‘বাধ্য হয়ে’ তেলের দাম বৃদ্ধি, উদ্বিগ্ন জামায়াত

প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

গত মাসে এক দফায় জ্বালানি তেলের দাম ৮ থেকে ১২ শতাংশ, কোথাও কোথাও তারও বেশি বাড়ানোর পর আবার নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত মাসে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর চাল, ডাল, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের আয় না বাড়লেও বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকট আরও প্রকট হয়েছে। জনগণ যখন নিত্যদিনের জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন আবারও জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত তাদের ওপর ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, সরকার এর আগে অন্তত চলতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু সেই অবস্থান থেকে সরে এসে পুনরায় মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগ জনগণের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং চরম ধোঁকাবাজির শামিল। তিনি আরও বলেন, বাজেট অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে তড়িঘড়ি করে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ানো হলে তা হবে জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত। বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে ভয়াবহ রূপ ফুটে উঠেছে, তার সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি দেশ এবং সমাজের অস্তিত্বকে আজ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।

জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, জামায়াতে ইসলামী জনগণের ন্যায়সংগত অধিকার আদায়ের পক্ষে এবং যেকোনো ধরনের জনস্বার্থবিরোধী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার থাকবে।

দেশবাসীকে নিজেদের অধিকার ও অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে সচেতন হওয়ার এবং কথা বলার আহ্বান জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা সবসময় আপনাদের পাশে আছি। অবিলম্বে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।’

‘বাধ্য হয়েই’ জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার- প্রতিমন্ত্রী : আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে সরকার বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করেছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তবে বৈশ্বিক বাজারে দাম কমলে দেশের বাজারেও দ্রুত সেই সুবিধা ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, দেশে প্রতি মাসেই জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের একটি প্রক্রিয়া রয়েছে। তবে এপ্রিল মাসে সমন্বয় করায় মে মাসে নতুন করে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সরকারকে নতুন করে মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, সরকার কখনও অপ্রয়োজনীয়ভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিতে চায় না। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারের বাস্তবতা এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে কিছু ক্ষেত্রে মূল্য সমন্বয় ছাড়া বিকল্প ছিল না। তিনি বলেন, ‘ডিজেলে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কম রাখতে এবারও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তারপরও কিছু খাতে পরিস্থিতির কারণে সমন্বয় করতে হয়েছে।’