সংরক্ষিত নারী আসন
নুসরাতের গেজেট প্রকাশ না করার আবেদন মনিরার
প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের গেজেট প্রকাশ না করার আবেদন জানানো হয়েছে। গতকাল রোববার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দেওয়া এক চিঠিতে এই আবেদন জানিয়েছেন দলটির আরেক নেত্রী মনিরা শারমিন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দেওয়া চিঠিতে মনিরা শারমিন উল্লেখ করেন, তার দায়ের করা রিট পিটিশনের শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত নুসরাত তাবাসসুমকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা উচিত হবে না। অন্যথায় তিনি অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।
চিঠিতে তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর তার মনোনয়নপত্র প্রথমে বাতিল করা হয় এবং পরে আপিলও খারিজ হয়ে যায়। এ অবস্থায় তিনি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন, যার শুনানির দিন নির্ধারিত রয়েছে ৪ মে। তাই আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের অপেক্ষা করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। অন্যদিকে, নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র প্রথমে গ্রহণ না করা হলেও আদালতের নির্দেশে তা বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং তাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, মনিরা শারমিনের রিটের রায় অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আদালত যদি তার পক্ষে রায় দেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট আসনে ভোটগ্রহণ হতে পারে। আর রিট খারিজ হলে নুসরাত তাবাসসুমই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হিসেবে চূড়ান্ত হবেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের ৪৯ প্রার্থী এরই মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেও এই আসনটি নিয়ে আইনি জটিলতা এখনো কাটেনি।
মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা নিয়ে রিটের শুনানি হতে পারে আজ : সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিল করা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হওয়া রিট আবেদনের শুনানি হতে পারে ব্জ সোমবার। হাইকোর্টের বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এই শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ ও রিটকারীর আইনজীবী সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। যদিও গতকাল রোববার রিটের ওপর শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আদালতের বিচারিক কার্যক্রম না চলায় এই শুনানি হয়নি। মনিরা শারমিন ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদন করেন। এর আগে গত ২৩ এপ্রিল রিটার্নিং কর্মকর্তা এনসিপি নেত্রীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। কারণ হিসেবে বলা হয়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ অনুযায়ী, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্য নন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি ২৬ এপ্রিল নির্বাচন কমিশনে আপিল আবেদন জমা দেন। তবে পরদিন দীর্ঘ শুনানির পর নির্বাচন কমিশন তার আপিল খারিজ করে দেয়। তাই হাইকোর্টে যান তিনি। মনিরা শারমিনের হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে চাকরি ছাড়েন। সেই হিসাবে চাকরি ছাড়ার পর এখনও ৩ বছর পূর্ণ হয়নি। সাড়ে ৪ মাস অতিবাহিত হয়েছে।
