‘সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে’ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র, অভিযান স্থগিত
* কেউ আমাদের আত্মসমর্পণ করাতে পারবে না : পেজেশকিয়ান * হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে ড্রোনের তৎপরতা রুখে দেওয়ার দাবি ইরানের * আমিরাতকে নয়, যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করেই হামলা হয়েছে : ইরান * ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ অবৈধ : চীন
প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানে অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন ইরানের বিরুদ্ধে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। রুবিও বলেন, ‘আমরা শান্তির পথই চাই। প্রেসিডেন্টও একটি চুক্তিই চান।’ পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত আরও দুটি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ইরানের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও এখনো চূড়ান্ত কোনো সম্মতি আসেনি, তবে সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দুই পক্ষ এখন সমঝোতার সবচাইতে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। চুক্তির প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইরান তাদের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করার প্রতিশ্রুতি দেবে; বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিভিন্ন দেশে জব্দ থাকা ইরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের তহবিল ছেড়ে দিতে রাজি হবে। এছাড়া হরমোজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের ওপর উভয় পক্ষ যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, তাও তুলে নেওয়া হবে।
ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের : ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় হরমুজ প্রণালীতে সামরিক অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধ এবং ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর থাকবে। চুক্তি চূড়ান্ত করা ও স্বাক্ষর করা সম্ভব কি না, তা দেখার জন্য প্রজেক্ট ফ্রিডম স্থগিত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। তবে এ সময়ও ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ পুরোপুরি বহাল থাকবে। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমরা পরস্পর একমত হয়েছি যে অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে কার্যকর থাকলেও প্রজেক্ট ফ্রিডম স্বল্প সময়ের জন্য স্থগিত থাকবে। মূলত (শান্তি) চুক্তিটি চূড়ান্ত ও স্বাক্ষর করা সম্ভব কি না, তা যাচাই করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ তবে ট্রাম্পের এ বার্তার বিষয়ে গতকাল বুধবার সকালে তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
কেউ আমাদের আত্মসমর্পণ করাতে পারবে না- ইরানের প্রেসিডেন্ট : প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের মার্কিন হুমকির কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ‘কেউ আমাদের আত্মসমর্পণ করাতে পারবে না। শিয়া মতাদর্শের অনুসারীদের জোর করে বশীভূত করা সম্ভব নয়।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান জানান, তিনি ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সামরিক হুমকি প্রত্যাহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে তাদের নতুন নিরাপত্তা পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে এই অঞ্চল ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ বন্ধ করা।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধ এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে আলোচনা চলছে, সেখানে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা এখন অন্যতম বড় বিরোধের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে ড্রোনের তৎপরতা রুখে দেওয়ার দাবি ইরানের : ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে বিকট শব্দ শোনা গেছে। একে ড্রোনের অনুপ্রবেশ রুখে দেওয়ার ফল হিসেবে দাবি করেছে দেশটির স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘স্টুডেন্ট নিউজ নেটওয়ার্ক’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, সেখানে কোনো বিস্ফোরণ বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। হরমুজগান প্রদেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই এলাকায় কিছু গোয়েন্দা ড্রোনের গতিবিধি শনাক্ত করার পর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। এ সময় ড্রোনগুলো ‘মোকাবিলা’ করার কারণে বিকট শব্দ তৈরি হয়েছিল। দ্বীপে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর অস্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ। বিবদমান হরমুজ প্রণালীতে ইরানের এই কৌশলগত দ্বীপে বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এ বিবৃতি দেওয়া হলো।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চললেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কয়েকবার ড্রোন প্রতিহত করেছে। এমনকি খোদ তেহরানের আকাশে ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিহত করার খবর পাওয়া গেছে।
