শান্তির সম্ভাবনা ক্ষীণ দুই মেরুতে দুই পক্ষ
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আলোকিত ডেস্ক

যুদ্ধ শেষ করার মার্কিন প্রস্তাবের প্রতি ইরানের প্রতিক্রিয়াকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে তা নাকচ করে দিয়েছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, ‘আমি ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের প্রতিক্রিয়া পড়েছি। এটা আমার পছন্দ হয়নি- একেবারেই অগ্রহণযোগ্য! এই বিষয়ে আপনাদের মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ।’ তবে এই সংঘাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো ইরানের প্রতিক্রিয়ার কোনো বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা তার দেশ ইরানের জবাব পেয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি এবং প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে কি না, সে বিষয়েও তখন কিছু বলেননি পাক প্রধানমন্ত্রী। বিবিসি বলছে, কয়েক দফায় হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটলেও, যুদ্ধ শেষ করার আলোচনা সহজ করার উদ্দেশে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যকরা আছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, এক পৃষ্ঠার ১৪ দফা মার্কিন স্মারকলিপিতে ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ চলাচল পুনর্বহালের মতো বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এতে দু’জন মার্কিন কর্মকর্তা এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও দু’টি সূত্রের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে, যাদের এই বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, স্মারকলিপিতে উল্লিখিত অনেক শর্তই একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর ওপর নির্ভরশীল হবে। ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ বলছে, তেহরানের প্রতিক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে ‘যুদ্ধের অবসান এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা’।
ট্রাম্পকে খুশি করতে ইরানে কেউ প্রস্তাব লেখে না : সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাবে তেহরান ইরানি জাতির মৌলিক অধিকারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটনের আগের প্রস্তাবটি তেহরান প্রত্যাখ্যান করেছে, কারণ ইরানের মতে সেটি ছিল ট্রাম্পের ‘অতিরিক্ত দাবির কাছে আত্মসমর্পণ করাতে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা’। তাসনিম নিউজ বলছে, ‘ইরানে কেউ ট্রাম্পকে খুশি করার জন্য পরিকল্পনা লেখে না। আলোচক দল শুধুমাত্র ইরানি জাতির অধিকারের বিষয়টি বিবেচনায় রাখে। এতে ট্রাম্প অখুশি হলে, সেটাই বরং ভালো।
সূত্রটির মতে, ‘ট্রাম্প বাস্তবতা মেনে নিতে পারেন না; আর সে কারণেই তিনি বারবার ইরানের কাছে পরাজিত হচ্ছেন।’ এর আগে যুদ্ধ শেষ করার মার্কিন প্রস্তাবের প্রতি ইরানের প্রতিক্রিয়াকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে তা নাকচ করে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, ‘আমি ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের প্রতিক্রিয়া পড়েছি। এটা আমার পছন্দ হয়নি- একেবারেই অগ্রহণযোগ্য! এই বিষয়ে আপনাদের মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ।’ এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা তার দেশ ইরানের জবাব পেয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি এবং প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে কি না, সে বিষয়েও তখন কিছু বলেননি পাক প্রধানমন্ত্রী। বিবিসি বলছে, কয়েক দফায় হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটলেও, যুদ্ধ শেষ করার আলোচনা সহজ করার উদ্দেশে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যকরা আছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, এক পৃষ্ঠার ১৪ দফা মার্কিন স্মারকলিপিতে ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ চলাচল পুনর্বহালের মতো বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইরান কখনও শত্রুর সামনে মাথানত করবে না - পেজেশকিয়ান : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে কোনো আলোচনা আত্মসমর্পণ বা পিছু হটা নয়, বরং জাতীয় অধিকার আদায় ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার লড়াই বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। খবর সিএনবিসির। পোস্টে তিনি বলেন, ইরান কখনও তার বৈধ অধিকার থেকে সরে আসবে না। আমরা কখনও শত্রুর সামনে মাথা নত করব না।
পেজেশকিয়ান বলেন, আলোচনা বা সংলাপের কথা উঠলেই সেটিকে আত্মসমর্পণ বা পিছু হটা ভাবার সুযোগ নেই। এর উদ্দেশ্য হলো ইরানি জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা এবং দৃঢ়ভাবে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা। এর কিছুক্ষণ আগেই ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দেশটির বিরুদ্ধে চলমান আগ্রাসন বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে তেহরান।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে কোনো আলোচনা শুধুমাত্র যুদ্ধ বন্ধের বিষয়কে কেন্দ্র করেই হতে হবে। পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অন্যান্য ইস্যু পরে আলোচনায় আনা যেতে পারে।
