ইরানের চড়া সুর, ট্রাম্পের কথায় যুদ্ধ বন্ধের ইঙ্গিত

প্রকাশ : ০৮ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ‘খুব দ্রুত’ শেষ হবে। তেহরানের পারমাণবিক ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ বন্ধ করার বিষয়ে তার লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অধিকাংশ মানুষই তার এ উদ্দেশ্য ‘বুঝতে পেরেছেন’। ইরান যখন বলছে যে তারা যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবটি এখনও বিবেচনা করছে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এ মন্তব্য সামনে এল।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস মনে করছে, তারা ইরানের সঙ্গে একটি ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। এ স্মারক ভবিষ্যতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনার একটি রূপরেখা বা ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে ইরানের ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রস্তাব নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইবরাহিম রেজায়ি মার্কিন প্রস্তাবকে নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা দাবি-দাওয়ার তালিকা ছাড়া আর কিছুই নয়।

ইবরাহিম রেজায়ি আরও বলেন, রণক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যা অর্জন করতে পারেনি, তা আলোচনার টেবিলে আদায়ের অপচেষ্টা করছে। ইরান কোনো ‘চাপের মুখে’ নতি স্বীকার করবে না। প্রয়োজনে পাল্টা আঘাতের জন্য দেশটির সেনারা প্রস্তুত আছেন।

অন্যদিকে গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁর সঙ্গে ফোনালাপে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, কূটনৈতিক পথে যুদ্ধ বন্ধে ইরান প্রস্তুত। তবে ইরানের জনগণের অধিকার রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না বলে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

ফোনালাপে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর অবিশ্বাসও প্রকাশ করেন। তার অভিযোগ, দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলাকালেই ইরানে দুবার হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এটি ‘পেছন থেকে ছুরি মারা’র সামিল।

এক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে, জানালেন ট্রাম্প : ইরানের সঙ্গে এক সপ্তাহের মধ্যেই একটি সমঝোতা বা চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার ফক্স নিউজের সাংবাদিক ব্রেট বায়ার এক লাইভ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান। সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এ খবর প্রকাশ করেছে।

ব্রেট বায়ার বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে তিনি বেশ আশাবাদী। আমি তাকে সময়সীমার কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, সব ঠিক থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যেই এটি চূড়ান্ত হতে পারে।’ তবে ট্রাম্প বিষয়টিকে ‘সতর্ক আশাবাদ’ হিসেবে দেখছেন বলেও বায়ার উল্লেখ করেন। সম্ভাব্য এ চুক্তির মূল শর্ত হিসেবে দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, ইরান থেকে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া ও দ্বিতীয়ত, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত রাখা নিশ্চিত করা। একই দিন হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের আলোচনা বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছে। তারা নিজেরাও আলোচনা করতে ও চুক্তিতে আসতে চায়। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কী হয়।’

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একতরফা হামলা চালায়। জবাবে ইরান ইসরায়েলে ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের ওপর পাল্টা হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। এরপর ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ান।

অন্যদিকে, ১৩ এপ্রিল থেকে হরমুজ প্রণালীতে ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত মঙ্গলবার ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, এ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে মার্কিন বাহিনীর শুরু করা বিশেষ অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। কিন্তু মার্কিন নৌ-অবরোধ আগের মতোই পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে বলে তিনি জানান।

তেহরান-ওয়াশিংটন সম্ভাব্য সমঝোতা সম্পর্কে মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করল ইরান : ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে প্রচারিত মার্কিন গণমাধ্যমের দাবিকে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা বলে অভিহিত করেছেন। ইরানি পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মাদ বাকের কলিবফ সাম্প্রতিক সেইসব প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সমঝোতা হতে যাচ্ছে। তিনি এসব খবরকে বিভ্রান্তিকর এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বারবার ছড়ানো ভুয়া প্রচারণার অংশ বলে বর্ণনা করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোহাম্মদ বাকের কলিবফ এ ধরনের একটি সমঝোতা নিয়ে মার্কিনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসে প্রকাশিত খবরের প্রতি ইঙ্গিত করে ব্যঙ্গাত্মকভাবে এটিকে ‘অপারেশন ফক্সিওস’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি এই ইঙ্গিত দেন যে, এ ধরনের প্রতিবেদন প্রচার যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম কাভারেজের একটি নিয়মিত ধরন, বিশেষ করে অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে প্রকাশিত গল্পগুলো, যেগুলোকে ইরানি কর্মকর্তারা বারবার ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং পরবর্তীতে সেগুলো ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

কলিবফ আরও বলেন, এই ‘মনস্তাত্ত্বিক অপারেশন’ এসেছে ‘অপারেশন ‘ট্রাস্ট মি ব্রো’ ব্যর্থ হওয়ার পর,’ যা তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতাপূর্ণ উদ্দেশ্যের ব্যর্থতার ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ইরানে হামলা চালায়। এরপর ৭ এপ্রিল ট্রাম্প একতরফাভাবে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়, যখন ইরান অন্তত ১০০ দফা প্রতিশোধমূলক ও সফল পাল্টা হামলা চালিয়ে এই আক্রমণের জবাব দেয়। এর ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, ইরান আগ্রাসী শত্রু ও তাদের মিত্রদের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় এবং পরে ওয়াশিংটন পক্ষ থেকে আরোপিত অবৈধ নৌ-অবরোধের পর জলপথে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।

ইরান নিয়ে ট্রাম্পের সামনে এখন দুটিই পথ- আইআরজিসি : ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে এসেছে বলে দাবি করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখা। তাদের কথায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সামনে এখন কেবল দুটি পথই খোলা। প্রথমত: ‘অসম্ভব’ সামরিক অভিযানে যাওয়া, অথবা দ্বিতীয়ত. ইরানের সঙ্গে একটি ‘খারাপ চুক্তি’ করা। আইআরজিসি জানিয়েছে, ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন সামরিক অবরোধ প্রত্যাহারের জন্য তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। তবে এই সময়সীমা ঠিক কবে, সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।

