১৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি জুলাই মাসে
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে দেশের মূল্যস্ফীতি বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় স্বস্তিতে ছিল না মানুষ। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়েছে সীমিত আয়ের মানুষকে। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি ভুগিয়েছে সবচেয়ে বেশি। সরকারের পক্ষ থেকে নানা রকম পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হলেও কোনোভাবেই উচ্চ মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে পারেনি। সদ্য বিদায়ী সরকারের শেষ মাসেও সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে, যা গত ১৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। খাদ্য মূল্যস্ফীতিও হয়েছে সর্বোচ্চ। ঊর্ধ্বগতির এই মূল্যস্ফীতির চাপ শহরের চেয়ে গ্রামে পড়েছে বেশি।
গত সোমবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসের সিপিআই মূল্যসূচকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে মূল্যস্ফীতির এমন তথ্য উঠে এসেছে। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে দেশের মূল্যস্ফীতি বাড়লেও কমেছে মজুরি। অর্থাৎ ব্যয় বাড়লেও কমেছে আয়।
উচ্চ মূল্যস্ফীতি দুই বছর ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় সংকটগুলোর একটি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শুরুর মাসেও সেই সংকট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিবিএসের জুলাই মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রথম মাসে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ, যা আগের মাস জুনে ছিল ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে জুলাইয়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়েছে প্রায় ২ শতাংশ।
জুলাইয়ে গড় মূল্যস্ফীতি ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ হওয়ার অর্থ হলো গত বছরের জুলাই মাসে যে পণ্য বা সেবা ১০০ টাকায় পাওয়া যেত, সেই পণ্য বা সেবা পেতে চলতি বছরের একই সময়ে ১১১ টাকা ৬৬ পয়সা খরচ করতে হয়েছে। অর্থাৎ গত বছরের জুলাই মাস থেকে চলতি বছরের জুলাই মাসের তুলনায় কেনাকাটায় মানুষের বেশি খরচ করতে হয়েছে। খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি গড় মূল্যস্ফীতিকে বাড়িয়ে দিয়েছে। জুলাই মাসে দেশে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ওই মাসে চাল, ডাল, তেল, লবণ, মাছ, মাংস, সবজি, মসলা ও তামাকজাতীয় পণ্যের দাম বাড়ায় খাদ্যে মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ, জুন মাসে যা ছিল ১০ দশমিক ৪২ শতাংশ। অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে খাদ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এর আগে ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ২০০৫-০৬-কে ভিত্তিবছর ধরে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ১২ দশমিক ৩ শতাংশ। আর খাদ্য মূল্যস্ফীতি ঠেকেছিল ১৬ দশমিক ৭২ শতাংশে। অর্থাৎ ১৬ বছরের মধ্যে দেশে কখনও এত বেশি মূল্যস্ফীতি হয়নি। বাড়িভাড়া, আসবাবপত্র, গৃহস্থালি, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন ও শিক্ষা উপকরণের দামও বেড়েছে। জুলাই মাসে এ খাতে মূল্যস্ফীতিরে হার হয়েছে ছিল ৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ, জুন মাসে ছিল ৯ দশমিক ১৫ শতাংশ হয়েছে। এ খাতেও গত ১৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে জুলাই মাসে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে জুলাই মাসজুড়ে আন্দোলন করেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এতে করে দেশে এক ধরনের অচল অবস্থা দেখা যায়। ফলে ঢাকা কার্যত দেশের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন ছিল, বন্ধ ছিল পণ্যের সরবরাহও। আন্দোলনের ফলে বেড়েছে মূল্যস্ফীতির হার। তবে এক্ষেত্রে জুলাই মাসে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে এভাবে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি আর দেখা যায়নি বলেও মনে করেন তারা।
