জামিন পেলেন শাকিল, ফারজানা রুপা ও ব্যারিস্টার সুমন
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের ঘটনার প্রেক্ষিতে দায়ের করা পাঁচটি মামলায় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শাকিল আহমেদ এবং ছয়টি মামলায় তার স্ত্রী জেষ্ঠ সাংবাদিক ফারজানা রুপাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া আদালত আলাদা রুল জারি করে রাষ্ট্রপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন যে, কেন এই মামলাগুলোতে তাদের স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না। একটি মামলায় আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করেছেন এবং ওই মামলায় কেন শাকিল ও রুপাকে জামিন দেওয়া হবে না, রাষ্ট্রপক্ষের কাছে তা জানতে চেয়ে দুটি পৃথক রুল জারি করেছেন। ফলে এই সাংবাদিক দম্পতি কারাগার থেকে এখন মুক্তি পাচ্ছেন না।
শাকিল ও রুপার দায়ের করা ১৩টি জামিন আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেন এবং এসব রুল জারি করেন।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট আদাবর থানায় দায়ের করা পোশাক শ্রমিক রুবেল হত্যা মামলায় ঢাকার একটি আদালত এই দম্পতিকে কারাগারে পাঠান। ওই বছরের ২১ আগস্ট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। একদিন পর উত্তরা পূর্ব থানায় ফজলুল করিমের মৃত্যুতে দায়ের করা হত্যা মামলায় আদালত তাদের চার দিনের রিমান্ডে পাঠান। ২৬ আগস্ট রুবেল হত্যা মামলায় তাদের আবারও পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আশিকুজ্জামান নজরুল এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আল আমিন।
হত্যাচেষ্টা মামলায় সায়েদুল হকের জামিন বহাল : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর মিরপুর থানায় করা হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ সায়েদুল হকের (ব্যারিস্টার সুমন) জামিন বহাল রয়েছে। সুমনের জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন নিষ্পত্তি করে গতকাল সোমবার আদেশ দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইমলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ। ওই মামলায় ৩ মে হাইকোর্ট থেকে জামিন পান হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সায়েদুল হক। এই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে, যা চেম্বার আদালত হয়ে আপিল বিভাগে শুনানির জন্য ওঠে।
আদালতে সুমনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মনসুরুল হক চৌধুরী, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী লিটন আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। পরে আইনজীবী লিটন আহমেদ বলেন, ‘হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ফলে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় সুমনের জামিন বহাল রইল। তার বিরুদ্ধে আরও ছয়টি মামলা থাকায় এখনই তার কারামুক্তির কোনো সুযোগ নেই।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর মিরপুর মডেল থানায় ওই মামলাটি করেন হৃদয় মিয়া। মামলার বাদী হৃদয় মিয়া হবিগঞ্জের মাধবপুর ১০ নম্বর হাতিয়াইন ইউনিয়ন যুবদলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তার সরকারের সাবেক বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সরকারি আমলা, পুলিশ, সাংবাদিকসহ ৭০ জনের বেশি ব্যক্তি গ্রেপ্তার হন। একই বছরের ২২ অক্টোবর সৈয়দ সায়েদুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মোট সাতটি মামলা রয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন তিনি।
