৬ জনকে হত্যা হানিফসহ চার আসামির রায় যেকোনো দিন

প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই আন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার জন্য (সিএভি) অপেক্ষমাণ রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গতকাল বুধবার রাষ্ট্র ও আসামি উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। এর আগে ৭ জুন এই মামলার চার আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন। ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করেছেন আদালতে। এরপর ৮ ও ৯ এবং গতকাল ১০ জুন আসামিপক্ষের যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আজগর আলীর দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রসিকিউশন যুক্তি উপস্থাপন করে।

এতে তিনি উল্লেখ করেন, তাদের নেতা হানিফের নির্দেশ রয়েছে যে কোনোভাবে আন্দোলন দমন করতে হবে। এই বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে প্রসিকিউশন যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে। এর আগে গত ১১ মে প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। সেদিন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। প্রথম দিনের যুক্তিতর্কে আসামিদের বক্তব্য, নির্দেশনা ও সাংগঠনিক ভূমিকার ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়ায় হত্যাকাণ্ড হয় বলে দাবি করে প্রসিকিউশন। একই সঙ্গে এসব ঘটনা পরিকল্পিত ও সমন্বিত হামলার অংশ বলেও ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরা হয়। এর আগে মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা এ মামলায় হানিফসহ আসামি চারজন। তারা সবাই পলাতক। এ মামলার অন্য তিন আসামি হলেন- কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।

হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে ‘আন্দোলন দমনের জন্য ছাত্রলীগ যথেষ্ট’- ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্য দেওয়া বৈঠকে উপস্থিত থেকে একমত পোষণ করা, ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় একটি বৈঠক করে ছাত্র-জনতাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এবং ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

জুলাই আন্দোলন ঘিরে কুষ্টিয়ায় ছয়জন হত্যার শিকার হন। এ সময় আহত হন বেশ কয়েকজন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মাহবুবউল আলম হানিফসহ আসামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়।

গত বছরের ৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। ওই বছরের ২ নভেম্বর হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে বিচারকাজ শুরু হয়।