‘কারওয়ান বাজারে মুরগির দোকান থেকে মাসে ৬০ লাখ টাকা চাঁদাবাজি’
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়। এর মধ্যে এই বাজারের কয়েকটি পাইকারি মুরগির দোকান থেকেই মাসে প্রায় ৬০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। এমন দাবি করেছেন বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান। অন্যদিকে সরকারি দল বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহ্মুদা হাবীবা জামায়াতের এমপির দাবিকে ‘ঢালাও অভিযোগ’ হিসেবে অভিহিত করে তাঁকে সরাসরি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় চাঁদাবাজি নিয়ে দুই এমপির মধ্যে কিছুক্ষণ বাহাস হয়। গতকাল সোমবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’শীর্ষক প্রাক্-বাজেট সংলাপে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন সরকারি ও বিরোধী দলের এই সংসদ সদস্যরা।
প্রাক-বাজেট সংলাপে সঞ্চালনা করেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক অধ্যাপক এ কে এনামুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মি, নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক প্রমুখ। অনুষ্ঠানের উন্মুক্ত আলোচনায় কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, মানুষের কষ্ট বাড়ছে। এ জন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় দ্রব্যে আমদানি শুল্ক কমানো প্রয়োজন।’ এ ছাড়া জ্বালানির দাম আর না বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। এ এইচ এম সফিকুজ্জামানের কথার সূত্র ধরে দ্রব্যমূল্য বাড়ার ক্ষেত্রে চাঁদাবাজির প্রভাব নিয়েও কথা বলার পরামর্শ দেন জামায়াতের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান।
নিজের সংসদীয় এলাকা তেজগাঁও-কারওয়ান বাজারের পরিস্থিতি তুলে ধরে সাইফুল আলম খান বলেন, ‘আমি তো আসলে চাঁদাবাজি এরিয়ার এমপি। আমাদের কারওয়ান বাজারে দৈনিক প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকা কালেকশন হয়। কারওয়ান বাজারে কয়েকটা পাইকারি মুরগির দোকান আছে, তাদের কাছ থেকে মাসে ৬০ লাখ টাকা চাঁদা নেওয়া হয়। কারওয়ান বাজারের চাঁদাবাজি নিয়ে বলতে গেলে একদিন সময় লাগবে।’
সাইফুল আলম খান আরও বলেন, ‘এই চাঁদাবাজি যারা করে, ওপরে তারা রাজনৈতিক নেতা, ভেতরে চাঁদাবাজ। এটা আগের সরকারের লোকেরা করত, এখন কারা করে তা আর এখানে বলছি না।’
জামায়াতের এপির এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহ্মুদা হাবীবা। তিনি বলেন, ‘এমপি সাহেব বলছেন, তাঁর এলাকায় চাঁদাবাজি হচ্ছে এবং সেটা তিনি জানেন না, কারা করছেন। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না। কারা চাঁদাবাজি করছে তার একটা স্পষ্ট তালিকা তাঁর (জামায়াতের এমপি) কাছে থাকা উচিত এবং এই তালিকা নিয়ে তাঁর আইনের কাছে যাওয়া উচিত।’
মাহ্মুদা হাবীবা আরও বলেন, ‘টকশোতে বা গোলটেবিলে বসে এ ধরনের আলোচনায় আমরা কথা বলতেই পারি। কিন্তু পাঁচটা নাম যখন দিতে পারি না, সেটা তখন ঢালাও বক্তব্য হয়ে যায়। আমার সংসদীয় এলাকায় যারা চাঁদাবাজি করবে, সে সরকারি দল হোক বা বাইরের দল হোক, আমি তাঁদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করব এবং সেখানে আমি অবশ্যই আইনের আশ্রয় নেব। তাই আমি জামায়াত এমপির দাবি প্রত্যাখ্যান করছি।’
বিএনপি নেত্রী মাহ্মুদা হাবীবার এমন মন্তব্যের জবাবে জামায়াতের এমপি সাইফুল আলম খান বলেন, ‘আগেও সরকারি দলের লোকেরা চাঁদাবাজি করত, এখনো সরকারি দলের লোকেরাই চাঁদাবাজি করছে।’
সাইফুল আলম আরও বলেন, ‘আমার এলাকার সবচেয়ে বড় চাঁদাবাজির এলাকা হলো কারওয়ান বাজার। আগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে চাঁদাবাজিতে জড়িত ছিলেন।
তিনি আমার মহল্লার লোক, আমি সব পরিষ্কার জানি। কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজি কেন্দ্র করে যুবদলের একজন নেতা (মুসাব্বির) নিহত হয়েছিলেন। বিএনপির এমপি মামলা করার কথা বলেছেন। কিন্তু পুলিশ চাঁদাবাজি নিয়ে সরকারি দলের লোকের বিরুদ্ধে মামলা নেয় না।’
চাঁদাবাজি নিয়ে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে কথা হয়েছে বলে জানান সাইফুল আলম খান। তিনি বলেন, ‘আমি তাঁর সহযোগিতা চেয়েছি। একজন মন্ত্রী আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করতে। আমি চাচ্ছি কারওয়ান বাজার, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড ও তেজগাঁও অঞ্চলে যে চাঁদাবাজি হচ্ছে, তা বন্ধ হোক।’
