ঢাকা বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

যুদ্ধবিরতি ‘লাইফ সাপোর্টে’, বড় যুদ্ধের শঙ্কা

যুদ্ধবিরতি ‘লাইফ সাপোর্টে’, বড় যুদ্ধের শঙ্কা

ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির আশা ম্লান হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সাম্প্রতিকতম প্রস্তাবে তেহরানের পাঠানো জবাবকে ‘আবর্জনা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। তেহরান যুদ্ধ বন্ধের জন্য যে শর্তগুলো দিয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অগ্রহণযোগ্য। মার্কিন প্রস্তাবের জবাবে ইরান সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। এর মধ্যে লেবাননও রয়েছে, যেখানে মার্কিন মিত্র ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এ ছাড়া তেহরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। ৭ এপ্রিল শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান আমাদের যে আবর্জনা পাঠিয়েছে, তা পড়ার পর আমি বলব, যুদ্ধবিরতি এখন সবচেয়ে নড়বড়ে অবস্থায় আছে। আমি সেটি পড়া শেষও করিনি।’

‘বিধ্বংসী’ জবাবের জন্য প্রস্তুত ইরান : ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি বিধ্বংসী জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। শত্রুপক্ষকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ভুল কৌশল গ্রহণ করলে তাদের জন্য কেবল বিপর্যয়কর ফলাফলই বয়ে আনবে। সোমবার এক বিবৃতিতে কালিবাফ বলেন, ‘শত্রুদের ভুল সিদ্ধান্ত সবসময়ই তাদেরকে বিপর্যয়কর ফলাফলের দিকে নিয়ে গেছে। পুরো বিশ্ব এটি দেখেছে, বুঝতে পেরেছে। আমরা সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত এবং আমাদের পদক্ষেপ শত্রুদের বিস্মিত করবে।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে ইরানের কৌশলগত ধৈর্য এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতির নীতির অংশ হিসেবে কালিবাফের এই মন্তব্য সামনে এলো। ইরানি কর্মকর্তারা বলে আসছেন, তেহরান আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায়। তবে দেশের সার্বভৌমত্বের ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করা হলে তারা পূর্ণশক্তি দিয়ে তা রক্ষা করতে দ্বিধা করবে না। পরে এক টুইট বার্তায় কালিবাফ উল্লেখ করেন, ইরানের উপস্থাপিত ১৪ দফা প্রস্তাবে জনগণের যে অধিকারের কথা বলা হয়েছে, তা মেনে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ‘অন্য যেকোনো পন্থা সম্পূর্ণ নিষ্ফল হবে; যা একের পর এক ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনবে না। শত্রুপক্ষ যত দেরি করবে, মার্কিন করদাতাদের তত বেশি খেসারত দিতে হবে।’ কালিবাফের এই বক্তব্যে একটি স্পষ্ট সংকেত রয়েছে, যেখানে তিনি শত্রুর বেপরোয়া দুঃসাহসকে নিরুৎসাহিত করে এমন এক ‘সারপ্রাইজ’ বা বিস্ময়ের মুখোমুখি হওয়ার কথা বলেছেন, যা শত্রুরা কল্পনাও করতে পারবে না এবং সহ্য করার ক্ষমতাও তাদের থাকবে না।

‘রণক্ষেত্রের মতো কূটনীতিতেও হারবে যুক্তরাষ্ট্র’ : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির শীর্ষ উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি বলেছেন, রণক্ষেত্রে পরাজয়ের পর ইরানবিরোধী কূটনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র কখনও জয়ী হতে পারবে না। সোমবার নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলী আকবর বেলায়েতি বলেন, ট্রাম্প ভুলভাবে ভাবছেন যে তিনি ইরানকে একটি চুক্তিতে বাধ্য করতে পারবেন। বিশেষ করে এমন এক প্রেক্ষাপটে যেখানে এপ্রিলের শুরুতে একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে আগ্রাসনের অবসান ঘটেছে। ট্রাম্পের উদ্দেশে তিনি সরাসরি বলেন, ‘আমরা আপনাদের রণক্ষেত্রে পরাজিত করেছি; ভুলেও ভাববেন না যে আপনারা কূটনীতিতে বিজয়ী হবেন।’ ট্রাম্প সামাজিকমাধ্যমে দাবি করেছেন, ইরান কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে অবজ্ঞা করে আসছে এবং উপহাস করছে। সেইসঙ্গে তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তারা আর হাসতে পারবে না!’ এর জবাবে বেলায়েতি বলেন, ‘ট্রাম্প একদিকে গৌরবময় যুদ্ধবিরতি নিয়ে বড়াই করছেন, আবার বলছেন ইরান আর হাসবে না। বিশ্ব এখন আর পেন্টাগনের সেই মিথ্যেগুলো বিশ্বাস করে না, যেখানে মার্কিন সেনাদের লাশের স্তূপের খবর লুকিয়ে রেখে জয়ের বুলি আওড়ানো হয়।’ বেলায়েতি ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফর নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ট্রাম্পের উচিত হবে না ইরানের বর্তমান শান্ত পরিস্থিতি ও সংযমের সুযোগ নেওয়া। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের সাহসী পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক শৃঙ্খলা পরিবর্তন করে দিয়েছে। ট্রাম্পকে পরামর্শ দিয়ে বেলায়েতি বলেন, ‘মিস্টার ট্রাম্প, কখনও ভাববেন না যে ইরানের আজকের শান্ত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আপনি বেইজিংয়ে বিজয়ের বেশে পদার্পণ করবেন। আগে পশ্চিম এশিয়ার নতুন ভূ-রাজনৈতিক শৃঙ্খলার বর্ণমালা শিখুন, তারপর কথা বলুন।’

