সড়কে নামাজে নিষেধাজ্ঞা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের

প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকারের ক্ষমতায় আসার পরই সড়কে নামাজ পড়া বন্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে। দলটির বিধায়ক অর্জুন সিং জানিয়েছেন ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সরকারি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ?্য জানিয়েছেন। বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং জানিয়েছেন, এখন থেকে রাস্তায় কোনও ধর্মীয় জমায়েত বা প্রার্থনা মেনে নেওয়া হবে না।

কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত বড় জমায়েত প্রসঙ্গে অর্জুন সিং জানান, রেড রোডের মতো জায়গায় এ ধরনের জমায়েত আর দেখা যাবে না। একে ‘আদালতের নির্দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, বিচারবিভাগীয় নির্দেশ মেনেই সরকার এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করবে।

নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গরু পাচারের মতো ঘটনার বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে নতুন সরকার। অর্জুন সিং বলেন, যারা গরু পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রসঙ্গত রেড রোডে ঈদের জামাত নিয়ে গত বছর বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ওই এলাকায় প্রথমে নামাজের অনুমতি দেয়নি ভারতীয় সেনাবাহিনী। সামরিক ব্যবহারের কারণ দেখিয়ে আপত্তি জানানো হলেও পরে প্রশিক্ষণ সূচিতে পরিবর্তন এনে ঈদুল আজহার নামাজের অনুমতি দেওয়া হয়। নেতাজি মূর্তি থেকে ফোর্ট উইলিয়ামের প্রবেশপথ পর্যন্ত ওই এলাকায় জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

শুভেন্দুর নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ‘নতুন দিগন্ত’ উন্মোচিত হবে, আশা জি এম কাদেরের: পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

তিনি বলেছেন, “শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।”

গতকাল সোমবার ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনের মাধ্যমে পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।শুভেচ্ছা বার্তায় জি এম কাদের বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে এবং দুই বাংলার মানুষের মধ্যে শতাব্দীব্যাপী সাংস্কৃতিক, ভাষাগত ও মানবিক সম্পর্ক বিদ্যমান।

জাতীয় পার্টি সবসময় সীমান্তের উভয় পাশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে বিশ্বাস করে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর জনমুখী নেতৃত্ব দুই বাংলার মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ? করবে।”

পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে গত শনিবার শপথ নিয়েছেন দলটির নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছেন দলটির আরও পাঁচ নেতা।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৭টি জিতে প্রথমবারের মতো নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ৮০টি আসনে জিতে ভরাডুবি হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের।

জি এম কাদের শুভেচ্ছা বার্তায় বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর ঐতিহাসিক নির্বাচনী বিজয় এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

“এই সাফল্য শুধু ভারতীয় জনতা পার্টির জন্য নয়, পশ্চিমবঙ্গের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, দৃঢ?তা ও অধ্যবসায়ের মধ্য দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন।”

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, শুভেন্দু অধিকারী এমন একটি রাজনৈতিক ও জনসেবামূলক ঐতিহ্যের ধারক, যা খুব কম রাজনৈতিক নেতার ক্ষেত্রে দেখা যায়।

“নন্দীগ্রাম আন্দোলন থেকে শুরু করে বিধানসভায় ধারাবাহিক দায়িত্ব পালন এবং সংসদ সদস্য হিসেবে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় শুভেন্দু অধিকারী একদিকে যেমন দৃঢ?তার পরিচয় দিয়েছেন, তেমনই তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে গভীর সম্পর্কও গড়ে তুলেছেন।”

পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের এক শক্তিশালী রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়া শুভেন্দু অধিকারী তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন কংগ্রেসের হাত ধরে। ১৯৯৫ সালে তিনি কাঁথি পৌরসভার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।