জবাবে ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মূল দাবিগুলো মানতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগের সন্তোষজনক সমাধান তারা দেয়নি।
ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান প্রায় পাঁচ দশক ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সময়ক্ষেপণের কৌশল অনুসরণ করছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে একজনের ফাঁসি দিল ইরান : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান।
গতকাল সোমবার দেশটির বিচার বিভাগের সংবাদমাধ্যম মিজান এ তথ্য জানিয়েছে। মিজান জানায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম এরফান শাকুরজাদেহ। তিনি স্যাটেলাইট-সংক্রান্ত কার্যক্রমে যুক্ত একটি বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে গোপন বৈজ্ঞানিক তথ্য সরবরাহ করেছিলেন।
মানবাধিকার সংগঠন ‘ইরান হিউম্যান রাইটস সোসাইটি’র দাবি, ২৯ বছর বয়সি এই মহাকাশ প্রকৌশল স্নাতককে ২০২৫ সালে গ্রেপ্তার করা হয় এবং জোরপূর্বক তার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছিল।
ইউরেনিয়াম দখল না করা পর্যন্ত ইরান যুদ্ধ শেষ হবে না - নেতানিয়াহু : ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়েছে বলা যাবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানের মজুত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া না হয়। এমনটাই মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত রোববার সিবিএসের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘৬০ মিনিটস’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। কারণ ইরানের কাছে এখও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা সরিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি যেসব স্থানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চলছে, সেগুলোও ভেঙে ফেলতে হবে।’
ইউরেনিয়াম কীভাবে সরানো হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ভেতরে যেতে হবে এবং তা নিয়ে আসতে হবে।’ তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানও একই। নেতানিয়াহুর ভাষ্য, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাকে বলেছেন, ‘আমি সেখানে যেতে চাই।’ তবে নেতানিয়াহুর এ বক্তব্য ট্রাম্পের প্রকাশ্য অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বর্তমানে দেশের ভেতরে ইরান যুদ্ধ শেষ করার জন্য বাড়তি চাপের মুখে রয়েছেন।
তিনি বরাবরই বলে আসছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। গত রোববার প্রচারিত আরেক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান ‘সামরিকভাবে পরাজিত’ হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র চাইলে যেকোনো সময় ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিতে পারবে।
টেলিভিশন সাংবাদিক শ্যারিল অ্যাটকিসনের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যখন চাই তখনই সেটা নিতে পারব। পুরো বিষয়টি আমাদের নজরদারিতে রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওই স্থানটি খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কেউ সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করলে আমরা জানতে পারব এবং সঙ্গে সঙ্গে হামলা চালাব।’
সিবিএসের প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু জানান, তিনি সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে একটি সমঝোতাকেই বেশি গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এটি বাস্তবভাবে করা সম্ভব। এটা বড় কোনো সমস্যা নয়। যদি একটি চুক্তি হয় এবং আপনি ভেতরে গিয়ে তা সরিয়ে আনতে পারেন, তাহলে সেটিই হবে সবচেয়ে ভালো উপায়।’
তবে গোপনে রাখা ইউরেনিয়াম দখলে নিতে সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি সরাসরি কিছু বলতে চাননি। নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের সামরিক পরিকল্পনা বা সক্ষমতা নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না।’
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কোনো সময়সীমাও দিচ্ছি না। তবে এটুকু বলতে পারি, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মিশন।’ এ ছাড়া, যুদ্ধের আরও কিছু লক্ষ্য এখনো অর্জিত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইরান এখনও বিভিন্ন প্রক্সি গোষ্ঠীকে সমর্থন দিচ্ছে। তারা এখনও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। যদিও আমরা তাদের সক্ষমতার বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করেছি, তবুও অনেক কিছু এখনও রয়ে গেছে এবং কাজ শেষ হয়নি।’