হরমুজে ইরানের অনুমোদিত পথ ছাড়া জাহাজ চললে ‘কঠোর জবাব’ দেবে তেহরান : হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তেহরানের অনুমোদিত রুট বা পথ ছাড়া অন্য কোনো পথে জাহাজ চললে ‘কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তারা। আইআরজিসির নৌবাহিনীর এক বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, ‘আমরা সেই সব জাহাজকে সতর্ক করছি। যারা এই প্রণালী অতিক্রম করতে চায় তাদের যাতায়াতের একমাত্র নিরাপদ পথ হচ্ছে ইরানের পূর্বঘোষিত করিডোর।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত পথ এড়িয়ে অন্য পথে জাহাজ সরিয়ে নেওয়া অনিরাপদ এবং এমনটি করা হলে আইআরজিসি নৌবাহিনী তার চূড়ান্ত ও কঠোর জবাব দেবে।
হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন বাহিনীর ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযান নিয়ে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই ইরান এই হুঁশিয়ারি দিল। কিছুক্ষণ আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযান মাত্র শুরু করেছে।
আমিরাতকে নয়, যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে- ইরান : সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরান। দেশটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রই ছিল তাদের হামলার একমাত্র লক্ষ্য। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে এ কথা জানান। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান তার স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত যেকোনো পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না। সংযুক্ত আরব আমিরাত সোমবার জানায়, তারা ইরান থেকে ছোড়া ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ও চারটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এই হামলাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক’ আখ্যা দিয়ে দেশটি পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার রক্ষার ঘোষণা দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালীতে কার্গো জাহাজে ‘অজ্ঞাত বস্তুর’ আঘাত : হরমুজ প্রণালিতে একটি কার্গো জাহাজে এক ‘অজ্ঞাত বস্তু’ আঘাত করেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য বিষয়ক সংস্থা ইউকেএমটিও। সংস্থাটি জানায়, যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে তাদের কাছে এ ঘটনার তথ্য পৌঁছায়। ইউকেএমটিও আরও জানায়, একটি যাচাইকৃত সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যমতে, এ ঘটনা পরিবেশের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হরমুজে প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোতে সন্দেহজনক কোনো কার্যকলাপ দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পরামর্শ দিয়েছে ইউকেএমটিও।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ অবৈধ- চীন : ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধকে ‘অবৈধ’ বলে আখ্যায়িত করেছে চীন। বেইজিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে এক বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এই মন্তব্য করেন। বৈঠকে ওয়াং ই বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে চীন প্রস্তুত। এ মুহূর্তে ওই অঞ্চলে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি অপরিহার্য’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি একটি ‘সংকটপূর্ণ মোড়ে’ দাঁড়িয়ে আছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সরাসরি বৈঠক হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে চীনের দৃঢ় অবস্থানের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বেইজিং প্রমাণ করেছে তারা ইরানের ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’। ইরানের বিরুদ্ধে এ যুদ্ধকে সরাসরি আগ্রাসন ও আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেন আরাগচি। তিনি আরও বলেন, তেহরান আলোচনার মাধ্যমে তার বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তবে তারা শুধু একটি ‘ন্যায়সংগত ও পূর্ণাঙ্গ চুক্তি’ মেনে নেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুধু একটি ‘ন্যায্য ও পূর্ণাঙ্গ’ চুক্তিই গ্রহণ করবে ইরান : চীনকে আব্বাস আরাগচি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তাঁর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুধু একটি ‘ন্যায্য ও পূর্ণাঙ্গ’ চুক্তিই গ্রহণ করবে। গতকাল বুধবার বেইজিংয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটি আরাগচির প্রথম চীন সফর। ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে আরাগচি ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছেন, ইরানের স্বার্থ রক্ষা করে এমন কোনো স্থায়ী ও ন্যায়সংগত সমাধান ছাড়া তেহরান অন্য কিছু মেনে নেবে না। চীনকে ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করে আরাগচি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বেইজিংয়ের অবস্থান ও সহযোগিতার জন্য তেহরান কৃতজ্ঞ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলেও তিনি আশা ব্যক্ত করেন। বৈঠকে চীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে আরোপিত সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে।
