পশ্চিমবঙ্গে মোদি না দিদি
প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আলোকিত ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন শেষ হলেও ফল গণনা আজ ৪ মে। পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, তামিলনাড়ু, আসাম, পুদুচেরিতে পরিবর্তন নাকি প্রত্যাবর্তন তা দেখতে মুখিয়ে আছে সবাই। এ অবস্থায় জয়-পরাজয়ের হিসেবে মেলাতে কাজ শুরু করেছে বুথফের জরিপ নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থা। বেশিরভাগ বুথ ফেরত সমীক্ষায়, আলোচিত রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। কোথাও কোথাও মিলছে তৃণমূল-বিজেপির হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাসও। টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে দুই ধাপে শেষ হলো পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন। এরমধ্য দিয়ে বুধবার ভারতের পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়। ৯, ২৩ ও ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হলেও সব রাজ্যেই আনুষ্ঠানিক ফল গণনা আজ ৪ মে। তবে বুথফেরত জরিপে চলছে জয়-পরাজয়ের সীমকরণ।
পশ্চিমবঙ্গ : এরমধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় পশ্চিমবঙ্গ। চতুর্থবারের মতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসই কি ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে; নাকি মসনদ চলে যাবে বিজেপির দখলে তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। রাজ্যের ২৯৪ আসনের বিধানসভায় জয়ের জন্য ম্যাজিক ফিগার ১৪৮ আসন। অনেক বুথফেরত জরিপে এখন পর্যন্ত তৃণমূলকে পেছনে ফেলে এগিয়ে বিজেপি। এরমধ্যে পি-মার্কের সমীক্ষায় পশ্চিমবঙ্গে ১৫০ থেকে ১৭৫টি আসনে জিততে পারে বিজেপি। আর তৃণমূল পেতে পারে ১১৮ থেকে ১৩৮টি আসন। অন্যদিকে পিপলস পালস-এর সমীক্ষায় ১৭৮ থেকে ১৮৯টি আসন নিয়ে এগিয়ে তৃণমূল। যেখানে বিজেপি ৯৫ থেকে ১১০টি আসন পেতে পারে বলে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বুথফেরত জরিপে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলছে।
কেরালা : কেরালার ১৪০ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনে প্রয়োজন ৭১ আসন। ‘অ্যাক্সিস-মাই ইন্ডিয়ার’ বুথ ফেরত সমীক্ষায় রাজ্যটিতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ‘ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’ (ইউডিএফ) ৭৮ থেকে ৯০টি আসনে জয় পেতে পারে। সিপিআইএম নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট লেফট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এলডিএফ) পেতে পারে ৪৯ থেকে ৬২ আসন। আর বিজেপি পেতে পারে সর্বোচ্চ ৩ আসন।
তামিলনাড়ু : তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের জন্য ২৩৪টি আসেনর মধ্যে ১১৮ আসনে জয় প্রয়োজন। ‘অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া’ এর সমীক্ষা অনুযায়ী ডিএমকে ৯২ থেকে ১১০ আসনে জয় পেতে পারে। আর এআইএডিএমকে পেতে পারে ২২ থেকে ৩২ আসন। আর অভিনেতা থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া, থালাপাতি বিজয়ের দল-টিভিকে ৯৮ থেকে ১২০ আসনে জয় পেতে পারে বুথ ফেরত জরিপে ওঠে এসেছে। তবে অন্য কিছু জরিপে টিভিকে পিছিয়ে থাকার আভাসও মিলছে।
