জাতিসংঘের আস্থা পুনর্গঠন ও সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার খলিলুর রহমানের

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি ড. খলিলুর রহমান সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আস্থা পুনর্গঠন, ঐক্য তৈরি ও জাতিসংঘের অভ্যন্তরে সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। এ বিশ্ব সংস্থাটির আগামী অধিবেশনের জন্য একটি সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। গত মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাধারণ পরিষদের আগামী ৮১তম অধিবেশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। কারণ এই অধিবেশনে সাধারণ পরিষদকে জাতিসংঘ সংস্কার, পরবর্তী প্রজন্মের বৈশ্বিক উন্নয়ন এজেন্ডার প্রস্তুতি ও পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের মাধ্যমে জাতিসংঘের নেতৃত্বে পরিবর্তনের মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মুখোমুখি হতে হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্বাচনের পর নিজের প্রথম সংবাদ বিবৃতিতে ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘আজ জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো আমাকে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করেছে। আমি বিনম্রতা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।’

ড. খলিলুর রহমান আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন বৈষম্যসহ বিশ্ব যখন বহুমুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই সাধারণ পরিষদ তার কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এ সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি ছয়টি অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্র ঘোষণা করেছেন, যা তার সভাপতিত্বের মেয়াদকালে দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।

অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রগুলো হলো- শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার; টেকসই উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন ত্বরান্বিত করা; জলবায়ু সহনশীলতা ও পরিবেশগত স্থায়িত্ব; মানবাধিকার, মানবিক সহায়তা, শরণার্থী ও অভিবাসী; ডিজিটাল গভর্নেন্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন উদ্যোগ, ইউএন-৮০ (জাতিসংঘের ৮০ বছর পূর্তি) সংস্কার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক শাসন।

ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করা ও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেন নবনির্বাচিত সভাপতি। তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত হওয়ার পর আমি সাধারণ পরিষদকে বলেছি, আমি আস্থা পুনর্গঠন, ঐক্য গড়ে তোলা ও সদিচ্ছামূলক আলোচনার পথ উন্মুক্ত করতে নিজেকে নিয়োজিত করব। এর ফলে এমন ফলাফল আসবে, যা সবার জন্য কল্যাণকর হবে ও যাতে সবার অংশীদারিত্ব থাকবে।’

নিরপেক্ষতা ও অন্তর্ভুক্তির প্রতি তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ড. খলিলুর রহমান জানান, তিনি জাতিসংঘের সনদ সমুন্নত রাখবেন এবং এই পদের আচরণবিধি সম্পূর্ণভাবে মেনে চলে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমি সব সদস্য রাষ্ট্রের সভাপতি হব। আমার কাজের ক্ষেত্রে আমি সব সদস্য রাষ্ট্রকে সম্পৃক্ত করব।’ ড. খলিলুর রহমান জানান, সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি নিজের ব্যক্তিগত মতামতকে কখনও প্রশ্রয় দেবেন না।

মতানৈক্য সত্ত্বেও দেশগুলোর মধ্যে অভিন্ন মেলবন্ধন খুঁজে বের করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি মতপার্থক্যগুলোকে উপেক্ষা না করেই সবার সাধারণ অবস্থান খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করব।’ তিনি ঘোষণা করেন, তার কার্যালয় ভৌগোলিক, লিঙ্গ ও ভাষাগত ভারসাম্য বজায় রাখবে। এ ছাড়া, জাতিসংঘে ছোট প্রতিনিধি দলগুলোর চাহিদা পূরণে সভাপতির কার্যালয়ের ভেতরে একটি বিশেষ দল গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান ড. খলিলুর রহমান।

সভাপতির কার্যালয়ের কার্যক্রমের জন্য পর্যাপ্ত তহবিলের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ‘পিজিএ ট্রাস্ট ফান্ড’-এ অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘সভাপতির কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তার জন্য আমি সব সদস্য রাষ্ট্রকে পিজিএ ট্রাস্ট ফান্ডে অবদান রাখার আহ্বান জানিয়েছি।’ ড. খলিলুর রহমান আরও জানান, একটি শক্তিশালী ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের জন্য পর্যাপ্ত দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়ন নিশ্চিত করতেও তিনি কাজ করবেন। নবনির্বাচিত সভাপতি উল্লেখ করেন, তিনি সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বকে কোনো বিচ্ছিন্ন কাজ নয়, বরং একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেন। বর্তমান সভাপতির শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলোকে তিনি এগিয়ে নেওয়ারও অঙ্গীকার করেন। জাতিসংঘের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়াতে গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা স্বীকার করে ড. খলিলুর রহমান বলেন, এই সংস্থার অর্জন ও প্রভাবগুলো তুলে ধরার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সংবাদমাধ্যমগুলো একটি প্রধান অংশীদার হবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সংস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বাড়ানোর একটি প্রধান উপায় হলো জাতিসংঘের মানুষের কাছে আমাদের সাফল্যের গল্পগুলো পৌঁছে দেওয়া। এই কাজ করার জন্য জাতিসংঘ কাভার সাংবাদিক সমাজই সবচেয়ে সেরা মাধ্যম।’ তিনি তার পুরো মেয়াদে সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার জন্য একটি কার্যকর যোগাযোগ দল গঠনেরও প্রতিশ্রুতি দেন।

জাতিসংঘের ১৯০টি ভোটদানকারী সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিত একটি গোপন ব্যালট নির্বাচনে সাইপ্রাসের প্রার্থী পেয়েছেন ৯১ ভোট। বিপরীতে ৯৯ ভোট পেয়ে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন ড. খলিলুর রহমান।

আগামী সেপ্টেম্বর মাসে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এর মাধ্যমে তিনি একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্ব করার গৌরব অর্জন করতে যাচ্ছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিনন্দন : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বছরের সেপ্টেম্বরে এই অধিবেশন শুরু হবে। গত মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন এই অভিনন্দন জানান। এক বার্তায় মার্কিন দূত বলেন, ‘জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন।’ আগামী ৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর দুই সপ্তাহ পর বিশ্ব নেতারা বার্ষিক উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সভায় অংশ নিতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সমবেত হবেন। একটি গোপন ব্যালট নির্বাচনে সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস কাকোরিসকে পরাজিত করে ঐতিহাসিক জয় লাভ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

কাস্টিং হওয়া ১৯০টি ভোটের মধ্যে ড. খলিলুর পান ৯৯টি ভোট ও কাকোরিস পান ৯১টি ভোট। নির্বাচনে কোনো ভোট বাতিল হয়নি এবং কেউ ভোটদান থেকে বিরতও ছিলেন না। এই জয় বাংলাদেশের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য। এটি বহুপক্ষীয় সহযোগিতা ও দেশের নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থারই বহিঃপ্রকাশ। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে অধিবেশন শুরু হলে ড. খলিলুর ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। ড. খলিলুরের নেতৃত্ব ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রতি তার অঙ্গীকারের ওপর গভীর আস্থা প্রকাশ করেছেন তিনি। গত মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে ইসহাক দার বলেন, ‘জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় আমার প্রিয় ভাই, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন।’

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুবাদে আমি আত্মবিশ্বাসী যে তার ব্যাপক কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা ও বহুপাক্ষিক বিশ্ব ব্যবস্থার প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার সাধারণ পরিষদকে দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে সহায়তা করবে।’

জাতিসংঘে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আগ্রহও প্রকাশ করেন ইসহাক দার। তিনি আরও বলেন, ‘আমি জাতিসংঘে আমাদের সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখতে, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করতে, অভিন্ন বৈশ্বিক অগ্রাধিকারগুলোকে এগিয়ে নিতে এবং আলোচনা, শান্তি ও টেকসই উন্নয়ন প্রসারে একসঙ্গে কাজ করতে বেশ আগ্রহী।’

পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে ড. খলিলুরের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন। গত মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সাইপ্রাসের প্রার্থীকে পরাজিত করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। গোপন ব্যালটের মাধ্যমে কাস্টিং হওয়া ১৯০টি ভোটের মধ্যে বাংলাদেশ পায় ৯৯টি ভোট ও সাইপ্রাস পায় ৯১টি ভোট। এই জয়কে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও বহুপক্ষীয় বিষয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থার প্রতিফলন। এ বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হলে ড. খলিলুর রহমান সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে আফ্রিকান ইউনিয়নের অভিনন্দন : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছে আফ্রিকান ইউনিয়ন (এইউ)। এই অর্জনকে তারা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ধরনের মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় আফ্রিকান ইউনিয়ন জানায়, ড. খলিলুর রহমানের এই নির্বাচনে জয়লাভ করাটা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের বৈশ্বিক অবস্থান ও মর্যাদা আরও বাড়াবে। আফ্রিকান ইউনিয়ন বলেছে, ‘ড. রহমানের এই নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য একটি বড় মাইলফলক, যা অন্যান্য দেশের মাঝে তাদের বৈশ্বিক উপস্থিতি বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।’

ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলেও মন্তব্য করেছে সংস্থাটি। গত মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সাইপ্রাসের প্রার্থীকে পরাজিত করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

গোপন ব্যালটের মাধ্যমে কাস্টিং হওয়া ১৯০টি ভোটের মধ্যে বাংলাদেশ পায় ৯৯টি ভোট ও সাইপ্রাস পায় ৯১টি ভোট। এই জয়কে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি বহুপক্ষীয় কূটনীতিতে দেশের নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গভীর আস্থারই প্রতিফলন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হলে ড. খলিলুর রহমান সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু। এই অর্জনকে তিনি বাংলাদেশ ও সমগ্র অঞ্চলের জন্য এক গৌরবের মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। গত মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন পরবর্তী এক অভিনন্দন বার্তায় প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু বলেন, ‘এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আপনার সার্বিক সাফল্য কামনা করি।’ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট বলেন, তার দিকনির্দেশনায় সাধারণ পরিষদ সব সদস্য রাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করে যাবে। তিনি বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী যে আপনার দক্ষ নেতৃত্বে সাধারণ পরিষদ সব সদস্য রাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা পালন করে যাবে।’ এই নির্বাচন শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, বরং সমগ্র অঞ্চলের জন্য একটি বড় অর্জন বলেও মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু। তিনি আরও বলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জনগণ ও এই পুরো অঞ্চলের জন্য একটি গৌরবের মুহূর্ত।’ একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে সাইপ্রাসের প্রার্থীকে পরাজিত করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। গোপন ব্যালটের মাধ্যমে কাস্টিং হওয়া ১৯০টি ভোটের মধ্যে বাংলাদেশ পায় ৯৯টি ভোট ও সাইপ্রাস পায় ৯১টি ভোট। এই নির্বাচনকে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। বহুপাক্ষিক বিশ্বমঞ্চে দেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা ও অংশগ্রহণের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থার প্রতিফলন এটি। আগামী সেপ্টেম্বরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ড. খলিলুর রহমান বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিনিধিত্বশীল এই বহুপাক্ষিক সংস্থার সভাপতিত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।