আইআরজিসি আরও দাবি করেছে যে, সম্প্রতি ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে চীন, রাশিয়া ও ইউরোপের সুর বা অবস্থান পাল্টেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আইআরজিসি বলেছে, এ পরিস্থিতিকে শুধু একভাবেই ব্যাখ্যা করা যায় যে, ট্রাম্পকে এখন একটি অসম্ভব সামরিক অভিযান অথবা ইরানের সঙ্গে একটি খারাপ চুক্তি- এ দু’য়ের মধ্যে যে কোনও একটিকে বেছে নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ এখন সীমিত হয়ে এসেছে।

সৌদি-কুয়েতের বাধায় ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত : হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিতর্কিত অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি আরব ও কুয়েত তাদের সামরিক ঘাঁটি ও আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি বাতিল করায় ট্রাম্প এই আকস্মিক ঘোষণা দিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ দুজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যখন এই অভিযানের ঘোষণা দেন, তখন সৌদি আরবের শীর্ষ নেতৃত্ব চরম ক্ষুব্ধ হন। রিয়াদ তাৎক্ষণিকভাবে ওয়াশিংটনকে জানিয়ে দেয়, এই অভিযানে তারা কোনো ধরনের সমর্থন দেবে না। এমনকি প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি ও সৌদি আকাশপথ ব্যবহার করে এই অভিযান চালানো যাবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেয়া হয়।

পরবর্তীতে ড্রপ সাইট-এর প্রতিবেদনে এক মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়, কুয়েতও তাদের দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও আকাশপথ ব্যবহারের সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ মিত্রের এমন অনড় অবস্থানের কারণেই ট্রাম্প তার উচ্চাভিলাষী এই প্রকল্পটি সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন।

মার্কিন বিমানকে নিজ আকাশসীমা ব্যবহারের ‘অনুমতি দেয়নি’ সৌদি আরব ও কুয়েত : সৌদি আরব ও কুয়েত তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ পাহারার পরিকল্পিত নৌ-অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি ব্যবহার কিংবা সৌদি আরবের আকাশসীমা দিয়ে মার্কিন বিমান ওড়ার অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সৌদি আরব।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, গত রোববার ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণার সিদ্ধান্তে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো অনেকটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেও ওই বিষয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি।

সৌদি আরবের এক কর্মকর্তা এনবিসি নিউজকে বলেছেন, ‘সমস্যা হলো, সবকিছু খুব দ্রুত ঘটছে।’ তবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সৌদি আরব সমর্থন করছে। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন যে, আঞ্চলিক মিত্রদের আগে থেকেই এ অভিযান সম্পর্কে জানানো হয়েছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যের একজন কূটনীতিক জানান, ট্রাম্পের প্রকাশ্য ঘোষণার পর শুধু ওমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এই কূটনীতিক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আগে ঘোষণা দিয়েছে, পরে আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করেছে। তবে এতে আমরা ক্ষুব্ধ নই।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আকস্মিক ঘোষণা সৌদি আরবের নেতৃত্বকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে। এর পরপরই দেশটি যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দেয় যে, তারা এ পরিকল্পনায় সমর্থন দেবে না।

ইতিমধ্যে, মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, সৌদি আরবের পাশাপাশি কুয়েতও তাদের দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও আকাশসীমা ওই অভিযানে ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করে দেয়।

ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত করার এক দিন পরই ইরানও এ ইস্যুতে তাদের প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করেছে। ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থা বৃহস্পতিবার জানায়, হরমুজ প্রণালি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে তারা কারিগরি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত। ইরান জানিয়েছে, তাদের জলসীমার কাছে থাকা জাহাজগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা নিতে পারবে।

হরমুজে দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজে বিস্ফোরণ-আগুন, অভিযোগ অস্বীকার ইরানের : হরমুজ প্রণালিতে এ সপ্তাহের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি জাহাজে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরান। দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে ইরানি দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলেছে, হরমুজ প্রণালীতে কোরীয় জাহাজের ক্ষতিসাধনের ঘটনায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সামরিক বাহিনীর জড়িত থাকার যেকোনো অভিযোগ ইরান দৃঢ?ভাবে প্রত্যাখ্যান ও দ্ব্যর্থহীনভাবে অস্বীকার করছে। গত মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজটিতে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের কারণ সেটিকে বন্দরে ফিরিয়ে আনার পর যাচাই করা সম্ভব হবে।

হরমুজ প্রণালীর কাছে এখনও আটকে আছে ১৬০০ জাহাজ : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চললেও বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে অতি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর কাছে এখনও প্রায় ১ হাজার ৬০০ জাহাজ আটকে আছে। মাস দুয়েকের বেশি সময় ধরে এ জলপথ ছাড়ার সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে গিয়ে জাহাজ চলাচল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ‘ব্যয়বহুল ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ পরিস্থিতিতে পড়েছে। এরই মাঝে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজে আটকে পড়া বিভিন্ন দেশের জাহাজ ও ট্যাংকারগুলো নিরাপত্তা দিয়ে প্রণালী পার হতে সহায়তা করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামের এ উদ্যোগ ৪৮ ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল। এর আওতায় মাত্র দুটি জাহাজ হরমুজ পার হয়েছে। এখন প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরা ঝুঁকি নিয়ে আর নিজস্ব উদ্যোগে হরমুজ প্রণালী পার হতে নারাজ। তাদের মতে, আটকে থাকা জাহাজগুলো পানিতে ভাসালে, সেটা পণ্য ও কর্মী- উভয়ের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে।