২৩ হাজার ৮৬৫টি রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার
* ব্যাংক-আর্থিক খাতে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হবে না : অর্থমন্ত্রী * ঋণ পুনঃতফসিলের জন্যই গভর্নর নিয়োগ, সংসদে নাহিদের অভিযোগ
প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের নামে কতটি মামলা দায়ের হয়েছে, সে- সংক্রান্ত পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই। তবে রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা এ পর্যন্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আলী আছগারের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন। গতকাল বেলা ১১টায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী মৌখিক উত্তর দেওয়ার জন্য প্রশ্ন-উত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আলী আছগার আইনমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, সারা দেশে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের নামে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় হয়রানিমূলক কতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলো প্রত্যাহার করার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না। জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, মামলা দায়ের করার সময় এজাহারে অভিযুক্তের দলীয় পরিচয় উল্লেখ থাকে না। ফলে সারা দেশে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো মিথ্যা ও হরানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপণ করা সম্ভব নয়। এ- সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই। তবে আইনমন্ত্রী বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে বলেছেন, ২০০৭ থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে।
২৩ হাজার ৮৬৫ রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার : আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ৫ মার্চ রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করার লক্ষ্যে জেলাপর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সভাপতিত্বে চার সদস্যের কমিটি গঠন করে। জেলা কমিটি থেকে পাওয়া সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মামলা প্রত্যাহারের কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সরকার ৮ মার্চ আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেছে। আইনমন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আর যেসব হয়রানিমূলক মামলা এখনো প্রত্যাহার হয়নি, সেগুলো প্রত্যাহার করার কার্যক্রম চলমান। ব্যাংক-আর্থিক খাতে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হবে না: আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়োগ দেওয়া হবে না। বিএনপির কোনো সরকার বাংলাদেশে এই সিদ্ধান্ত দেয়নি। বিগত দিনের ইতিহাসে নেই। আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করবেন আগামীতে যে ব্যাংকিং সেক্টরে বলেন, আর্থিক সেক্টরে বলেন, কোনো পলিটিক্যাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট হবে কি না। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন- বিএনপি সরকারের সব নিয়োগ ছিল অরাজনৈতিক। সুষ্ঠু নিয়োগ প্রক্রিয়ার কারণেই বিএনপি সরকারের সময় কোনো আর্থিক বিশৃঙ্খলা বা শেয়াবাজার লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমান গভর্নর কোনো দলের ব্যক্তি নন, তিনি বড়জোর কোনো দলের সমর্থক হতে পারেন। তবে তার যোগ্যতা থাকলে নিয়োগে কোনো বাধা নেই।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা কিছু মন্তব্য করেছেন। আসলে একটা বিল পাস হওয়ার পরে এই ধরনের আলোচনার কোনো সুযোগ ছিল না এখানে। সেটাও রুলস অব প্রসিডিউরের বাইরে হচ্ছে। যেহেতু ওনারা প্রশ্ন তুলেছেন, আমাদের উত্তর দিতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বিগত সরকারগুলো যদি দেখেন, যতবার বিএনপি সরকারে এসেছে,প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ ব্যাংক, সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে যতগুলো অ্যাপয়েন্টমেন্ট হয়েছে, সবগুলো নন-পলিটিক্যাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট। সবগুলো নন-পলিটিক্যাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট, আমি ক্লিয়ারলি বলতে চাই। যে কারণে বাংলাদেশের আর্থিক শৃঙ্খলা নিয়ে বিএনপি সরকারের সময় কোনো সমস্যা হয়নি। সব সময় আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় ছিল। কোনো সময় শেয়ারবাজার লুটপাট হয়নি। কারণ, বিএনপির অ্যাপয়েন্টমেন্টগুলো কোনো সময় পলিটিক্যাল কনসিডারেশনে হয়নি এবং যোগ্য ব্যক্তিদের সেখানে দেওয়া হয়েছে। সেই ধারা এই সরকার অব্যাহত রাখবে- এটা আমি নিশ্চিতভাবে বলতে চাই।
সংসদে অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনারা যখন বিগত দিনগুলোতে দেখবেন, এই বিগত কেয়ারটেকার সরকারের সময় যখন গভর্নরের বয়স বাড়িয়েছে, তো সেই সময় তো আপনারা কোনো আপত্তি তোলেননি। গভর্নরের এজ আমরা বাড়াইনি, এটা বিগত কেয়ারটেকার সরকারের সময়ে বাড়ানো হয়েছে। পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রধানের বয়স বৃদ্ধি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই বিলটা যখন ৯৩-তে হলো, সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, তখন গড় বয়স ছিল ৫৭ বছর। এখন গড় বয়স হচ্ছে ৭২ বছর। আপনি কি এই লোকগুলোকে কর্মকাণ্ডের বাইরে রাখতে চান? বাংলাদেশের এই নাগরিকগুলোকে, এই অভিজ্ঞ লোকগুলো, তাদেরকে কর্মকাণ্ডের বাইরে রাখতে চান? কোথায় ৫৭ বছর, এখন ৭২ বছর । গড় আয়ু বেড়েছে বলে বয়স বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে যারা আছেন, তাদের তো আমরা বাইরে রাখতে পারবো না।
ঋণ পুনঃতফসিলের জন্যই গভর্নর নিয়োগ, সংসদে নাহিদের অভিযোগ : হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ করে দিতেই বর্তমান গভর্নরকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারি দলের বহু প্রার্থী ও সংসদ সদস্য বড় অঙ্কের ঋণে জর্জরিত। তাদের অনেকেই নির্বাচনের আগে কিছু টাকা পরিশোধ করে ঋণ পুনঃতফসিল করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে গভর্নরের ‘স্পেশালিটি’ হচ্ছে ঋণ পুনঃতফসিল এবং সে কারণেই তাকে এ পদে বসানো হয়েছে। বক্তব্যের শুরুতে নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি অন্য বিষয় দিয়ে আলোচনা শুরু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এর আগে অর্থমন্ত্রী আর্থিক খাত নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেই সূত্র ধরেই তিনি বক্তব্য শুরু করছেন।
