সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

* যে প্রত্যাশা-আকাঙ্ক্ষা ছিল, সেটা পেয়েছি : রামিসার বাবা * রায়ের সময় দোয়া পড়ছিলেন সোহেল, নির্বাক কাঁদছিলেন স্বপ্না * রামিসা হত্যার রায় ‘তিন মাসের মধ্যে কার্যকর সম্ভব’, আশা আইনমন্ত্রীর * রায় দেশের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাইলফলক : অ্যাটর্নি জেনারেল * ‘টালবাহানা’ না করে দ্রুত রায় কার্যকর চান এলাকাবাসী

প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগী পরিবারকে দিতে বলা হয়েছে রায়ে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন গতকাল রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে জনাকীর্ণ আদালতে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। কাঠগড়ায় দাঁড়ানো আসামি সোহেল রানাকে সে সময় কাঁদতে দেখা যায়। আর নির্বাক স্বপ্নার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল।

রায়ের পর তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। রায় ঘিরে সকাল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয় আদালত এলাকায়। আসামিদের সর্বোচ্চ সাজার এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার, আসামিপক্ষসহ সবাই। রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, রায়ে শতভাগ খুশি। এই রায়ে আমার মনের যে প্রত্যাশা, যে আকাঙ্ক্ষা- সেটা আমি পেয়েছি। ‘ইনশাআল্লাহ, আমি শতভাগ আশাবাদী রায় দ্রুত কার্যকর হবে। আল্লাহপাকের রহমত ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সময়ের মধ্যে আমরা কাঙ্ক্ষিত রায় পেয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘বিচারক, পুলিশ প্রশাসন, সাংবাদিক ও বাংলাদেশের আপামর জনতা যারা আমার ও আমার পরিবারের বিপদের সময়ে মানসিকভাবে সহায়তা করেছেন, সবার কাছে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। অবশ্যই আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর দেখতে চাই।’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ‘রামিসার বাবা ন্যায়বিচার পেয়েছে, আমরা সন্তুষ্ট।’ আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহও রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আসামি সোহেল রানা দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজে দোষ স্বীকার করেন। রায়ে সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা হয়েছে। ‘ন্যায়বিচার পেয়েছি। অপরাধী অপরাধের বিচার পেয়েছে। আমি সন্তুষ্ট।’

সাজার বিরুদ্ধে আপিল করবেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র আমাকে আসামিপক্ষে নিয়োগ দিয়েছে। রাষ্ট্র যদি চায়, আপিল করব।’ এই রায়ের মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হল।

রামিসার লাশ উদ্ধারের ২০ দিনের মাথায় আলোচিত এ মামলার রায় এসেছে। দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষ্য-জেরাসহ সব বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এত কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। অবশ্য এর আগে তিন কার্যদিবসে মাদক মামলা নিষ্পত্তির নজির রয়েছে। আর গত বছর মাগুরায় আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হয় ১৪ কার্যদিবসে। ওই মামলায় আসামির সর্বোচ্চ সাজা প্রাণদণ্ডের রায় আসে।

সে প্রসঙ্গ ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘এত দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মামলার রায় ঘোষণা করা, সেটি আমার মনে হয় সময় বিবেচনায় সবচেয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যকার ঘটনা। ‘আমার মনে হয় যে, আপনাদের মনে থাকার কথা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় মাগুরার আছিয়া এবং শ্রাবণ হত্যা মামলার যে বিচার, তার থেকে কম সময়ের মধ্যে বিচারটি সম্পন্ন হয়েছে। এটা বিচারিক প্রক্রিয়াটা মাইলফলক।’ এরপর আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিল বিভাগের শুনানি শেষে তিন মাসের মধ্যে রায় কার্যকর করা সম্ভব বলে আশাবাদী আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।

রায়ের পর সচিবালয়ে তিনি বলেন, আমার প্রত্যাশা, আগামী ৩ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করা সম্ভব- যদি সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ এটাকে প্রায়োরিটি দিয়ে শুনানি করেন। আশা করি, সুপ্রিম কোর্ট করবে। ‘কারণ আজকের এই যে ফাস্ট ট্র্যাক করা হয়েছে, সেটা সরকার একা করেনি; প্রধান বিচারপতি যদি ১৫ জুন পর্যন্ত বিচারকদের যে ছুটি ছিল, সেই ছুটি বাতিল না করতেন- তবে ফাস্ট ট্র্যাক করা সরকারের পক্ষে সম্ভব হত না।’

আইনমন্ত্রী বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে যদি ফাইলটা আসে, আমরা যদি তার পরের সপ্তাহ থেকে এটাকে পেপার বুকে দিয়ে দিতে পারি। পেপার বুক যদি ১৫ দিনের মধ্যে আমরা শেষ করতে পারি, তারপরে যদি বিশেষ বিবেচনায় এটা শুনানি করা হয় এবং শুনানি যদি দুই সপ্তাহের মধ্যে করি তারপর আপিল বিভাগে যাবে।

‘এটা ৩ মাসের মধ্যে করা সম্ভব বলে আমি মনে করি। তবে প্রত্যেকটা মামলায় তো আমরা এরকম ফাস্ট ট্র্যাকে দিতে পারব না, এই কারণে আমরা একটা ওয়ে আউট বের করার চেষ্টা করছি যে— কতটা দ্রুত আমরা সেটা করতে পারি।’

বীভৎস এক হত্যাকাণ্ড : পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশন এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে থাকত রামিসা। সে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। আসামি সোহেল ও স্বপ্না ওই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকতেন।

গত ১৯ মে দুপুরে সোহেলদের বাসা থেকে রামিসার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ সেখান থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না বলেন, রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ করে মেরে ফেলেন সোহেল। লাশ গুম করার জন্য মাথা ছুরি দিয়ে কেটে আলাদা করেন এবং দুই হাত কাঁধ থেকে অর্ধ বিচ্ছিন্ন করে মৃতদেহ বাথরুম থেকে এনে শোবার ঘরের খাটের নিচে রেখে দেন। কাটা মাথা বাথরুমের বালতির মধ্যে রেখে জানালার গ্রিল কেটে সোহেল পালিয়ে যান।

রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ঘটনার দিনই দুইজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেন। পরদিন সোহেল দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আর স্বপ্নাকেও পাঠানো হয় কারাগারে। ধর্ষণ ও হত্যার নৃশংস ঘটনাটি সারাদেশে ক্ষোভের জন্ম দেয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাসায় গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। আশ্বাস দেন, বিচার দ্রুত শেষ করার।

ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ২৪ মে দুপুরে সোহেল ও স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান। সেদিনই বিচারের জন্য প্রস্তুত করে মামলার নথিপত্র ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

মামলার বিচারকাজ চালিয়ে নিতে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের অবকাশকালীন ছুটি বাতিল করা হয়। আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে ১ জুন বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরদিন সকালে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। একদিনেই ১৬ জনের সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হয়।

৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি হয়। বিচারক সেদিন আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং ১৬ জনের সাক্ষ্য পড়ে শোনান। বিচারক তাদের কাছে জানতে চান, তারা দোষী না নির্দোষ উত্তরে স্বপ্না নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তবে সোহেল রানা ক্ষমা চান। বলেন, ‘স্যার, আমি নির্দোষ। খালাস চাই।’ পরদিন ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে দুই পক্ষ। রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। অন্যদিকে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।

যে প্রত্যাশা-আকাঙ্ক্ষা ছিল, সেটা পেয়েছি -রামিসার বাবা : ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। দুই আসামিরই মৃত্যুদণ্ডের আদেশ আসার পর তিনি বলেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, রায়ে শতভাগ খুশি। এই রায়ে আমার মনের যে প্রত্যাশা, যে আকাঙ্ক্ষা-সেটা আমি পেয়েছি।’

‘ইনশাআল্লাহ, আমি শতভাগ আশাবাদী রায় দ্রুত কার্যকর হবে। আল্লাহ পাকের রহমত ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সময়ের মধ্যে আমরা কাঙ্ক্ষিত রায় পেয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘বিচারক, পুলিশ প্রশাসন, সাংবাদিক ও বাংলাদেশের আপামর জনতা যারা আমার ও আমার পরিবারের বিপদের সময়ে মানসিকভাবে সহায়তা করেছেন, সবার কাছে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। অবশ্যই আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর দেখতে চাই।’

রায়ের সময় দোয়া পড়ছিলেন সোহেল, নির্বাক কাঁদছিলেন স্বপ্না : ঢাকার পল্লবীতে আট বছরের রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের রায় শুনে শুকরিয়া আদায় করেন আইনজীবীসহ উপস্থিত অন্যরা। তখন কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে দোয়া পাঠ করছিলেন সোহেল রানা। আর স্বপ্না ছিলেন নির্বাক, কিন্তু অশ্রুসিক্ত। গতকাল রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের রায় পড়ার সময় গতকাল রোববার এসব দৃশ্য দেখা যায়।

রামিসা হত্যার রায় ‘তিন মাসের মধ্যে কার্যকর সম্ভব’, আশা আইনমন্ত্রীর : ঢাকার পল্লবীর শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ-হত্যা মামলায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় আগামী তিন মাসের মধ্যে ‘কার্যকর করা সম্ভব’ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। হত্যাকাণ্ড মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তার কথায়, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ যদি অগ্রাধিকার দিয়ে শুনানি করেন, তবে ‘আগামী ৩ মাসের মধ্যে এই মামলার চূড়ান্ত রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব’। গতকাল রোববার আইন মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমাদের আইনি বাধ্যবাধকতা আছে যে সাত দিনের মধ্যে এই ফাইল চলে যাবে ডেথ রেফারেন্স কনফার্মেশনের জন্য হাইকোর্ট ডিভিশনে। যাওয়ার পরে সমস্ত মামলায় পেপার বুক রেডি করতে হয়, পেপার বুক বাইরে করার সুযোগ নাই। পেপার বুক সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানেই হয়। এরপরে সুপ্রিম কোর্ট সিরিয়ালে এই মৃত্যুদণ্ডগুলোর বিষয় নিষ্পত্তি করেন।’

রামিসা হত্যার রায় দেশের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাইলফলক -অ্যাটর্নি জেনারেল : ঘটনার ২০ দিনের মাথায় রামিসা আক্তার হত্যা মামলার রায় ঘোষণাকে ‘বিচারিক প্রক্রিয়ার মাইলফলক’ বলছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস কাজল। গতকাল রোববার আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণার পর এক ব্রিফিংয়ে এসে তিনি বলেন, ‘আমি তো মনে করি এটা আমাদের বাংলাদেশের জন্য একটা নতুন যাত্রা।‘ আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রতিবেশী সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

‘টালবাহানা’ না করে দ্রুত রায় কার্যকর চান এলাকাবাসী : পল্লবীর শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ-হত্যা মামলার আসামিদের ফাঁসির রায় ‘অনিবার্য’ ছিল মন্তব্য করে তা দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। রামিসা হত্যা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে গতকাল রোববার সকাল থেকেই রাজধানীর পল্লবীতে রামিসাদের ভাড়া বাসার সামনে ভিড় করে গণমাধ্যমকর্মীরা। রায় ঘোষণার পরপর সেখানে জড়ো হন স্থানীয়দের অনেকেই। অনেককে মোবাইল ফোনে লাইভ ভিডিওতে রায়ের বিষয়ে শুনতে দেখা যায়।

রামিসার বাসা থেকে কয়েকটি ভবন পরই তার স্কুল পপুলার মডেল হাই স্কুল। ঈদের ছুটির পর রোববার খুলেছে স্কুলটি। রামিসার ক্লাসে সহপাঠীরাও স্কুলে এসেছে। কেবল নেই রামিসা। আট বছর বয়সী এই মেয়েটির ধর্ষণ-হত্যার বিচার দাবিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ তার বাসার সামনে যে ব্যানার ঝুলিয়ে দিয়েছে তাতে রামিসার ছবির নিচে লেখা রামিসা আক্তার, শ্রেণী দ্বিতীয়, রোল-১।

রামিসার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগী পরিবারকে দিতে বলা হয়েছে।