ট্রাম্প বললেন শিগগির চুক্তি ইরান বলছে যুদ্ধ অত্যাসন্ন
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি মনে করেন আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি হতে পারে, যার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি আরও দীর্ঘায়িত হবে এবং হরমুজ প্রণালী আবারও স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়া হবে। এবিসি নিউজের প্রধান ওয়াশিংটন সংবাদদাতা জনাথন কার্লকে টেলিফোনে এ কথা বলেন। কার্লকে ট্রাম্প বলেন, ‘পরিস্থিতি ভালো দেখাচ্ছে, খুবই ভালো দেখাচ্ছে।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আজ একটু সমস্যা হয়েছিল, তবে আমি খুব দ্রুত সেটি সমাধান করে ফেলেছি। আপনারাও হয়তো সেটা লক্ষ্য করেছেন।’ প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, সমস্যার কারণ ছিল ইসরায়েল লেবাননে হামলা নিয়ে ইরানের অসন্তোষ।
তিনি বলেন, ‘আমি হিজবুল্লাহর সঙ্গে কথা বলেছি এবং বলেছি, আর হামলা চালানো যাবে না। এরপর আমি বিবির (ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু) সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাকেও বলেছি, হামলা চালানো বন্ধ করতে। তারপর উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করে দেয়।’ এদিকে, ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনা ইরান স্থগিত করতে যাচ্ছে। লেবাননে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েল অভিযান শুরুর ঘোষণা দেওয়ার প্রতিবাদে তেহরান এ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তাসনিম লিখেছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষভাবে যে বার্তা আদান-প্রদান চলছিল, তা ইরানের আলোচকরা ইতোমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছেন।
অন্যদিকে, রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের এই সিদ্ধান্ত দ্রুত যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। কারণ শান্তি আলোচনা চলার মধ্যেই ইরানের একাধিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পালটা হামলা চালানোর কথা বলেছে ইরানও। এরমধ্যে এবার তেহরানের কাছ থেকে আলোচনা বন্ধ রাখার ঘোষণা এলো।
শান্তি আলোচনা বন্ধের হুমকি গালিবাফের : লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা বন্ধের হুমকি দিয়েছে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। গতকাল মঙ্গলবার লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি’র সঙ্গে এক ফোনালাপে গালিবাফ এ কথা বলেন। তিনি বর্তমানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ইরানের আলোচক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ফোনালাপে গালিবাফ বলেন, ইরান ও লেবাননের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। তিনি বলেন, ‘আমাদের জীবন ও আপনাদের জীবন একসূত্রে গাঁথা।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের জন্য যেকোনো চুক্তির অংশ হিসেবে সব ফ্রন্টে হামলা বন্ধ করতে হবে, বিশেষ করে লেবাননে।’
গালিবাফ জানান, গত দুই দিন ধরে ইরান লেবাননের ওপর ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করার জন্য গুরুত্বসহকারে কাজ করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি এসব অপরাধমূলক হামলা অব্যাহত থাকে, তাহলে আমরা শুধু আলোচনা প্রক্রিয়া বন্ধই করব না, বরং সরাসরি জায়নবাদী শাসনের (ইসরাইল) বিরুদ্ধে অবস্থান নেব।’
অন্যদিকে নাবিহ বেরি লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধে ইরানের প্রচেষ্টার জন্য তেহরানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই সংকটময় সময়ে ইরানের ইতিবাচক ভূমিকা লেবানন কখনো ভুলবে না। এদিকে লেবাননের কর্মকর্তাদের মতে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা সম্প্রতি আরও বেড়েছে। এসব হামলায় বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন এবং কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ইরান বারবার এসব হামলার নিন্দা জানিয়ে আসছে এবং এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রকেও সহযোগী হিসেবে দায়ী করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অত্যাসন্ন, বললেন ইরানি কমান্ডার : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের নতুন করে যুদ্ধ অত্যাসন্ন বলে জানিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল মিলিটারি কমান্ডের উপপ্রধান মোহাম্মদ জাফর আসাদী। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালায়। এরপর টানা ৪০ দিন যুদ্ধ হয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ থামলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়। এরপর দুই দেশ আলোচনা শুরু করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই আলোচনা থমকে গেছে। এতে নতুন করে আবারও যুদ্ধের শঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে।
যুদ্ধ যে কোনো সময় বাধতে পারে এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের এ কমান্ডার বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পূর্ণ আত্মসমর্পণ চায় এবং ইরান জাতি কখনো আত্মসমর্পণ করবে না। আত্মসমর্পণ ছাড়া যুদ্ধ অত্যাসন্ন।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যদি চুক্তি না হয়, তাহলে ইরানে ফের সামরিক অভিযান শুরুর জন্য প্রস্তুত আছে মার্কিন বাহিনী। যুক্তরষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গত শনিবার এই হুমকি দেন।
যুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বর্তমানে ‘ধৈর্য’ রেখে চলছেন যেন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘ভালো চুক্তি’ হয়। এই চুক্তির প্রধান উদ্দেশ্যে ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা। কিন্তু যদি শেষ পর্যন্ত চুক্তি না হয়, তাহলে ইরানে ফের হামলার জন্য সব ধরনের উপকরণ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যথেষ্ট পরিমাণে মজুত আছে উল্লেখ করে হেগসেথ বলেন, ‘প্রয়োজনে ফের কাজ শুরু করার ব্যাপারে আমাদের সক্ষমতা এবং প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই। (সম্ভাব্য হামলার জন্য) যত অস্ত্র-গোলাবারুদ প্রয়োজন, তার চেয়েও বেশি (অস্ত্র-গোলাবারুদ) আমাদের মজুত আছে। অস্ত্র-গোলাবারুদ এবং সামরিক শক্তিতে আমরা এখন খুব ভালো অবস্থায় আছি।’
