হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দেওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ৮০৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল রোববার ট্রাইব্যুনাল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে গত ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম এবং সাবেক উপ-পরিদর্শক (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায়। তারা পলাতক রয়েছেন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন। বিচারিক প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

সাবেক ভিসিসহ কয়েকজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড : মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদ ওরফে বাচ্চুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সাজা পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল, রংপুর মহানগর পুলিশের (আরপিএমপি) সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টু এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া।

পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা : বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, সাবেক অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. মাহাবুবার রহমান, আরপিএমপির সাবেক উপ-কমিশনার মো. আবু মারুফ হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. শাহ নূর আলম পাটোয়ারী, চিকিৎসক মো. সরোয়ার হোসেন (চন্দন) এবং ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদুল হাসানও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড পেয়েছেন।

তিন বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা : মামলায় সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার মো. হাফিজুর রহমান, সাবেক সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশ, সাবেক এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, সাবেক নিরাপত্তাপ্রহরী নুর আলম মিয়া এবং সাবেক এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেনকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাফুজুর রহমান, সহ-সভাপতি মো. ফজলে রাব্বি, সহ-সভাপতি মো. আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার এবং দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেনও তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড পেয়েছেন।

হাজতবাসের মেয়াদই সাজা হিসেবে গণ্য : রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজকে দোষী সাব্যস্ত করলেও তার হাজতবাসের সময়কে সাজার মেয়াদ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। অন্য কোনো মামলায় প্রয়োজন না থাকলে তাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

রায়ের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আদালত দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন।