ধর্ম যার যার, অধিকার সবার : প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তার সরকার ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না, বরং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সকল ক্ষেত্রে সমান অধিকার ভোগ করবে। গৌতম বুদ্ধের জন্ম তিথি ‘বুদ্ধ পূর্ণিমা’ উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রতিনিধিরা গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করতে এলে প্রধানমন্ত্রী তাদের এ প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না। ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা ব্যবহার করতে চাই না, অতীতেও আমরা তা করিনি। আমাদের সরকারের দৃষ্টিভঙ্গ হচ্ছে, যা একটু আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আমিও জোর দিয়ে আবারও একই কথা বলতে চাই, ‘ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার’। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাই সকল ক্ষেত্রে সমানভাবে অধিকার ভোগ করবে, এটাই বর্তমান সরকারের নীতি।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এই অনুষ্ঠান হয়। প্রধানমন্ত্রী বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি শুভেচ্ছা ক্রেস্ট এবং গৌতম বুদ্ধের মূর্তি তুলে দেন প্রতিনিধি দলের নেতৃবৃন্দ।
সরকারপ্রধান বলেন, বর্তমান সরকারের একটি রাজনৈতিক দর্শন হল ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’। বাংলাদেশে এটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে, একমাত্র বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশের সকল বর্ণ, ধর্মীয় সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর নিবিড় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে। “সুতরাং, আপনারা কেউ নিজেদেরকে কখনোই সংখ্যালঘু ভাববেন না। রাষ্ট্র আমার আপনার আমাদের সবার পরিচয়। আমরা প্রত্যেকে, প্রত্যেক নাগরিক, সকলে আমরা বাংলাদেশি। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বুদ্ধ পূর্ণিমার শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি পৃথিবীতে অনেকগুলো ধর্ম আছে। প্রতি ধর্মেরই অসংখ্য অনুসারী রয়েছেন। প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে। প্রতিটি ধর্মেরই কিছু বিধিবদ্ধ নিয়মনীতি রয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু মহামতি গৌতম বুদ্ধ তার অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি দিয়েছিলেন। এই পঞ্চশীল নীতি হল প্রাণী হত্যা না করা, চুরি, ব্যাভিচার, মিথ্যা এবং মাদক থেকে বিরত থাকা। প্রেম, অহিংস এবং সর্বজীবে দয়াও বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষা। যে কয়টি জিনিস এখানে অনুসরণের কথা বলা হয়েছে, এই নির্দেশনা প্রতিটি মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
তারেক রহমান বলেন, আমার মনে হয়, রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিক যার যার ধর্মীয় নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করলে আমরা সকলে মিলে একটি মানবিক রাষ্ট্র এবং সমাজ নির্মাণ করতে পারব। সুতরাং, প্রতিটি নাগরিক যাতে তার ধর্মীয় রীতি নীতি ও অধিকার বিনা বাধায়-স্বাধীনভাবে অনুসরণ-অনুকরণ ও ভোগ করতে পারে, এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণই হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধানতম দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। দল মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ যাতে শান্তি এবং নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে তেমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী প্রত্যেকের জন্যই একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন। মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই মিলে লাখো প্রাণের বিনিময়ে এই দেশটা আমরা স্বাধীন করেছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় কে কোন ধর্মের অনুসারী, কে বিশ্বাসী কিংবা অবিশ্বাসী এটি কারো জিজ্ঞাসা ছিল না। তাই, এই স্বাধীন বাংলাদেশ আপনার আমার, আমাদের সকলের।
বুদ্ধ পূর্ণিমার এই বিশেষ দিনটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ‘আনন্দময় ও তাৎপর্যপূর্ণ’ হয়ে উঠুক- সেই কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, পাবর্ত্য অঞ্চলের বিএনপির মনোনীত সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাধবী মারমা, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