আসাম : এদিকে আসামে টানা তৃতীয়বারের বিজেপির হাতে শাসনভার যাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। রাজ্যটিতে ১২৬ আসনের মধ্যে ম্যাজিক ফিগার ৬৪। অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার বুথ ফেরত সমীক্ষায় অনুযায়ী আসামে ৮৮ থেকে ১০০ আসনে জয় পেতে পারে বিজেপি। আর ২৪ থেকে ৩৬ আসন পেতে পারে কংগ্রেস।
পুদুচেরি : এদিকে পুদুচেরির ৩০টি আসনে সরকার গঠনে প্রয়োজন ১৬ আসন। পিপল পালস এর সমীক্ষা অনুযায়ী, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট পেতে পারে ১৬ থেকে ১৯ আসন। আর কংগ্রেস ১০ থেকে ১২ টি।
অনেক সময় জয়-পরাজয়ের এসব ইঙ্গিত মিলে গেলেও; আসল ফলাফলের সঙ্গে বুথ ফেরত সমীক্ষা তথ্যের অনেক ফারাক থাকে। অর্থাৎ, বুথ ফেরত জরিপ জয়-পরাজয়ের আসল মাপকাঠি নয়, কেবল জরিপ মাত্র।
দুই শর বেশি আসনে জিতবে তৃণমূল- মমতা : ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে আগামী সোমবার। এর দুই দিন আগে শনিবার তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে, দুই শর বেশি আসনে জিতে রাজ্যে চতুর্থবারের মতো সরকার গড়বে তারা। ভেঙেচুরে যাবে বিজেপির সাজানো স্বপ্ন। বিজেপি ঘোষণা দিয়েছে, তারা মমতার দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসছে। এর পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার বিকেলে বলেছেন, দুই শর বেশি আসন পেয়ে জিততে চলেছে তৃণমূল। বিকেল সাড়ে চারটায় কাউন্টিং এজেন্টদের (গণনা প্রতিনিধি) সঙ্গে কালীঘাটের দলীয় দপ্তরে এক ভার্চ্যুয়াল বৈঠক করেন মমতা ও অভিষেক। বৈঠকে যোগ দেন তৃণমূলের সব কাউন্টিং এজেন্ট ও দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা।
এই বৈঠকেই মমতা বলেন, শেয়ারবাজারকে চাঙা রাখতেই বুথফেরত সমীক্ষায় বিজেপিকে জয়ের জন্য এগিয়ে রাখা হয়েছে। ২০২১ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একই ভূমিকা নিলেও ফলাফলে দেখা গিয়েছিল, মানুষ তৃণমূলকেই পছন্দ করেছেন এবং জিতিয়ে এনেছেন।
বুথফেরত সমীক্ষাকে আদৌ পাত্তা না দিয়ে এই দুই নেতা রাজ্যবাসীকে জানিয়ে দেন- বিজেপি নয়, ক্ষমতায় আসছে তৃণমূল। রাজ্যবাসী বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বৈঠকে অভিষেক বলেন, ভুয়া সমীক্ষাকে তুলে ধরে আর্থিক জালিয়াতি করেছে বিজেপি। এবার তার জবাব তারা পেয়ে যাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের চেয়ে এবার বেশি আসনে জিতবে তৃণমূল। ২০২১ সালে ২৯৪ আসনের বিধানসভায় তৃণমূল জিতেছিল ২১৩টিতে।
এবারের নির্বাচনে দলের কর্মীদের আপসহীন লড়াই ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর অত্যাচার সহ্য করে ভোটযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান তৃণমূল নেতারা। মমতা ও অভিষেক কাউন্টিং কেন্দ্রে থেকে ভোট গণনার প্রতি কড়া নজর রেখে প্রতি মুহূর্তের ফলাফল দলীয় নেতৃত্বকে জানাতে বলেছেন। ভোরেই দলীয় এজেন্টদের গণনা কেন্দ্রে পৌঁছে যেতে হবে এবং গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র না ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন তারা।
এবার রাজ্যের ২৯৪ আসনের ভোট গণনা হবে কলকাতাসহ ৭৭টি গণনা কেন্দ্রে। গত ২০২১ সালে এই গণনা হয়েছিল ১০৮টি কেন্দ্রে।
অভিষেক আজ অভিযোগ করে বলেন, বিজেপি এবার ‘নির্বাচন কমিশন’ হিসেবে কাজ করেছে। আর তাই তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে। হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, কমিশন নিযুক্ত যেসব পর্যবেক্ষক অসাংবিধানিকভাবে কাজ করেছেন, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে তৃণমূল।
