যৌক্তিক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে জামায়াত
বললেন ডা. শফিকুর রহমান
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তার দল সংসদে ‘যৌক্তিক ও গঠনমূলক বিরোধী দলের’ ভূমিকা পালন করবে। সরকারকে অন্ধ সমর্থন বা অযৌক্তিক বিরোধিতা নয়, বরং জনকল্যাণ, জবাবদিহিতা ও জাতীয় সংস্কারের প্রশ্নে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে তারা। গতকাল জাতীয় সংসদের এলডি হলে সংসদ বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দল সংসদের ভেতরে ও বাইরে জনগণের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরবে। তবে, তা হবে সংসদীয় শালীনতা ও গঠনমূলক রাজনৈতিক আচরণের মধ্য দিয়ে। তিনি বলেন, ‘আমরা না হবো সরকারপন্থী অনুগত বিরোধী দল, না হবো অযৌক্তিকভাবে বাধাদানকারী বিরোধী দল। আমরা হবো যৌক্তিক ও বিবেকনির্ভর বিরোধী দল।’ তিনি আরও বলেন, সংসদে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে কেন্দ্র করে। এরইমধ্যে তারা সংসদে ভোটারদের সমর্থিত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন, ব্যাংকিং খাতের সংকট, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা এবং সীমান্ত সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় উত্থাপন করেছেন। চলমান বাজেট অধিবেশনে আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা উন্নত করার লক্ষ্যে তাদের দল কিছু নির্দিষ্ট সুপারিশ উপস্থাপন করবে বলেও জানান তিনি।
অর্থবছরের শেষ দিকে তড়িঘড়ি করে উন্নয়ন ব্যয় সম্পন্ন করার প্রবণতার সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের বর্তমান জুলাই-জুন অর্থবছর পরিবর্তন করে জানুয়ারি-ডিসেম্বর ক্যালেন্ডারভিত্তিক অর্থবছর চালুর প্রস্তাব দেন। তার মতে, ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে অর্থবছর সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে শুষ্ক মৌসুমে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ হবে, পরিকল্পনা ও তদারকি আরও কার্যকর হবে এবং অর্থবছরের শেষ দিকে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমে আসবে। তিনি বলেন, ‘সরকারি ব্যয়ের একটি বড় অংশ অর্থবছরের শেষ কয়েক সপ্তাহে সম্পন্ন হয়। এতে কাজের মান, জবাবদিহিতা ও অর্থের যথাযথ ব্যবহার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
বিরোধীদলীয় নেতা সম্পূরক বাজেট অনুমোদনের সময় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং সরকারি ব্যয়ে অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, সংসদের উচিত জনগণের প্রত্যাশা ও ম্যান্ডেটের প্রতিফলন ঘটিয়ে অর্থবহ সাংবিধানিক সংস্কারে মনোনিবেশ করা, শুধু নিয়মিত সংশোধনীতে সীমাবদ্ধ না থাকা।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদকে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা ও জনমতের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে থাকতে হবে। সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব জনগণের প্রতিনিধিত্ব করা, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা দলীয় নাটকীয়তায় জড়ানো নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছি জনগণের কথা বলার জন্য। দেশ ও দেশের মানুষই আমাদের অগ্রাধিকার।’ তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণের ন্যায্য দাবি উপেক্ষিত হলে সংসদের বাইরেও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে এসব দাবি আদায়ে তাদের দল কাজ করে যাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংসদ সদস্য, সাংবাদিক ও নাগরিকদের মধ্যে গঠনমূলক সম্পৃক্ততা সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দেশের সুশাসন উন্নয়নে সহায়ক হবে।
মতবিনিময় সভায় বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, শাহজাহান চৌধুরী এমপি, ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান এমপি, রফিকুল ইসলাম খান এমপি, গাজী নজরুল ইসলাম এমপি, ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী এমপি এবং ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান এমপিসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংসদে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর রীতি নিয়ে আপত্তি জামায়াত এমপির : জাতীয় সংসদ কক্ষে প্রবেশের সময় মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর প্রচলিত রীতি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার সংসদের বৈঠকের শুরুতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের রীতি ইসলামের সঙ্গে ‘সাংঘর্ষিক’ এবং তা ‘শিরকের কাছে চলে যায়’। কার্যপ্রণালি বিধিতে এ ধরনের আচরণ বাদ দেওয়ার যে সংশোধনী আনা হয়েছিল, তা সবাইকে অনুসরণের আহ্বান জানান বিরোধী দলের এই এমপি। এদিন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি কার্যপ্রণালি বিধি দেখে পরে সংসদকে অবহিত করবেন বলেছেন।
সংসদ সদস্যরা সাধারণত অধিবেশন কক্ষে প্রবেশের সময় স্পিকারের চেয়ার বা সভাপতিমণ্ডলীর প্রতি সম্মান জানিয়ে মাথা ঝোঁকান। অনেক সদস্য সালামও বিনিময় করেন।
এ বিষয়ে মুজিবুর রহমান বলেন, ‘তৃতীয় জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধিতে সংসদে ঢোকার পরে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন করে ঢোকার কথা। এরপরে এটা নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত একটা সংশোধনী এর ভেতরে আছে। সেটা হচ্ছে, মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন করার ব্যাপারটা, এটা ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, শিরকের কাছে চলে যায়। সেজন্য এটাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’
