অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবির কড়া পাহারা
লালমনিরহাট সীমান্তে যুবক গুলিবিদ্ধ, হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্ত এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার বনচৌকি বিওপি এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ব্যক্তির নাম খাদেমুল ইসলাম (২৫)। তিনি হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের উত্তর আমঝোল গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, গত বুধবার রাত দুইটার দিকে খাদেমুলসহ কয়েকজন সীমান্তের ৯০৫/৬ এস পিলারসংলগ্ন এলাকা দিয়ে ভারতের ভেতরে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে তারা কাঁটাতারের বেড়ার কাছে পৌঁছান। সেখানে ভারতের ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পাগলামারী ক্যাম্পের টহল দল তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে খাদেমুলের মুখ, বুক ও মাথায় গুলি লাগে। পরে সহযোগীরা আহত অবস্থায় খাদেমুলকে উদ্ধার করে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। তবে খাদেমুলের স্বজন ও প্রতিবেশীদের দাবি, খাদেমুল মাছ ধরতে নদীর ঘাটে গিয়েছিলেন। ওই সময় বিএসএফ গুলি চালায়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, সীমান্তবর্তী এলাকায় খাদেমুল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক আহত হওয়ার তথ্য তারা জানতে পারে। স্থানীয় লোকজন চিকিৎসার জন্য রংপুরে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঘটনার পরপরই বিজিবি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অনুসন্ধান শুরু করে এবং সংশ্লিষ্ট ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ করে। প্রথমে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করে জানানো হবে বলে আশ্বাস দিলেও পরে এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
লালমনিরহাট ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমামের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। নিহত খাদেমুলের শরীরের আঘাতের ধরন পর্যালোচনা করে বিভিন্ন সম্ভাবনা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে বনচৌকি বিওপির সীমান্ত পিলারের কাছে বিজিবি ও বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে প্রতিবাদলিপি দেওয়া হয়েছে।
হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলী বলেন, স্থানীয় সূত্র ও বিজিবির মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ নিহত ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ ও নিহত খাদেমুলের পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবির কড়া পাহারা : কুড়িগ্রাম জেলার সঙ্গে ভারতের প্রায় ১৯৮ কিলোমিটার সীমান্তে কড়া নজরদারি ও পাহারা বসিয়েছে বিজিবি। মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে সীমান্তরক্ষা বাহিনী। ভারতের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিবেচনায় সীমান্ত এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে কুড়িগ্রাম-২২ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। বৃহস্পতিবার সকালে এ তথ্য জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম-২২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ব্যাটালিয়নের অধীন প্রতিটি বিওপি (বর্ডার আউট পোস্ট) থেকে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে সীমান্তে টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বাড়তি নজরদারি বসানো হয়েছে। যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক গতিবিধি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সদস্যদের সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখার কথা জানিয়েছে বিজিবি। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব-উল-হক বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্ত চোরাচালান বন্ধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ দমনে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সীমান্তে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে বিজিবির তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
