পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান
* হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ৫ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত * প্রণালী পার হওয়ার মার্কিন চেষ্টার ‘কঠোর’ জবাব দেওয়া হবে : ইরান * আরব আমিরাতে হামলা : আবার যুদ্ধের শঙ্কায় উপসাগরীয় দেশগুলো * ইরানকে ‘পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলার’ হুমকি ট্রাম্পের * রাজনৈতিক সংকটের ‘সামরিক সমাধান’ নেই : ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী * যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে নাটকীয়ভাবে বাড়ল তেলের দাম
প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরান যুদ্ধের ভঙ্গুর অস্ত্রবিরতি এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়া শত শত জাহাজ ও এগুলোর নাবিকদের উদ্ধারে গত সোমবার ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সময় বেসামরিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা ইরানের ছয়টি নৌযান ডুবিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তেহরান এ দাবি নাকচ করে দিয়েছে। এদিকে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলের পথ আবার খুলে দেওয়ার চেষ্টায় নিয়োজিত মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরান হামলা চালালে দেশটিকে ‘পৃথিবীর বুক থেকে মুছে দেওয়া’ হবে বলে হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন কড়া হুঁশিয়ারি এই অঞ্চলকে আবারও একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে।
বার্তা সংস্থা এপির বরাতে জানা গেছে, গত মাসের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এ প্রথম সরাসরি ইরানি হামলার শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, নতুন একটি উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত সোমবার তাদের পতাকাবাহী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালী পার হয়েছে।
আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরান থেকে ছোড়া ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ও চারটি ড্রোন প্রতিহত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এ ছাড়া আমিরাতের ফুজাইরাহ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রোনের আঘাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে আগুন লেগেছে। এতে সেখানে কর্মরত তিন ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন। ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আমিরাত উপকূলে দুটি পণ্যবাহী জাহাজে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। ইরান এসব হামলার বিষয়ে সরাসরি কোনো স্বীকারোক্তি দেয়নি বা অস্বীকার করেনি। তবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও আরব আমিরাতের উচিত হবে না নিজেদের আবারও কোনো ‘চোরাবালিতে’ টেনে নেওয়া।
হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ৫ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত, দাবি ইরানের : হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন বাহিনী বেসামরিক নৌযানে হামলা চালিয়েছে এবং এতে পাঁচ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরান। তেহরান থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি রেসুল সরদার আতাস এ তথ্য জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র যেসব নৌযানে হামলা চালানোর কথা বলেছে, সেগুলো ইরানের বিশেষায়িত বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) নয় বলে দাবি করেছে তেহরান। তাদের ভাষ্য, নৌযানগুলো ছিল সাধারণ বেসামরিক মানুষের।
ইরান আরও দাবি করেছে, মার্কিন ডেস্ট্রয়ারগুলো (যুদ্ধজাহাজ) তাদের রাডার বন্ধ রেখে হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ইরানি নৌবাহিনী এ অঞ্চলে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখায় রাডার চালু করার সঙ্গে সঙ্গেই সেগুলো ধরা পড়ে যায়। শনাক্ত করার পর ইরানি নৌবাহিনী মার্কিন জাহাজগুলো লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গোলাবর্ষণ করে। সতর্কবার্তার অংশ হিসেবে কমব্যাট ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট ব্যবহার করা হয়। ফলে মার্কিন ডেস্ট্রয়ারগুলো ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
গত মাসে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এ প্রথম হরমুজ প্রণালীতে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে আক্রমণের ঘটনায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চুক্তিটি এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তেহরান স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, মার্কিন নৌবাহিনী যদি আবারও হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশের চেষ্টা করে, তবে তা যুদ্ধবিরতি চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে।
হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার মার্কিন চেষ্টার ‘কঠোর’ জবাব দেওয়া হবে- ইরান : হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের যেকোনো প্রচেষ্টার ‘কঠোর’ জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) রাজনৈতিক শাখার উপপ্রধান ইয়াদুল্লাহ জাভানি এ হুঁশিয়ারি দেন। ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএকে জাভানি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ‘ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করতে চাইছেন। এটা তার নতুন সমস্যা। ৪০ দিনের যুদ্ধ ও পরবর্তী সময়ে তিনি সবখানে টোকা দিয়েছেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।’ জাভানি অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের ওপর ‘চাপ সৃষ্টি’ করে এই জলপথটি সচল করার চেষ্টা করছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে জাভানি বলেন, ‘এর অর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্র এখন আর কোনো পরাশক্তি নয়। বরং তারা এখন আরেকটি পরাশক্তির মুখোমুখি হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, হিসাব করলে দেখা যাবে, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়ক্ষতি ইরানের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। জাভানি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র নিজের সামর্থ্য যাচাই করবে, সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে এবং শেষ পর্যন্ত পরাজিত হবে।’
