ছেলেরা যুগ্মসচিব-বুয়েটের শিক্ষক বাসায় মরে পড়ে ছিলেন বৃদ্ধা
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার পল্লবীতে একটি বাসা থেকে এক বৃদ্ধার পচা-গলা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আনুমানিক ৭৫ বছর বয়সি নূরজাহান বেগম একটি বহুতল ভবনের চতুর্থ তলায় মেয়ের বাসার একটি কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে নিঃসঙ্গ জীবন-যাপন করে আসছিলেন। গত রোববার রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল পেয়ে পল্লবী ৬ নম্বর সেকশনের ৮ নম্বর সড়কের ওই বাসা থেকে লাশ উদ্ধারের কথা জানান পল্লবী থানার ওসি হাসান বাসির। তিনি বলেন, ‘লাশটি দেখে মনে হয়েছে তিনি ৩-৪ দিন আগে মারা গেছেন। শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে পড়ছিল।’ গত সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানান তিনি।
পুলিশ বলছে, বাসাটি ওই বৃদ্ধার মেয়ের। তার জামাতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন, যিনি বছর পাঁচেক আগে মারা গেছেন। মৃতের এক ছেলে যুগ্ম সচিব এবং আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা পরিবারসহ অন্যত্র থাকতেন। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বুয়েটের শিক্ষক সন্তান এলেও যুগ্মসচিব ছেলে আসেননি। ওসি হাসান বলেন, ‘ওই বৃদ্ধা বাসার যে কক্ষে থাকতেন, সেটি আবর্জনায় ভরা ছিল। দেখে মনে হয়েছে কয়েক বছরে কেউ সেখানে প্রবেশ করেনি। মরে কয়েকদিন পড়ে থাকলেও মেয়ে খোঁজ নেননি মায়ের।’ তার ভাষ্য, রোববার তার মেয়ে মাকে ডাকতে গেলে সাড়া না পেয়ে একজন নার্সকে ডাকেন। তিনি ভেবেছিলেন তার মা অসুস্থ। পরে নার্স বাসায় এসে দেখতে পান- তিনি মারা গেছেন। এরপর বের হয়ে মানুষজনকে জানালে প্রতিবেশীরা জাতীয় জরুরি সেবায় ফোন করে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। ওসি হাসান বলেন, ‘বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা মরে পচে আছেন, অথচ তিনি গন্ধও পাননি। তার কথাবার্তায় অসংলগ্নতার কারণে আমরা লাশটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছি।’ ময়নাতদন্তে পর লাশটি তার বুয়েটের শিক্ষক ছেলে গ্রহণ করেছেন বলে জানান তিনি।
