৯ মে মুখ্যমন্ত্রীর শপথ সহিংসতায় নিহত ৪
প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আলোকিত ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ৯ মে সকাল ১০টায় কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিজেপি। তবে বিধানসভা দলের নেতা হিসেবে এখনও কারও নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। নাম ঘোষণা না করলেও সেদিন বিজেপির পক্ষ থেকেই কেউ একজন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। এর আগে মঙ্গলবার নির্বাচনে কারচুপি ও জোর করে ক্ষমতা দখলের অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের এই সভানেত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পদত্যাগের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তিনি বলেন, ‘পদত্যাগের কোনো প্রশ্নই নেই। আমি পদত্যাগ করব না।’ পদত্যাগ করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বীকৃতি নিয়ে জোর সমালোচনা শুরু করেছে বিজেপি। মঙ্গলবার বিজেপি নেতারা মমতার এই অবস্থানকে ‘হাস্যকর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। রাজ্য বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু কয়েক দিন আলোচনায় থাকার জন্য এই অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি নিজেকে শুধু হাস্যকরই করে তুলছেন।
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় নিহত ৪, পশ্চিমবঙ্গে যাচ্ছেন অমিত শাহ : বিধানসভার ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে হাওড়ার উদয়পুর ও রাজারহাট নিউ টাউনে তৃণমূল সমর্থকরা দুই বিজেপি কর্মীকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পদ্মশিবিরের। অন্যদিকে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দলও বলছে, বীরভূমের নানুর এবং কলকাতার বেলেঘাটায় বিজেপি কর্মীরা তাদের দলের দুই সদস্যকে খুন করেছে। বীরভূম, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, নদিয়া, বাঙ্কুরাসহ একাধিক জায়গায় দু’পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়েছে। একাধিক জায়গায় তৃণমূলের কার্যালয় ভাঙচুর হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে আসানসোল শিল্পাঞ্চলে তৃণমূলের একাধিক দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছে আনন্দবাজার। কার্যালয়ের আগুন পরে একটা কেকের দোকানেও ছড়িয়ে পড়ে।
পাশাপাশি রূপনারায়ণপুর টোল প্লাজা, কুমারপুর, কুলটি, রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া, বারাবনি এবং বার্ণপুরে তৃণমূলের একাধিক দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। কিছু কার্যালয় গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করছেন ঘাসফুলের নেতাকর্মীরা। তবে বিজেপি এসবের দায় স্বীকার করেনি। নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন থেকেই নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কেরা দাবি করছেন, সহিংসতা, ভাঙচুরে তাদের কোনো কর্মী জড়িত নন। তবে কোথাও কোথাও ‘দুষ্কৃতিকারীরা’ বিজেপির নাম ব্যবহার করে ‘অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছে’। সহিংসতা রুখতে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
কোথাও ভাঙচুর বা সহিংসতার ঘটনা দেখলেই অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে বলেয়েছেন তিনি। রাজ্যের মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর মহাপরিচালককে সতর্ক থাকারও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। প্রস্তুত থাকতে বলেছেন জেলা কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। এদিকে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় বসতে যাওয়া বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী কে হবে, তা ঠিক করতে দল থেকে অমিত শাহকে পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হয়েছে।
বিধানসভায় বিজেপির ‘পরিষদীয় দলনেতা’ বেছে নেওয়ার কাজে পর্যবেক্ষক করা হয়েছে তাকে। তার সঙ্গে সহকারী পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝিকে।
আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৃণমূলের দুর্গকে দৃশ্যত দুরমুশ করে রাজ্যের শাসনক্ষমতা দখল করেছে বিজেপি। ২০৭ আসনে জিতে এখন সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে পদ্মফুল। ফল প্রকাশের পরের দিনই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানায়, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় দলের পরিষদীয় দলনেতা বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় পর্যবেক্ষক করা হয়েছে শাহকে। তার সহকারী হিসেবে থাকবেন মোহনচরণ।
সাধারণত, যে কোনো রাজ্যে নির্বাচনের পরে পরিষদীয় দলনেতা বাছাইয়ের সময় সেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের পাঠান বিজেপি নেতৃত্ব। তারা দলের নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেই দলনেতা ঠিক হয়। তাতেই ঠিক হয়ে যাবে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নামও।
পর্যবেক্ষক হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতাদের পাঠানোর রীতি থাকলেও নরেন্দ্র মোদির ‘সেকেন্ড ইন-কমান্ড’ অমিত শাহকে এমন দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনা বেশ বিরল। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন এবং এই জয়কে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন, এতেই তা বোঝা যাচ্ছে।
মমতার নিয়োগ দেওয়া অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের অফিসে আসতে নিষেধ : ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্ব পালন করা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের গতকাল বুধবার থেকে অফিসে না আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালা লোক ভবন থেকে জারি হওয়া এই নির্দেশ সব দপ্তরের সচিবদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি দপ্তরের সচিবদের নিজ নিজ কার্যালয়ে মৌখিকভাবেও নির্দেশনাটি জানানো হয়েছে। নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশ কার্যকর থাকবে। আরও জানা গেছে, বিভিন্ন দপ্তরে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এরই মধ্যে পদত্যাগ করেছেন এবং সরকারি বাসভবনও ছেড়ে দিয়েছেন। এদিকে মঙ্গলবার মুখ্যসচিব সব দপ্তরকে আবারও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং কোনো অবস্থাতেই দপ্তরের বাইরে না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আর্থিক উপদেষ্টাদেরও এ প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে এবং গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয় পেয়েছে বিজেপি। টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ৮০টি আসন। এ নির্বাচনে নিজের শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুর আসনেও পরাজিত হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে তিনি ১৫ হাজার ১০৫ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূলের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ভবানীপুরে ভোট গণনার সময় দুই নেতাই উপস্থিত ছিলেন। আগামী ৯ মে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম সরকার শপথ নিতে পারে বলে প্রস্তুতি চলছে।
