যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি অনিশ্চিত

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আলোকিত ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচিত শান্তিচুক্তি গতকাল রোববার স্বাক্ষরিত হবে। তবে সবশেষ সংবাদ অনুযায়ী গতকাল রোববার রাত ১০টা পর্যন্ত কোনো শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর হয়নি। এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত নয় এবং ওই দিন স্বাক্ষরের কোনো সম্ভাবনাও নেই। ট্রাম্পের মতে, চুক্তি সম্পন্ন হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী আবার উন্মুক্ত হবে। অন্যদিকে তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে, দুই পক্ষ একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে স্বাক্ষরের সময়সূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা গত শুক্রবার জানান, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলে তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নির্ধারণে নতুন করে ৬০ দিনের আলোচনা শুরু হবে।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের ঘোষণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলেছে, ইরানের আলোচকরা স্পষ্ট করেছেন যে সমঝোতা স্মারক এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং রোববার স্বাক্ষরের প্রশ্নই ওঠে না। তাদের ভাষ্য, এই ঘোষণা ইরানের আলোচক দলের জন্য এক ধরনের ‘পরীক্ষা’।

টেলিগ্রামে প্রকাশিত বার্তায় আইআরজিসি দাবি করে, ১৪ জুন ট্রাম্পের জন্মদিন হওয়ায় তিনি প্রতীকীভাবে ওই দিনটিকে ব্যবহার করতে চাইছেন। কিছু পর্যবেক্ষকের ধারণা, ব্যক্তিগত প্রচারণার উদ্দেশ্যে ট্রাম্প এ তারিখকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার হয়েছে। তবে সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত ও সময় নির্ধারণ নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানে এখনও অমিল রয়ে গেছে।

চুক্তির খসড়ায় কী আছে, জানাল ইরান : হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের জেরে পাল্টপাল্টি হামলার পর চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, রোববার ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। ট্রাম্পের এমন ঘোষণার পর তেহরান সফর করেছে কাতারের প্রতিনিধি দল। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরান চুক্তি নিয়ে নানা কৌতূহল তৈরি হয়েছে। গতকাল রোববার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের সাক্ষাৎকারে ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের চূড়ান্ত খসড়ায় তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে শুরু করে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উভয় পক্ষ চুক্তিতে সম্মত হওয়ার পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হবে।

তিনি বলেন, খসড়ায় ইরান অবিলম্বে সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌবন্দরগুলোর উপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করবে। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পরপরই এই অবরোধ প্রত্যাহারের কাজ শুরু হবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে তা সম্পন্ন হবে। ইরানের এ কর্মকর্তা বলেন, চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া চুক্তির পর নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী ইরানের ওপর থেকে মার্কিন ও জাতিসংঘ সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে। তিনি বলেন, ইরানের তেলের ওপর থেকে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। এ সময়ে তেহরান তেল বিক্রির আয় গ্রহণ করতে পারবে। খসড়ায় ইরানের জব্দ করা ২৫ বিলিয়ন ডলার সম্পদ অবমুক্ত করতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া চুক্তি হলে ওয়াশিংটন আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের জন্য পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। এটি তেহরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় করে চূড়ান্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বর্তমান অবস্থা বজায় রাখবে।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম এবং উচ্চণ্ডসমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হবে। এসব বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে।

ইরান প্রতিরোধের মাধ্যমে শত্রুর যুদ্ধাভিযানকে পরাজয়ে রূপান্তর করেছে- মুখপাত্র : ইসরায়েলি শাসক গোষ্ঠী ও তাদের মার্কিন সমর্থকরা গত বছরের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে যে ১২ দিনের যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল, ইরানি জাতির অবিচলতা, ত্যাগ ও দৃঢ়তা তাদের উদ্দেশ্যকে পরাজিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ১৩ জুন ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার এক বছর পূর্তিতে এক্স এ পোস্ট করা এক বার্তায় মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেছেন, আগ্রাসনকারীরা বিজয় নিশ্চিত করতে পারবে, এমন ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে আক্রমণ শুরু করেছিল। তারা এমন একটি জাতির বিরুদ্ধে অতর্কিত আক্রমণের পথ খুলেছিল যাদের প্রতিরোধ ও শত্রু পরাজিত করার নজির ইতিহাসে সুপ্রতিষ্ঠিত। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইরানের রক্ষকদের কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার মাধ্যমে আক্রমণ শুরু করেছিল। কিন্তু আগ্রাসীরা শেষ পর্যন্ত তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়। ইরানি জাতির দৃঢ় সংকল্প, প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগ শত্রুর উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে পরাজয় ও লজ্জায় রূপান্তরিত করে।

বাকায়ি বলেন, এমনকী আগ্রাসনকারীদের পেছনে যারা ছিল তারাও এখন স্বীকার করেছে যে তারা তাদের উদ্দেশ্য অর্জন ছাড়াই প্রাপ্য সব উপায়গুলো নিঃশেষ করে ফেলেছে। এই সংঘাতের ফলাফল ইরানের প্রভাব, অধ্যবসায় ও মর্যাদা অন্বেষণের এক স্থায়ী উদাহরণ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

পরিষেশে বাকায়ি ইরানি জাতির প্রতিরোধ ও সহনশীলতাকে স্মরণ করতে বিখ্যাত ইরানি কবি সায়েব তাবরিজির কবিতার পঙক্তি উদ্ধৃত করেন।

