যেসব পণ্য ও সেবার দাম বাড়তে পারে
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

নতুন অর্থবছরের বাজেটে বাইসাইকেল, তেলচালিত গাড়ি, সিগারেট, ট্রান্সফরমার, ওয়াশিং মেশিন ও বিদেশি খাদ্যসহ বেশকিছু পণ্য ও সেবায় শুল্কহার বাড়ানোর প্রস্তাব করায় সেসবের দাম বাড়তে পারে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাজেট অনুযায়ী যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে, তার মধ্যে রয়েছে- বাইসাইকেল-স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বাইসাইকেলের যন্ত্রাংশ ‘ফ্রি হুইল’ আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং একইসঙ্গে নতুন করে ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে দাম বাড়বে বাইসাইকেলের। সিগারেট- বাজেটে নিকোটিন গ্র্যানুলস ও নিকোটিন পাউচের ওপর ৩০০ শতাংশের পরিবর্তে ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে দাম বাড়বে সিগারেটের। অর্থমন্ত্রী সিগারেটের ন্যূনতম খুচরা মূল্য নিম্নস্তরের ক্ষেত্রে প্রতি ১০ শলাকা ৬২ টাকা, মধ্যম স্তর ৯২ টাকা, উচ্চ স্তর ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চ স্তর ২১০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন।
তেলচালিত গাড়ি: ডিজেল, অকটেন বা পেট্রোলচালিত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা কমিয়ে আনতে মধ্যম সারির ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসির (ইঞ্জিনক্ষমতা) ইন্টারনাল কম্বাশন (আইসি) ইঞ্জিনবিশিষ্ট আমদানি করা গাড়ির ওপর করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১৫৬ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব গাড়ির দাম বাড়বে।
ট্রান্সফরমার: ১ কেভিএ পর্যন্ত ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রান্সফরমার আমদানিতে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে করে ২৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং একইসঙ্গে নতুন করে ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে ট্রান্সফরমারেরও দাম বাড়বে।
ওয়াশিং মেশিন: স্থানীয় ওয়াশিং মেশিন উৎপাদনকারী শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে সকল প্রকার হাউজহোল্ড টাইপ ওয়াশিং মেশিন আমদানিতে নতুন করে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
রড : রড তৈরির বিভিন্ন উপকরণের ওপর ভ্যাট বাড়ানোর ফলে এর দাম বাড়তে পারে।
বিদেশি খাদ্য: সুগার কনফেকশনারি, কফি, তৈরি খাবার ইত্যাদি আমদানিতে বিভিন্ন হারে শুল্কায়ন মূল্য বাড়ানো হয়েছে। এতে এসব খাদ্য আমদানিতে শুল্ককরের চাপ বাড়বে।
বিদেশি কাজুবাদাম: দেশিয় চাষ ও উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে অপ্রক্রিয়াজাত ও প্রক্রিয়াজাত কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক যথাক্রমে ১ শতাংশ ও ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। তবে দেশে উৎপাদকদের জন্য অপ্রক্রিয়াজাত কাজুবাদাম আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে বিদেশি কাজুবাদামের দাম বাড়তে পারে।
বিদেশি পাঙাশের ফিলেট: দেশিয় মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পকে সুরক্ষা দিতে আমদানি করা পাঙাশ মাছের ফিলেটের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ হয়েছে। ফলে এর দাম পাড়তে পারে।
বিদেশি মধু: বিদেশ থেকে প্রাকৃতিক মধু আমদানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য ইউনিট প্রতি ২ ডলার বাড়িয়ে ৭ ডলার করা হয়েছে। এতে এই মধু আমদানিতে শুল্ককর বেশি দিতে হবে, যা দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিদেশি সুপারি: বিদেশ থেকে সুপারি আমদানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য ইউনিট প্রতি দশমিক ২৫ ডলার বাড়ানো হয়েছে। এতে বিদেশি সুপারি আমদানিতে শুল্ককর বেশি দিতে হবে।
বিদেশি লিপ লাইনার ও জেল: লিপ লাইনার, লিপ জেল ও সমজাতীয় পণ্য আমদানির শুল্কায়ন মূল্য বাড়ানো হয়েছে।
বিদেশি গ্যাস সিলিন্ডার: কম্পোজিট এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডার আমদানিতে আমদানি পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) আরোপ করা হয়েছে। এতে করে বিদেশি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়তে পারে।
অন্যান্য, শুল্ককর ও শুল্কায়ন মূল্য বাড়ানোর কারণে বিদেশি টাইলস, স্যানিটারিওয়্যার ও বেসিন, মোটর, জিপসাম বোর্ড, বিদেশি ফোম, বিদেশি মাইক্রোওয়েভ ওভেন, খেলনা ইত্যাদির দাম বাড়তে পারে।
