ পরীক্ষা : আদালতের নথিতে বলা হয়, ১৭ এপ্রিল হিশামকে অ্যাপার্টমেন্টের ডাস্টবিনে বড় কার্টন ফেলতে দেখেন এক রুমমেট। পরে ওই ডাস্টবিন তল্লাশি করে লিমনের স্টুডেন্ট আইডি ও ক্রেডিট কার্ড পাওয়া যায়। সেখানে থাকা একটি ধূসর টি-শার্টে লিমনের এবং একটি কিচেন ম্যাটে নাহিদা বৃষ্টির ডিএনএ পাওয়া গেছে। এছাড়া হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছ থেকে উদ্ধার করা লিমনের মরদেহ ময়নাতদন্তে ধারালো অস্ত্রের অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। নাহিদা বৃষ্টিকে এখনও মৃত হিসেবেই ধারণা করছে পুলিশ।