তেহরানে কাতারের প্রতিনিধি দল : ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসানের মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, গতকাল রোববার কাতারের একটি প্রতিনিধি দল তেহরানে পৌঁছেছে। ইরানি গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে যে, কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টাকে ইরানে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের আরেক সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, এই সফরের উদ্দেশ্য হলো, কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সাম্প্রতিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করা। এই সফর এমন সময় হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক আলোচনা চলমান রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাইরে শান্তিচুক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ : ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি কার্যালয়ের সামনে শনিবার সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে টেলিভিশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির দেওয়া সাক্ষাৎকারের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা তার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।

ফার্স নিউজ এজেন্সি প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ভবনের সামনে কালো চাদর পরা নারীরা লাল ও কালো পতাকা নেড়ে স্লোগান দিচ্ছেন। তারা আব্বাস আরাকচির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অপমানজনক মৃত্যু হোক, সে একজন অনুপ্রবেশকারী’- এই ধরনের স্লোগান দেন।’ এই বিক্ষোভ এমন এক সময় হয়েছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি শান্তি চুক্তির কথা বলছে। তবে ইরানের ভেতরে কট্টরপন্থি কিছু মহল এই চুক্তির বিরোধিতা করছে। তাদের দাবি, এই চুক্তি ইরানের স্বার্থ রক্ষা করবে না এবং হরমুজ প্রণালীতে তাদের কৌশলগত প্রভাব কমিয়ে দেবে। পাশাপাশি তাদেট অভিযোগ, চুক্তি করতে গিয়ে ইরানি আলোচকরা অতিরিক্ত ছাড় দিয়েছেন। এর আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে শুক্রবার দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাকচি বলেন, আলোচনার টেবিলে থাকা চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে। এই অবরোধটি মূলত হরমুজ প্রণালীতে ইরানের আরোপিত অবরোধের জবাবে আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীর প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা আগের মতো থাকবে না।’ তিনি এই জলপথকে ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধের হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেন।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে (যেগুলোর সত্যতা এএফপি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি) দেখা যায়, তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে লোকজন ‘আরাকচি, পদত্যাগ করো’ এবং ‘গালিবাফ, পদত্যাগ করো’ স্লোগান দিচ্ছেন। বাঘের গালিবাফ ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং প্রধান আলোচক হিসেবে পরিচিত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান শনিবার জানায়, যুদ্ধ শেষ করার জন্য প্রস্তাবিত চুক্তিটি রোববারই স্বাক্ষর হতে পারে। তবে তেহরান এ বিষয়ে সময়সূচি নিয়ে তুলনামূলকভাবে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এবং নিশ্চিতভাবে কোনো তারিখ ঘোষণা করেনি।

ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্ভাব্য চুক্তিকে ‘আত্মসমর্পণ দলিল’ আখ্যা ডেমোক্র্যাটদের : ইরানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পিত সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে তীব্র সংশয় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির শীর্ষ আইনপ্রণেতারা। এই চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় পরাজয় হিসেবে উল্লেখ করে একে কার্যত একটি ‘আত্মসমর্পণ দলিল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তারা।

ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর অ্যাডাম শিফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ট্রাম্পের এই উদ্যোগের সমালোচনা করে লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট বলছেন যুদ্ধ শেষ। তিনি আশা করেন যে ট্রাম্পের কথাই যেন সত্যি হয়। তবে এর আগেও এমন বহু কথা শোনা গেছে এবং এর সঙ্গে অসংখ্য ভাঙা প্রতিশ্রুতির রেকর্ডও রয়েছে। শিফ আরও অভিযোগ করেন, ট্রাম্প নতুন যুদ্ধ শুরু করলেও তার খরচ কমাতে পারেননি, যা যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য সেথ মল্টন এই সম্ভাব্য চুক্তিকে মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম একটি বাজে চুক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন। সংবাদমাধ্যম ‘এমএস নাও’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত ভয়াবহ একটি চুক্তি। এটি মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছে জমা দেওয়া একটি আত্মসমর্পণ দলিল ছাড়া আর কিছুই নয়।

মল্টন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই যুদ্ধে এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের ১০০ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে এবং ১৪ জন মার্কিন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। অথচ বিনিময়ে এমন একটি চুক্তি করা হচ্ছে যা শুধু একটি সমুদ্র প্রণালিকে পুনরায় উন্মুক্ত করবে, যা কিনা ট্রাম্প এই ‘বোকামি’র যুদ্ধ শুরু করার আগেই উন্মুক্ত ছিল। এত ক্ষয়ক্ষতি ও অর্থ ব্যয়ের পর একে কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের জয় হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না বলে তিনি দাবি করেন।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি উদ্যোগে ইসরায়েল থাকবে না, জানালেন নেতানিয়াহু : মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে চললেও সেই প্রক্রিয়ার অংশ হবে না ইসরায়েল। সম্ভাব্য সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার আগে এমন অবস্থান স্পষ্ট করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এদিকে চুক্তির পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান সীমিত করার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে মতবিরোধও দেখা দিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, সম্ভাব্য এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে লেবাননকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে। পাশাপাশি দখলকৃত কিছু এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনার কথাও ইঙ্গিত করেছেন তিনি।

তবে ইসরায়েলের অবস্থান ভিন্ন। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনি ও লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। একইসঙ্গে এক জ্যেষ্ঠ ইসরাইলি কর্মকর্তা বলেছেন, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার স্বাধীনতা বজায় রাখতে চায় ইসরাইল। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকে রোববার সই হচ্ছে না। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছিলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাঈ বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে রোববার এটি হচ্ছে না। তবে তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জানান, সম্ভাব্য ই-স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে এবং এর পরবর্তী ধাপে আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।

শাহবাজ শরিফ বলেন, শান্তি চুক্তির কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছানো গেছে এবং আলোচনায় ইতিবাচক ভূমিকার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক অংশীদারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।