ইউরেনিয়াম নিয়ে আলোচনা করবে না ইরান : ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ এসলামি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো আলোচনায় পরমাণু প্রযুক্তি বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নয়। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে কেবল আঞ্চলিক যুদ্ধের অবসান ঘটানো। সোমবার ইরানের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে এসলামি এই অবস্থান তুলে ধরেন। বৈঠক শেষে কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি সাংবাদিকদের বলেন, ‘পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধানের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার এজেন্ডায় পরমাণু প্রযুক্তির কোনো স্থান নেই এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি কোনোভাবেই আলোচনার যোগ্য বা পরিবর্তনযোগ্য নয়।’ বৈঠকে এসলামি পার্লামেন্ট সদস্যদের আশ্বস্ত করে বলেন, দেশের পরমাণু স্থাপনা এবং সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ইরানের পরমাণু শিল্প শক্তিশালীভাবে তার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং অর্জিত সাফল্যগুলো যেকোনো মূল্যে রক্ষা করা হবে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র এবং এর পরমাণু শিল্পকে ধ্বংস করার জন্য শত্রুপক্ষ যে ষড়যন্ত্র করছে, সে বিষয়ে সতর্ক করে এসলামি উল্লেখ করেন, ‘ইরানের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং এটি সবসময়ই শান্তিপূর্ণ থাকবে।’ বৈঠকে পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি বলেন, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজনেই ইরানের পরমাণু শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হবে। বিভিন্ন বেসামরিক ক্ষেত্রে এই শিল্পের কার্যকারিতা তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতীয় পরমাণু অধিকার নিয়ে কোনো প্রকার আপস করা হবে না এবং স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পার্লামেন্ট বদ্ধপরিকর। ইরান মার্কিন পক্ষের প্রস্তাবিত খসড়া চিঠির জবাব দেওয়ার একদিন পরই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।