আরব আমিরাতে হামলা, আবার যুদ্ধের শঙ্কায় উপসাগরীয় দেশগুলো : সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর সাম্প্রতিকতম হামলা এ অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করেছে। কাতার থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি আসাদ বেগ জানিয়েছেন, এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমিরাত দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে অন্তত একটি ড্রোন ফুজাইরা এলাকায় তেল শোধনাগারে আঘাত হেনেছে। এতে সেখানে কর্মরত তিন ভারতীয় আহত হয়েছেন।
আমিরাতের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত ফুজাইরা একটি কৌশলগত জ্বালানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে একযোগে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ছুড়ে এ হামলা চালানো হয়েছে। গত এপ্রিলের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর আমিরাতে এ হামলাই সবচেয়ে বড় উত্তেজনার ঘটনা। এর ফলে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে।
আমিরাত এ হামলার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করলেও তেহরান এ পর্যন্ত দায় স্বীকার করেনি। কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব, পাকিস্তান, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের সময় অন্তত সাতটি আরব দেশ হামলার শিকার হয়েছিল। সে সময় আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করেই ছোড়া হয়েছিল অন্তত ৬ হাজার ৪১৩ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন। এ অঞ্চলের কোনো দেশই এখন সেই ভয়াবহ যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি চায় না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি তাদের আবারও অনিচ্ছা সত্ত্বেও যুদ্ধের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
ইরানকে ‘পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলার’ হুমকি ট্রাম্পের : হরমুজ প্রণালীতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ পরিচালনাকারী মার্কিন জাহাজে হামলা চালালে ইরানকে ‘পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা’ হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘আগের তুলনায় আমাদের কাছে এখন অনেক উন্নত মানের প্রচুর অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে। আমাদের কাছে সেরা সব সরঞ্জাম আছে। সারা বিশ্বে আমাদের সামরিক সরঞ্জাম ও ঘাঁটি ছড়িয়ে আছে। সেগুলো সরঞ্জামে পরিপূর্ণ। আমরা সেই সবকিছুই ব্যবহার করতে পারি এবং প্রয়োজন হলে আমরা তা করব।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে ইরান এখন ‘অনেক বেশি নমনীয়’ হয়েছে। সেই সঙ্গে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তিনি।
রাজনৈতিক সংকটের কোনো ‘সামরিক সমাধান’ নেই- ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী : রাজনৈতিক সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই- হরমুজ প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতি থেকে এটি স্পষ্ট। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে গত সোমবার দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি লেখেন, ‘পাকিস্তানের আন্তরিক প্রচেষ্টায় যখন আলোচনা এগোচ্ছে, তখন অশুভ শক্তির প্ররোচনায় পুনরায় কোনো চোরাবালিতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্ক হওয়া উচিত। একই কথা সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।’ আরাগচি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম আসলে প্রজেক্ট ডেডলকে (অচল অবস্থা) পরিণত হয়েছে।’ হরমুজে আটকে পড়া বিভিন্ন দেশের জাহাজকে প্রণালীটিতে ছাড়তে সহায়তা করতে গত সোমবার সকাল থেকে প্রজেক্ট ফ্রিডম নামের একটি অভিযান শুরু করে মার্কিন সেনাবাহিনী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের প্রচেষ্টাকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের শামিল আখ্যা দিয়ে তা প্রতিরোধের ঘোষণা দেয় ইরান।
আমিরাতে মার্কিন দূতাবাসের সতর্কতা জারি : সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের মিশন দেশটিতে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের জন্য ‘আকাশপথে সম্ভাব্য হুমকির’ বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মিশন জানিয়েছে, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত মার্কিন মিশন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আমেরিকানদের আমিরাত কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করার ও নির্দেশ পেলে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছে।’ আমিরাত গত সোমবার জানায়, তারা ইরান থেকে ছোড়া ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ও চারটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এই হামলাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক’ আখ্যা দিয়ে দেশটি পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার রক্ষার ঘোষণা দিয়েছে। এই বিষয়ে এ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি ইরান। মার্কিন মিশন আরও জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য তাদের বর্তমান ভ্রমণ সতর্কতা ৩ স্তরে অপরিবর্তিত রয়েছে। এর অর্থ হলো মার্কিন নাগরিকদের সেখানে ‘ভ্রমণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা’ করা উচিত। বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেট জেনারেল খোলা থাকলেও, ‘জরুরি নয় এমন মার্কিন সরকারি কর্মীদের সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাইরে স্থানান্তর করা হয়েছে।’
আমিরাতে ইরানের হামলার নিন্দা যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার : সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় প্রভাবশালী কয়েকটি পশ্চিমা দেশ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং কানাডা পৃথক বিবৃতিতে এই হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আমিরাতে ইরানের হামলার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার অবশ্যই বন্ধ হতে হবে। উপসাগরীয় অঞ্চলে আমাদের অংশীদারদের প্রতিরক্ষায় আমরা সমর্থন অব্যাহত রাখব।
ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে স্টারমার বলেন, দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে এই অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখা জরুরি। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেন, আরব আমিরাত ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের ভূখণ্ড রক্ষায় ফ্রান্স সব সময় পাশে থাকবে। বর্তমান সংকট সমাধানে দুটি শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন মাখো। ১. হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করা। ২. আঞ্চলিক দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি টেকসই চুক্তি করা।
ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার প্রধান কারণ বলে উল্লেখ করে মাখোঁ। আমিরাতে ইরানের হামলার ঘটনায় সংহতি প্রকাশ করে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক বিবৃতিতে লেখেন, আমরা শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ এবং আমিরাতের জনগণের পাশে আছি। বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামো রক্ষায় তাদের প্রচেষ্টাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে এই অঞ্চলে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো এবং উত্তেজনা কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত গত সোমবার জানায়, তারা ইরান থেকে ছোড়া ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ও চারটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এই হামলাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক’ আখ্যা দিয়ে দেশটি পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার রক্ষার ঘোষণা দিয়েছে। এই বিষয়ে এ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি ইরান।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের হামলার নিন্দা সৌদি আরবের : সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা তেল শিল্প এলাকার একটি স্থাপনায় হামলার পর সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ড ও ধোঁয়া। ফুজাইরা মিডিয়া অফিসের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের মধ্যে গত ৪ মার্চ ফুজাইরায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি ড্রোন ভূপাতিত করার পর এর ধ্বংসাবশেষ থেকে এ আগুনের সূত্রপাত হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা তেল শিল্প এলাকার একটি স্থাপনায় হামলার পর সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ড ও ধোঁয়া। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সৌদি প্রেস এজেন্সি জানায়, যুবরাজ টেলিফোনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে কথা বলেন।
মোহাম্মদ বিন সালমান মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে বলেন, ‘ভ্রাতৃপ্রতিম সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের এই অযৌক্তিক হামলার নিন্দা জানাচ্ছে সৌদি আরব।’ একই সঙ্গে আমিরাতের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় রিয়াদের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। সংযুক্ত আরব আমিরাত গত সোমবার জানায়, তারা ইরান থেকে ছোড়া ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ও চারটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এই হামলাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক’ আখ্যা দিয়ে দেশটি পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার রক্ষার ঘোষণা দিয়েছে। এই বিষয়ে এ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি ইরান।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানি হামলার তীব্র নিন্দা কাতারের : সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বেসামরিক এলাকা ও স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ইরানের চালানো হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। এক বিবৃতিতে কাতারের আমিরের দপ্তর জানায়, কাতারের আমির টেলিফোনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কাতার সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে দেশটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নেওয়া সব পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে নাটকীয়ভাবে বাড়ল তেলের দাম : হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অচলাবস্থা সহিংসতায় রূপ নেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। এই সংঘাত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সই হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্থায়িত্ব নিয়ে বড় ধরনের সংশয় তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গত সোমবার প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৪ দশমিক ৪৪ ডলারে ঠেকেছে। গতকাল মঙ্গলবার দাম কিছুটা কমে গ্রিনিচ মান সময় রাত দুইটা নাগাদ ১১৩ দশমিক ৫৪ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন বাহিনীর হামলায় ইরানের দ্রুতগামী সামরিক নৌযান ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর এই যুদ্ধের ঝুঁকিই তেলের বাজারকে ঊর্ধ্বমুখী করে তুলছে।
