দুই পক্ষের কঠোর শর্ত
প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আলোকিত ডেস্ক

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং শীর্ষ পরমাণু আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দেশটির জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে পূর্ণ নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে যাবে না তেহরান। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। গতকাল রোববার সকালে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্টের একটি ভার্চুয়াল অধিবেশনে গালিবাফ এই মন্তব্য করেন। সম্প্রতি ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর প্রেসিডিয়ামের পাশাপাশি শপথ গ্রহণ করেন তিনি।
শপথ অনুষ্ঠান শেষে নিজের বক্তব্যে গালিবাফ মার্কিন প্রশাসনের প্রতি তীব্র অনাস্থা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শত্রুপক্ষের মৌখিক আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতির ওপর আমাদের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। তাই কোনো চুক্তিতে যাওয়ার আগে আমাদের একমাত্র শর্ত হলো দৃশ্যমান ও বাস্তবসম্মত ফলাফল অর্জন করা। তেহরান নিজের প্রতিশ্রুতি পূরণের আগেই এই বাস্তব ফলাফল দেখতে চায় বলে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো ধরনের দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ইরানের জনগণের অধিকার রক্ষা এবং বাস্তব অগ্রগতি অর্জনই হবে তেহরানের প্রধান মাপকাঠি। এর বাইরে কোনো ধরনের মৌখিক বা ফাঁকা প্রতিশ্রুতি ইরান সরকার মেনে নেবে না।
ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে আরও কঠোর শর্ত চাইছেন ট্রাম্প : ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার জন্য যে চুক্তির আলোচনা চলছে, সেখানে আরও কঠোর শর্ত যোগ করতে বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এমনটাই জানানো হয়েছে বলে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প চুক্তির কিছু অংশ আরও কঠিন করার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর সেই নতুন প্রস্তাব আবার ইরানের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে ঠিক কোন কোন বিষয় বদলানো হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আরেকটি সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিতে চান। এর আগে মার্কিন সূত্রগুলো এএফপিকে জানিয়েছিল, চুক্তির খসড়া শুধু ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু শুক্রবার হোয়াইট হাউসে বৈঠকের পরও তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি।
ট্রাম্প আগেই বলেছেন, যেকোনো চুক্তির মূল শর্ত হলো- ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী আবার পুরোপুরি খুলে দেওয়াও তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। সব মিলিয়ে চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ইরানের সক্ষমতা নিয়ে শত্রুদের কৌশল ভুল ছিল - আইআরজিসি কমান্ডার : ইরানের সক্ষমতা এবং সংকল্প মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তেহরানের শত্রুদের কৌশল ভুল ছিল বলে দাবি করেছেন দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এক শীর্ষ কমান্ডার। তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, ইরান এখন আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে এবং অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পতন ও ব্যর্থতার মুখোমুখি হচ্ছে। গত শনিবার রাতে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির রাজনৈতিক বিষয়ক ডেপুটি ইয়াদুল্লাহ জাভানি বলেন, শত্রুরা ভুলভাবে ধরে নিয়েছিল যে তারা ইরানি জাতির ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে খুব দ্রুত একটি বিজয় লাভ করতে পারবে।
জাভানি উল্লেখ করেন, শত্রুদের কৌশলগত উদ্দেশ্যের মধ্যে ছিল ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা, দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মূল করা এবং শেষ পর্যন্ত ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটানো। তিনি বলেন, শত্রুদের সেসব লক্ষ্য পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে এবং এর ফলে আঞ্চলিক সমীকরণ এখন ইরানের অনুকূলে চলে এসেছে। জাভানি সতর্ক করে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এখন দুটি পথের একটি বেছে নিতে হবে, হয় তাদের ইরানি জনগণের অধিকার ও শর্তাবলি মেনে নিতে হবে, না হলে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের : ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) আজ রোববার এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সির (ইরনা) বরাতে গালফ নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানি বার্তা সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, শত্রুতামূলক অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্যে মার্কিন ড্রোনটি ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। ড্রোনটিকে দ্রুত শনাক্ত করা হয়। আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ড্রোনটিকে ভূপাতিত করা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার আইআরজিসি বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করলে তার জবাব দেওয়ার ‘বৈধ ও সুনিশ্চিত’ অধিকার তারা সংরক্ষণ করে। একই সঙ্গে তখন আইআরজিসি দাবি করেছিল, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা শত্রুপক্ষের একটি যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে গুলি চালানোর দাবিও করেছে আইআরজিসি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালানোর পর আইআরজিসি এই দাবি করল।
অবরুদ্ধ ১২০০ কোটি ডলার ফেরতের কথা প্রস্তাবিত চুক্তিতে রয়েছে - ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভির দাবি : ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম শনিবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে অবরুদ্ধ ১ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের সম্পদ মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিবেদনে সমঝোতা স্মারকের ‘অনানুষ্ঠানিক’ একটি খসড়ার বরাত দেওয়া হয়েছে। তবে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে রাষ্ট্রীয় টিভিতে প্রচারিত একই ধরনের একটি বিষয়কে হোয়াইট হাউস ‘বানোয়াট’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিল।
দুপক্ষের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজস্ব বিস্তারিত বিবৃতির ঠিক এক দিন পর এই তথ্য সামনে এলো। তবে ট্রাম্পের দেওয়া বিবৃতির মূল বিষয়গুলোও একইভাবে ইরানি সূত্র খণ্ডন করেছে। গত শনিবার রাষ্ট্রীয় টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের মধ্যে ইরানকে তার ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের সম্পদে পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যাতে এসব সম্পদ কোনো বাধা ছাড়াই ইরানের পছন্দের গন্তব্যের ব্যাংকগুলোতে স্থানান্তর এবং খরচ করা যায়। গত শুক্রবার চুক্তির বিষয়ে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছিলেন, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থের আদান-প্রদান হবে না।’
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছিল, ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কাতার সফরকারী একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন। ‘অবরুদ্ধ তহবিলের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে তিনি সেখানে যান। চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে সমঝোতা স্মারকে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।’ গত শনিবার রাষ্ট্রীয় টিভির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তেহরান ‘হরমুজ প্রণালি’ পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখবে, যা যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরান অবরোধ করে রেখেছে। এর ফলে বিশ্ববাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। গত শুক্রবার ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান ‘অবাধ জাহাজ চলাচলের জন্য’ এই প্রণালিটি আবার খুলে দেবে। যুক্তরাষ্ট্র বারবার বলে আসছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে ২৮ জাহাজ : ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে ২৮টি জাহাজ নিরাপদে চলাচল করেছে। আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, এসব জাহাজের মধ্যে তেলবাহী ট্যাংকার, কনটেইনার জাহাজ এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল। সংস্থাটির দাবি, সব জাহাজই আইআরজিসি নৌবাহিনীর সমন্বয় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় প্রণালিটি অতিক্রম করেছে।
ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালীর বুদ্ধিবৃত্তিক (ইন্টেলিজেন্ট) নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রয়েছে এবং তা দৃঢ়তা ও কর্তৃত্বের সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে। এ কারণে এই জলপথের নিরাপত্তা ও চলাচল পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
এদিকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহাসিক বোফোর্ট দুর্গ দখলের দাবি করেছে ইসরায়েল। গত শনিবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। লেবাননের নাবাতিয়েহ অঞ্চলে অবস্থিত ইউনেসকো স্বীকৃতি এই দুর্গটি দখলের মাধ্যমে ইসরায়েল হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থান নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি লেবানন কর্তৃপক্ষ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এপি জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ শহরের কাছে অবস্থিত বোফোর্ট দুর্গে ইসরায়েলি বাহিনী প্রবেশ করেছে। পরে ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান দুর্গের ওপর ইসরায়েলের পতাকা ও গোলানি ব্রিগেডের পতাকা ওড়ানোর ছবি প্রকাশ করে।
ইরান পারমাণবিক অস্ত্র না বানানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে : পুত্রবধূকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের দাবি : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘খুব ভালো একটি চুক্তির’ কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন যা চায়, তা না পেলে তারা ‘অন্য উপায়ে যুদ্ধের ইতি টানবে’। গত শনিবার রাতে ফক্স নিউজে সম্প্রচারিত তাঁর পুত্রবধূ লারা ট্রাম্পকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা একটি খুব ভালো চুক্তির কাছাকাছি আছি। আপনি যদি তাড়াহুড়া করেন, তবে ভালো চুক্তি করতে পারবেন না। ধীরে ধীরে কিন্তু নিশ্চিতভাবেই আমরা যা চাই তা-ই পাচ্ছি। আর আমরা যা চাই, তা যদি না পাই, তবে আমরা অন্য উপায়ে এর সমাপ্তি টানব।’
ট্রাম্প বলেন, ইরানিরা ‘ভালো আলোচক’ (নেগোশিয়েটর)। তবে তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এখন ‘সব তাস’ (সুবিধা) রয়েছে। কারণ, ইরান ‘সামরিকভাবে পরাজিত’ হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ‘তবে আমরা একটি খুব ভালো চুক্তির কাছাকাছি আছি। আমরা যদি এটি করতে পারি, ভালো। অন্যথায় আমরা যুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের (ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার) মাধ্যমে আবার শুরু করব, আমরা যেভাবে এটিকে ডেকে থাকি।’ ট্রাম্প বলেন, ইরানিরা জানিয়েছিল তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। কিন্তু তিনি পাল্টা প্রশ্ন তুলেছিলেন, তারা যদি অন্য কোথাও থেকে একটি কিনে নেয়, তবে কী হবে।
ফক্স টিভিতে পুত্রবধূর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, আচ্ছা আপনারা যদি পারমাণবিক অস্ত্র কিনে নেন, তবে কী হবে? তাই, এখন চুক্তিতে বলা হয়েছে, আমরা সামরিক অস্ত্র তৈরি করব না বা কোনোভাবেই তা ক্রয় করব না। এটি একটি বড় পার্থক্য।’
মার্কিন এই নেতা জোর দিয়ে বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘উল্লেখযোগ্য সুবিধা’ রয়েছে। কারণ, তাদের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়ে গেছে। তবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি ভেঙে দেয়নি। কারণ, তাদের কিছু নেতৃত্ব তুলনামূলক নরমপন্থী ছিল। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আরও বেশি চরমপন্থী অংশ ও মূল নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট শুক্রবার তাঁর মন্ত্রিসভার শীর্ষ সহকর্মী ও সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘সিচুয়েশন রুমে’ একটি বৈঠক করেন। কিন্তু ভবিষ্যতের পদক্ষেপের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত ছাড়াই ওই বৈঠক শেষ হয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তার দূতদের সঙ্গে ইরানি প্রতিনিধিদের করা চুক্তিতে বেশ কয়েকটি সংশোধনীর দাবি জানিয়েছেন। দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্প চুক্তিটি চান এবং এটি শিগগিরই চূড়ান্ত হবে বলে আশা করছেন। তবে তিনি বেশ কয়েকটি পয়েন্ট আরও শক্তিশালী করতে আগ্রহী, যা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ—বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক উপাদানের বিষয়টি। ট্রাম্পের এই অনুরোধের ফলে দুই পক্ষে প্রতিনিধিদের মধ্যে আরও এক দফা আলোচনা ও মতবিনিময় শুরু হয়েছে, যা কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে। ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে এসব উপাদান হাতে পাবে এবং এর সময়সীমা কেমন হবে, সে সম্পর্কে আরও সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঠিক করা হবে। দ্বিতীয় সূত্রটি অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছে, ট্রাম্প ‘হরমুজ প্রণালী’ আবার উন্মুক্ত করার বিষয়ের কিছু শব্দচয়নেও সংশোধন চান। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি সরবরাহ জলপথ দিয়ে হয়ে থাকে। মার্কিন ওই কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্পকে জানানো হয়েছে, ইরানিদের কাছ থেকে এর প্রতিক্রিয়া বা উত্তর পেতে প্রায় তিন দিন সময় লাগবে।
