গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করা হবে
বললেন জামায়াত আমির
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারকে উদ্দেশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আপনারা জাতিকে ধোঁকা দিয়েছেন এবং ইতিমধ্যে তা স্বীকার করে নিয়েছেন। জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে অতীতে কেউ কোনোদিন রেহাই পায়নি, আপনারাও রেহাই পাবেন না। তাই সৎ পথে ফিরে আসুন। জাতির সঙ্গে গাদ্দারি-বেঈমানি করবেন না।’ গতকাল শনিবার বিকালে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব ও পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য, রাজশাহী বিভাগ এই সমাবেশের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণভোটের রায়ও বাংলাদেশে বাস্তবায়ন হবে। বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করা হবে, ইনশাআল্লাহ। গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়ন হয়, তাহলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। নইলে দেশে অতীতের চেয়ে ভয়াবহ স্বৈরশাসন জাতির ঘাড়ে চেপে বসবে।’
তিনি বলেন, ‘এটি সঠিক, সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধ আমরা যারা বিরোধী দলে ছিলাম দফায় দফায় আন্দোলন করেছি। কিন্তু আমাদের আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিবাদীরা পালিয়ে যায়নি। যেদিন এই তরুণ-তরুণীরা সিদ্ধান্ত নিয়ে সামনে এসেছিল, জনগণ তাদের ডাকে সাড়া দিয়েছিল। সবাই রাস্তায় নেমে এসেছিল। আন্দোলন সেদিনই সফলতার মুখ দেখেছিল। এখন সরকারি দলের বন্ধুরা তাদের কাউকে বলে শিশু পার্টি, আর কাউকে বলে গুপ্ত। লজ্জা। যাদের কারণে আপনাদের এই গদি, তাদের আপনারা উপহাস করছেন। এর পাওনা বুঝে নেওয়ার জন্য তৈরি হোন। এই জাতি ঠিকই পাওনা বুঝিয়ে দেবে আপনাদের।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা সব বিষয়ে কথা বলবো। সংসদে কথা বলতে অনুমতি লাগে। যদি সংসদে কথা বলতে দেওয়া না হয়, তাহলে আমরা ওখানে চলে আসবো যেখানে কথা বলতে কারও অনুমতি লাগবে না। আমরা তখন জনগণের পার্লামেন্টে চলে আসবো।’
কারও চোখ রাঙানিতে জামায়াতে ইসলামী ভয় পায় না জানিয়ে দলীয় প্রধান বলেন, ‘আমাদেরকে মাঝে মাঝে চোখ রাঙানো হয়। কেউ কেউ বলেন, যদি আপনারা এই করেন, ওই করেন; তাহলে আগামীতে এই হবে, সেই হবে। বন্ধু, আমাদেরকে ভয় দেখাবেন না। যাদের নেতারা হাসতে হাসতে ফাঁসির তক্তার ওপরে দাঁড়াতে পারে, তাদেরকে কোনোকিছুর ভয় দেখাবেন না। আমাদের নেতৃবৃন্দ রাস্তা রচনা করে গিয়েছেন, জনগণের মুক্তির রাস্তা। এই রাস্তা ধরে আমরা চলতেই থাকবো।’ ভারতে মুসলমানদের নির্যাতন করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশ আমাদের প্রতিবেশীকে সম্মান করি। আমরা চাই, আপনারা শান্তিতে থাকুন। আমরা চাই আপনাদের দেশের ভেতরে মানবিক পরিবেশ তৈরি হোক। আমরা চাই না ধর্মের ভিত্তিতে সেখানে বিভাজন এবং অশান্তি হোক। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি। সেখানে শুধু মুসলিম নামের মানুষকে নাজেহাল করা হচ্ছে। আর বাংলাদেশের দিকে লাল চোখ দেখানো হচ্ছে। বন্ধু, এটা তিতুমীরের বাংলাদেশ। হাজি শরীয়তউল্লাহর বাংলাদেশ। শাহমখদুমের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশের দিকে চোখ রাঙাবেন না। হুমকি-ধমকি দেবেন না।’
এ সময় পদ্মা ও তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবি জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘পদ্মা এবং তিস্তার কারণে বাংলাদেশের চারভাগের একভাগ প্রায় মরুভূমি হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের প্রথম সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরীক্ষামূলকভাবে ১৫ দিনের জন্য ফারাক্কা বাঁধ চালানোর সুযোগ দিয়েছিল। ৫৫ বছরেও ১৫ দিন শেষ হয়নি। ইতিমধ্যে পদ্মা শুকনো মৌসুমে মরুভূমি। আর বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগের কারণ। এখন পানি দরকার, পানি নাই। সরকারকে আমরা সাধুবাদ জানাই, ইতিমধ্যে পদ্মা ব্যারেজের ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘোষণা যেন লোকদেখানো না হয়। এই ঘোষণা যেন বাস্তবে রূপ নেয়।’
সমাবেশে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিডি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ (বীর বিক্রম), জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিনসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক রফিকুল ইসলাম খান। মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডল সমাবেশ পরিচালনা করেন।