বাড়তি সুবিধা চাই না, অধিকারটুকু চাই- ইরান : আঞ্চলিক যুদ্ধ অবসানে ইরানের দেওয়া প্রস্তাবকে অত্যন্ত ‘যৌক্তিক’ ও ‘উদার’ বলে অভিহিত করেছে তেহরান। তবে ইসরায়েলি প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনও অবাস্তব ও অযৌক্তিক দাবিতে অনড় রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই। সোমবার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বাকাই বলেন, ‘ইরান বাড়তি কোনো সুবিধা চায়নি। আমরা শুধু আমাদের বৈধ অধিকারটুকুই চেয়েছি।’ ইরানের প্রস্তাবিত খসড়ায় মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, এ অঞ্চলে চলমান যুদ্ধের অবসান; দ্বিতীয়ত, ইরানি জাহাজের বিরুদ্ধে জলদস্যুতা ও হয়রানি বন্ধ করা; তৃতীয়ত, বছরের পর বছর ধরে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা ইরানি জনগণের সম্পদ বা অর্থ ফেরত দেওয়া। বাকাই প্রশ্ন তোলেন, ‘হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত এবং পুরো অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা কি কোনোভাবেই অযৌক্তিক বা দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ? আমাদের প্রস্তাব ছিল বিশ্ব ও অঞ্চলের মঙ্গলের জন্য।’ ইরানের এই প্রস্তাবের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে একে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। এমনকি একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের এই জবাব নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এর প্রেক্ষিতে বাকাই আক্ষেপ করে বলেন, মার্কিন প্রশাসন ইসরায়েলি মানসিকতার মাধ্যমে চালিত হয়ে সদিচ্ছার পরিবর্তে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টির রাজনীতি করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর নিয়ে বাকাই বলেন, এটি তাদের দ্বিপাক্ষিক বিষয়। তবে চীন ইরানের একটি কৌশলগত অংশীদার এবং বেইজিং তেহরানের অবস্থান সম্পর্কে অবগত। তিনি উল্লেখ করেন, চীন ভালো করেই জানে যে ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষ কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের একপাক্ষিক আধিপত্য বিস্তারের একটি বৈশ্বিক প্রক্রিয়ার অংশ। পশ্চিম এশিয়া ও পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা চীনের কাছেও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ইরানকে সহযোগিতার অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা অবৈধ- চীন : এদিকে, ইরানের সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগে তিনটি চীনা কোম্পানির ওপর ওয়াশিংটনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে একতরফা ও অবৈধ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। বেইজিং স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এ ধরনের চাপ সৃষ্টি করে ইরান ইস্যুতে চীনের দীর্ঘদিনের দৃঢ় অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আনা যাবে না। সোমবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এসব কথা বলেন। মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে স্যাটেলাইট চিত্র, অস্ত্র ও কাঁচামাল সরবরাহে সহায়তার অভিযোগে চীনের ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এ বিষয়ে এএফপি-র এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে গুও জিয়াকুন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনে ভিত্তিহীন এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া আরোপিত যেকোনো একতরফা নিষেধাজ্ঞার চীন দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে।’ যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই চীনা কোম্পানিগুলো ইরানকে স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহ করে তাদের সামরিক অভিযানে সরাসরি ভূমিকা রেখেছে। তবে বেইজিং এই দাবি অস্বীকার করেছে। মুখপাত্র বলেন, চীন সবসময় তার কোম্পানিগুলোকে আইন ও বিধিবিধান মেনে কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে বেইজিং তার কোম্পানিগুলোর বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বর্তমান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত, ইরান-যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়া এবং উত্তেজনা বৃদ্ধি রোধ করা। সংঘাতকে অপব্যবহার করে অন্য দেশগুলোকে দায়ী করার পরিবর্তে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইরানে গোপনে হামলা চালিয়েছে আমিরাত : ইরানের বিরুদ্ধে গোপনে সামরিক হামলা চালিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকজন ব্যক্তির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরে ইরানের লাভান দ্বীপের একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালায় ইউএই। হামলায় সেখানে বড় ধরনের আগুন লাগে এবং কয়েক মাসের জন্য শোধনাগারের বেশির ভাগ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। হামলাটি চালানো হয়েছিল এপ্রিলের শুরুতে। ঠিক সেই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের পাঁচ সপ্তাহের বিমান হামলার পর সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিচ্ছিলেন। ইউএই প্রকাশ্যে এসব হামলার কথা স্বীকার করেনি। তবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে বলেছে, প্রয়োজনে সামরিকভাবে হলেও শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের জবাব দেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসও সরাসরি ইউএইর ভূমিকা নিয়ে কিছু বলেনি। তবে তারা জানিয়েছে, ট্রাম্পের হাতে সব ধরনের বিকল্প রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ বজায় রেখেছে।

ইসরায়েলের একদিনে ২০ দফা হামলা হিজবুল্লাহর : দক্ষিণ লেবাননে অনুপ্রবেশকারী ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে গত ২৪ ঘণ্টায় ২০টি বড় ধরনের আত্মরক্ষামূলক সামরিক অভিযান চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, এই অভিযানে দখলদার বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় হিজবুল্লাহর সক্ষমতা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। হিজবুল্লাহর সামরিক শাখা জানিয়েছে, তারা আল-বাইয়াদা, রিশাফ এবং তাইর হারফা শহরে ইসরায়েলি সেনা সমাবেশ এবং সামরিক যান লক্ষ্য করে রকেট ব্যারাজ, আর্টিলারি শেল এবং বিস্ফোরক ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এতে রিশাফে একটি ‘মেরকাভা’ ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া নাকুরা এবং আল-বাইয়াদা রোডে বেশ কিছু ইঞ্জিনিয়ারিং যান, একটি হামার সাজোয়া যান এবং ডি-নাইন সামরিক বুলডোজার লক্ষ্য করে সফল হামলা চালানো হয়েছে। তাইবে শহরে একটি বাড়িতে অবস্থান নেওয়া ইসরায়েলি সেনাদের ওপর তিনটি ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে এবং পরে হেলিকপ্টারযোগে আহতদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় ইসরায়েলি বাহিনী। টায়ার অঞ্চলে একটি উন্নত সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যবহার করে ইসরায়েলি নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করেছে হিজবুল্লাহর বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট। হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, গত ১৭ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি ইসরায়েল প্রতিদিন লঙ্ঘন করছে। দক্ষিণ লেবাননের বেসামরিক এলাকায় ইসরায়েলি হামলা ও আগ্রাসনের সরাসরি জবাব হিসেবেই এই ২০টি অপারেশন চালানো হয়েছে। সংগঠনটি আরও জানায়, ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ সমর্থনে তারা উন্নত যুদ্ধকৌশল এবং নির্ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই হামলাগুলো পরিচালনা করছেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত