র‌্যাব নাম না থাকলেও এলিট ফোর্স থাকবে

‘হাসিনার প্রতি আমাদের ইনসাফ থাকবে’

প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) নাম থাকা না থাকা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কিন্তু রাষ্ট্রের প্রয়োজনেই এ ধরনের এলিট ফোর্সের প্রয়োজন আছে। তাদের কোনোভাবেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য ব্যবহার করার সুযোগ নেই। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এমন কথা বলেন। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন। জাহেদ বলেন, তাদের (র‌্যাব) ভালো ইকুইপমেন্টস ও প্রশিক্ষণ আছে। সেজন্য একটা এলিট ফোর্স থাকবে, সেটা র‌্যাব নামেই হোক বা ভিন্ন নামেই হোক এবং ওয়েল ডিফাইনড আইন থাকবে। আওয়ামী লীগ আমলে অন্য অনেকের সঙ্গে বিএনপির পক্ষ থেকেও র‌্যাব বিলুপ্তির দাবি জানানো হয়েছিল, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, এক অর্থে র‌্যাব আগের মতো করে থাকছে না। গতকালই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই ঘোষণা দিয়েছেন, র‌্যাবের জন্য একটা নতুন আইন হবে। ‘আবারও বলছি, এক অর্থে সেইভাবে র‌্যাব থাকছে না এবং নামও সম্ভবত পাল্টে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, একটা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার, আবার নির্বাচিত হতে চায়, সে একটা বাহিনীকে কোনোভাবে ব্যবহার করবে না। তবে একটা রাষ্ট্রে একটা এলিট ফোর্স থাকা দরকার আছে। কারণ র‌্যাবের সমালোচনা যদি সরিয়ে রাখি, আমরা দেখবো র‌্যাব অত্যন্ত যোগ্যতার সঙ্গে নানা ধরনের সন্ত্রাস মোকাবিলা করতে পেরেছে, যেটা আমাদের কনভেনশনাল পুলিশ বাহিনী পেরে ওঠেনি।

শেখ হাসিনার প্রতি আমাদের ইনসাফ থাকবে : প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, শেখ হাসিনাকে আমরা ক্ষমতা থেকে সরাতে চেয়েছি, কারণ তিনি ইনসাফ করেন নাই। পরবর্তী যে বাংলাদেশ তৈরি হয়েছে— তার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে ইনসাফ থাকবে। এমনকি শত্রুর প্রতি ইনসাফ থাকবে।

তিনি বলেন, ‘‘শেখ হাসিনার প্রতি আমাদের ইনসাফ থাকবে।’’ গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘‘শেখ হাসিনা যদি বাংলাদেশে ফেরত আসেন, তাকে কোনও এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিছু আমরা আসলে করবো না। আমাদের কাছে প্রতিজ্ঞা কী? আমরা জুডিশিয়ালি করবো। ওনার বিচার হয়েছে, ওনাকে আবার ডিফেন্ড করতে দেওয়া হবে। তাতে তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ থেকে যদি তিনি মুক্তি পান, টেকনিক্যালি বলছি, সেটা আমরা মানবো। আর যদি না হয় সেটা কার্যকর হবে। এটাই হচ্ছে ইনসাফ। কারণ মৃত্যুদণ্ড হওয়াও কিন্তু ইনসাফ যে আমি আপনাকে প্রপার বিচারিক প্রক্রিয়ায় কাজটা করেছি।’’

এ সময় তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘‘আমরা জানি যেকোনও ধরনের একটা অভিযোগের কিন্তু প্রথম পর্যায়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তারপর ওটা একটা তদন্ত প্রক্রিয়ায় যায়। তারপর ওটা একটা প্রসিকিউশন পর্যায়ে যায়। তারপরে কিন্তু ওটা একটা লোক অপরাধী কি অপরাধী না চিহ্নিত হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটিতে যেকোনও একজন অপরাধী, যেকোনও একজন অভিযুক্ত অপরাধী নয়।

এটা প্রমাণ করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা তিনি করতে পারেন। তিনি যদি চান রাষ্ট্র তাকে সহযোগিতা করবে। এটাই তো ন্যায্যবিচার। এটাই তো ইনসাফের কথা বলছে এবং আমরা যেকোনও ব্যক্তির ক্ষেত্রে পলাতক সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে একদম সাধারণ একজন নাগরিকের ক্ষেত্রে আমরা এই ইনসাফের নীতি এবং আমরা এই ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতিকে আমরা অনুসরণ করবো।’’

মামলা থাকা সাংবাদিকদের বিষয়ে যা বলছে সরকার : প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, এর মধ্যে দুর্নীতি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগও রয়েছে; সেগুলোর কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে উসকানির বিষয় রয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ক্ষেত্রে তার প্রকৃত অপরাধের বিচারই হওয়া উচিত। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, রাষ্ট্র ও সরকার নিশ্চিত করতে চায় যে, কেউ যদি প্রকৃতপক্ষে অপরাধী হন, তবে তার সঠিক বিচার হবে। একইভাবে কোনও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে যদি অন্যায়ভাবে বা হয়রানিমূলকভাবে মামলা হয়ে থাকে, তাহলে সেটি নিয়েও সরকার কথা বলছে।

ড. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারের অবস্থান হলো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং কেউ যাতে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটি নিশ্চিত করা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা সঠিকভাবে বুঝতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, সম্পাদকদের একটি অংশ সেদিনের (প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়) আলোচনায় উল্লেখ করেছেন, যারা মিথ্যা মামলার অভিযোগ তুলেছেন, তাদের মধ্যেই অনেকে আবার অপসাংবাদিকতার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের অপসাংবাদিকতার কারণে দেশে বিভিন্ন সময় অরাজকতা তৈরি হয়েছে। সমস্যা হলো, বর্তমানে অপসাংবাদিকতাকে সরাসরি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার মতো সুস্পষ্ট আইনগত কাঠামো নেই। ফলে যেসব ঘটনায় মানুষ ক্ষুব্ধ হচ্ছে, অনেক সময় তারা ভিন্ন আইন ব্যবহার করে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। এতে প্রকৃত অপরাধকে যথাযথ আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা সম্ভব হচ্ছে না। মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি বিনীতভাবে বলতে চাই, একদিকে যেমন মিথ্যা মামলা থেকে সাংবাদিকদের রক্ষা করার বিষয় আছে, তেমনি অপসাংবাদিকতার কারণে যে নৈরাজ্য তৈরি হয়েছে এবং সাংবাদিকতা বহির্ভূত অপরাধে যারা জড়িত, তাদের বিষয়েও আলোচনায় এসেছে। কিন্তু এসব বিষয়কে সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোতে আনার ঘাটতি রয়েছে।’

এ বিষয়ে সরকার পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তথমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কমিশন গঠনের পর প্রচলিত আইনের আওতায় এসব তৎপরতাকে কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায় এবং আইনগতভাবে এসব অপরাধকে কীভাবে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব—সেই বিষয়ে কমিশন কাজ করবে।’